বিএনপির ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করলেন খালেদা
‘প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে’

3
ব্রেকিং নিউজ
  •  

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

                     

       

.

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর ‘একক নির্বাহী ক্ষমতা’র ভারসাম্য আনবে।

অাজ বুধবার (১০ মে) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিএনপির ‘ভিশন-২০৩০’ উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, লে. জে (অব.) মাহাবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া উপস্থিত আছেন। এছাড়া বিদেশের বিভিন্ন দুতাবাসের কুটনৈতিক ও দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, মাহফুজ উল্লাহ, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কাদের গণি টৌধুরী।

বেগম জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সংবিধানে গণভোটের বিধান সংযুক্ত করে দেশে গণভোট পুনঃপ্রবর্তন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এককেন্দ্রীক ক্ষমতা রহিত করতে সংবিধান সংশোধন করে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় ক্ষমতার আড়ালে এক স্বৈরাচারী শাসন।

দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই ভিশন তৈরির জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও সাবেক আমলা ইসমাঈল জবিউল্লাহসহ বেশ কয়েকজন সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিও ‘ভিশন-২০৩০’ তৈরির কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের জাতীয় কাউন্সিলে সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ‘ভিশন-২০৩০’-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অনাকাঙ্খিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। ট্রাফিক পুলিশ, কনস্টেবল ও এএসআইদের আট ঘণ্টার বেশি কাজে বাধ্য করা হবে না। যদি করতে হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে ন্যায়ানুগ ওভারটাইম দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ফৌজদারি আইনের বিচার পাওয়া নিশ্চিত করা হবে। অনেক সময় থানায় গেলে পুলিশ মামলা নিতে চায় না। থানাগুলিকে অনলাইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশবাহিনীকে সুসংগঠিত ও সুশৃংখল বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ব্যাতিরেকে সকল প্রকার কোটা বাতিল করা হবে। প্রতিরক্ষাবাহিনীর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে।

বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করবে না এবং কেউ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করলে শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

দেশে নৈতিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। পাঠ কারিকুলামে যথাযথ পরিবর্তনের মাধ্যমে নৈতিকতা পুনরুদ্ধার করা হবে।