স্পটঃ জব্বারের বলী খেলা
“মেলায় দোকান বসালে চাঁদা দিতেই হবে, সারা জীবন লেখলেও কাজ হবে না”

2
.

চট্টগ্রামের লালদীঘির ময়দান এবং আশে পাশের বিশাল এলাকাজুড়ে ঐতিহ্যবাহী জব্বরের বলী খেলা উপলক্ষে চলছে ৩দিনের লোকজ উৎসব ও মেলা। আজ বুধবার মেলার আনুষ্ঠানিক শেষ দিন হলেও মেলা চলবে অঘোষিত আরো কয়েকদিন।

প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত জব্বারের বলী খেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ মেলাটি ৩ দিন ব্যাপী চলমান থাকে। আয়োজিত এ মেলাটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে সর্বকালের সর্ব বৃহৎ মেলা।

.

চট্টগ্রামের সর্ব বৃহৎ মেলা বলার মূল কারণ হলো প্রায় ২ হাজারেরও অধিক দোকানের সমাগম হয় এই মেলায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের ক্ষুদ্র দোকান গুলো নিয়ে আসে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এ মেলায়। আর দূর দুরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের মেলায় দোকান বসানো নিয়ে পোহাতে হয় নানান দূর্ভোগ, পড়তে হয় চাঁদাবাজদের কবলে।

মেলায় দোকান বসানো নিয়ে কোন সমস্যায় পড়তে হয়েছি কিনা জানতে চাইলে নোয়াখালী থেকে আসা ছোট বাচ্চাদের খেলনা বিক্রিতে মো: সুজন পাঠক ডট নিউজের প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করেন, “কেন মামা, আপনি কি সাংবাদিক? পরক্ষণেই প্রতিবেদককে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তিনি আবার বলেন, মামা কোন সমস্যা নাই। শুধু টাকার সমস্যা।

.

টাকার সমস্যা বলতে? দোকান বসানো নিয়ে কাউকে কি চাঁদা দিতে হয়? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন “কেন মামা লিখবেন নাকি তাদের বিরুদ্ধে। লাভ নাই মামা। মেলায় দোকান বসাইলে চাঁদা দেওয়াই লাগবে। আপনি সার জীবন লেখলেও কোন কাজ হবে না”।

চাঁদার টাকাটা কে নেয়? আর না দিলে কি হয়? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “মামা পুলিশের কিছু দালাল বা ক্যাশিয়ার আছে ওদেরকে টাকা দিতে হয়। টাকা দিলে দোকানের জন্য জায়গা পাবেন তা না হলে নাই”।

ছোট বড় সব দোকানদারদেরই কি চাঁদা দিতে হয় পুলিশকে? আর এই টাকা যে সংগ্রহ করে তার নাম জানেন? আর চাঁদার পরিমান কত?

.

“মামা বড় দোকান গুলোকে অনেক আগে থেকেই দোকান বসানোর জন্য টাকা দিতে রাখতে হয়। আর ছোট গুলোর কাছ থেকে যা পারে নিয়ে যায় মেলা চলাকালীন সময়ে। টাকা যে তুলতে আসে সে কোতয়ালী থানার ক্যাশিয়ার বলে জানি। কিন্তু তার নাম জানিনা”।

দোকান বসানো নিয়ে চাঁদাবাজীর এমনি আরো অভিযোগ করে হাটাজারী থেকে মুড়ি-মুড়কির দোকান নিয়ে আসা আব্দুল মন্নান। তিনিও নোয়াখালীর সুমনের মত একই অভিযোগ করেন পাঠক ডট নিউজের প্রতিবেদককে।

.

এ অভিযোগটি সম্পর্কে কোতয়ালি থানার ওসি মো: জসীম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি পাঠক ডট নিউজকে জানায়, কেউ যদি পুলিশ বা অন্য কিছুর পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে থাকে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। দোকান মালিক গণ এ ব্যাপারে আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা অভিযুক্তদের আটক করে আইনের আওতায় আনবো।

এছাড়া বাহারি রঙের রঙিন এ মেলা জনসমাগমে মুখরিত হয়ে উঠে মেলার প্রথম দিনেই। মেলা নিয়ে দোকানদারদের অভিযোগ থাকলেও নেই কোন দর্শনার্থীর অভিযোগ।

শিশুদের খেলনা কেনার পাশাপাশি বড়রাও ব্যস্ত সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটায়।

2 মন্তব্য