চট্টগ্রামে পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু সংখ্যা ৩৬

0
.

চট্টগ্রামে পাহাড় ধস সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু বুধবার রাত পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৬ জনে। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় পৃথক ভাবে পাহাড় ধস ও পাহাড়ী ঢলে মারা গেছেন ২৬ জন নারী পুরুষ শিশু। এর আগে মঙ্গলবার পর্যন্ত এ সংখ্যা ছিল ১৯ জনে। বুধবার দিনভর উদ্ধার কাজে আরো ৫ জনের লাশ পাওয়া যায়।

গত ৩ দিন ধরে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় দমকাসহ ঝড়ো হাওয়া লাগাতার ভারী বর্ষণের কারণে মঙ্গলবার রাতে এবং ভোরে বিভিন্ন পাহাড় ধস, জলোচ্ছাস, দেয়াল চাপা, এবং পানিতে ডুবে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইসলামপুর ও রাজানগর এলাকার দুর্ঘটনা এলাকায় উদ্ধার তৎপরাতা চালিয়ে বিকেলের দিকে তা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও বিকেলের দিকে হোসনাবা এলাকায় পাহাড়ী ঢলের ভেসে যাওয়া একই পরিবারের ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এতে মৃত্যু সংখ্যা দাড়িছে ২৬ জনে।

নিহতদের মধ্যে ১৯জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন উপজেলার রাজানগরের নজরুল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৫), ছেলে নানাইয়া (১৫), মেয়ে সাফিয়া আক্তার (৯) এবং একই এলাকার মো. ইসমাইল (৩৭), তার স্ত্রী মনিরা আক্তার (২৬), দুই মেয়ে ইভা (৮) ও ইছা (৪)।

.

ইসলামপুরের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে সুজন (৪২), তার স্ত্রী মুন্নি (৩১), মেয়ে জোসনা (১৮), শাহানু (১৬) ও ফালুমা (১৪) নিহত হয়েছেন। একই এলাকার মফিজুর রহমানের মেয়ে মুনমুন আক্তার, হেজু মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম, বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. পারভেজ, মো. হানিফের ছেলে মো. হোসেন, সিদ্দিকের স্ত্রী রিজিয়া বেগম, মফিজের ছেলে হিরু মিয়া নিহত হন।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে রাঙ্গুনিয়ার রাজানগরে ৮ জন, ইসলামপুরে ১৪ জন এবং হোসনাবাদে পাহাড়ী ঢলে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব এলাকায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন, নিখোঁজ রয়েছে একজন। জেলা প্রশাসনের হিসেবে এখানে আহতের সংখ্যা ৫ জন বলে জানায়।

এছাড়া চন্দনাইশে পাহাড় ধসে মারা গেছে ৪ জন। তারা হলেন-আজগরের মেয়ে মাহি আক্তার (৩), চি চাও খিয়াংয়ের স্ত্রী মোখাও খিয়াং (৫০), খাই লাও খিয়াংয়ের মেয়ে মি মাও খিয়াং (১৩), চি লাও খিয়াংয়ের মেয়ে খেও চাপ খিয়াং (১০)।

রাউজানে পাহাড়ি ঢলে মারা যায় ২ জন, একজনের নাম পাওয়া গেছে। তিনি হলেন-নোয়া মিয়া (১৬)।

বাঁশখালীতে ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে এনায়েতুল হক নামে নিহত ১ জন, ফটিকছড়ি উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে  অজ্ঞাত ১ জন মারা যায়।

এদিকে নগরীর হালিশহরে দেয়াল চাপা পড়ে মোহাম্মদ হানিফ নামে ১ জন এবং চাকতাই এলাকায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ দেলোয়ার (১৯) নামে একজনের মৃত্যু হয়। সর্বমোট ৩৬ জনের মৃত্যু ঘটে।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন