মহেশখালীতে আটকা পড়া বিদেশী জাহাজে থেকে কোটি টাকার মালামাল লুটপাট 

1
মহেশখালীর চরে আটকা পড়া পেরুর পতাকাবাহী জাহাজটি এমভি হাই।

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের কাছে চরে আটকা পড়া একটি বিদেশী স্ক্র্যাপ জাহাজে ব্যাপক লুটপাট চালাচ্ছে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা গত ১০ জুন টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় বিদেশ থেকে নিলামে কেনা জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে মহেশখালীর সোনাদিয়ায় ডুবোচরে আটকা পড়ে।

এটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শীপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কাটার জন্য বিদেশ পাঠানো হলেও মালিক পক্ষকে বুঝিয়ে দেয়ার আগেই দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মহেশখালীর দ্বীপে আটকে যা্য়।
জানা যায়, ১৯৮৬ সালে জাপানের তৈরী পেরুর পতাকাবাহী জাহাজটি নাম এমভি হাই।
দল বেঁধে জাহাজটিতে লুটপাট চলছে।

জাহাজটির ওজন প্রায় ১০ হাজার টন। আই এম ও নম্বর ৮৬০৬০৬৮। বর্তমানে ডেথ শিপে পরিনত হওয়ায় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিক্রির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে দুর্ঘটনাজনিত কারণে জাহাজটি সাগরের সোনাদিয়া দ্বীপ সংলগ্ন ডুবোচরে এসে ভীড়ে। গত ১২ জুন সোমবার সন্ধ্যার দিকে জাহাজটি সোনাদিয়ার চরে এসে আটকে যায়। ক্রো ও লোকজনহীন জাহাজে তেলভর্তি বেশ কিছু ড্রাম্প ও লাইফ জ্যাকেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল রয়েছে। পর দিন থেকে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা জাহাজটিতে লুটপাট শুরু করে।

লুট করা মালামাল নিয়ে যাচ্ছে দুই ব্যাক্তি।

ঐদিন মহেশখালী থানার পুলিশের একটি দল সোনাদিয়া দ্বীপে অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত এসব মালামাল উদ্ধার করে। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ২টি ফ্রিজ, ৫টি চেয়ার, ২০ টি লাইফ জ্যাকেট ও ৫ ড্রাম তেল।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানিয়েছেন, ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজটি সোমবার সাগরের সোনাদিয়া দ্বীপ সংলগ্ন ডুবোচরে এসে ভীড়ে। জাহাজ শিল্পের স্ক্র্যাপের জন্য আনা এটি কোন বিদেশি জাহাজ বলে মনে করা হচ্ছে। গভীর সাগরে ঝড়ে নোঙ্গর ছিঁড়ে হয়তোবা এটি তীরে এসে ভীড়ে। ধারণা করা হচ্ছে বৈরী আবহাওয়ার তোড়ে গভীর সমুদ্র থেকে জাহাজটি সোনাদিয়ার চরে এসে আটকে যায়। এটি তীরে ভেড়ার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জাহাজটিতে উঠে লুটপাট চালায়। যে যার মতো তেলভর্তি ড্রাম্প, লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য মালামাল লুট করে বাড়িতে নিয়ে যায়।
এদিকে জাহাজ আটকে যাওয়ার খবর পেয়ে সোনাদিয়ার দুটি দস্যু বাহিনী জাহাজে ব্যাপক লুটপাট চালায়। এবং দুটি গ্রুপ লুটপাট চালাতে গিয়ে তাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। ইত্যেমধ্যে কোটি কোটি টাকার মালামাল জাহাজ নিয়ে গেছে।
লুণ্ঠিত কিছু মালামাল মহেশখালী থানা পুলিশ পাশের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মহেশখালী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফররুখ আহমদ মিনহাজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজটি চরে আটকে যাওয়ার খবর আসে। কিন্তু এক দিকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অপর দিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকে চেষ্টার পর দুপুরে জাহাজ আটকা পড়া স্থানে পৌঁছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, জাহাজে উঠে দেখা যায়, এতে ক্রুবা অন্য কোনো লোকজন নেই। মনে হচ্ছে এটি

বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ। জাহাজে বেশ কিছু তেলের ড্রাম্প ও লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। খবর পেয়েছি আরও বেশ কিছু পণ্য লুট করেছে স্থানীয় অসাধু কিছু লোকজন। এসব উদ্ধারে ওই এলাকায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চালানো হচ্ছে। লুট হওয়া বেশ কিছু তেল ও অন্যান্য পণ্য উদ্ধার করে স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে।
কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খোকন বলেন, সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আদলে রবিবার সকাল থেকে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া চলে। সাগর উপকূলে এর তীব্রতা ছিল মারাত্মক। সেই বৈরী আবহাওয়ায় পড়ে জাহাজটি ভেসে এসে সোনাদিয়ার চরে আটকে যায়। প্রশাসন এটি জিম্মায় নিয়েছে। তাদের মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
Advertisements

প্রথম মন্তব্য

একটি মন্তব্য দিন