বোয়ালখালীতে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়

0
.

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার বিপনি বিতানগুলোতে গতকাল শুক্রবার থেকে উপচে পড়েছে ক্রেতারা। এতদিন বৈরী আবহাওয়ায় তেমন একটা ভীড় ছিল না বিপনিবিতানগুলোতে।

এখন দিনরাত সমানতালে উপচে ভীড় পৌর সদরের খাজা মার্কেট, জব্বার মার্কেট, আলমদিনা সুপার মার্কেট, কানুনগোপাড়া ও শাকপুরা চৌমুহনীতে। এছাড়া ফুটপাতে বসা হকারদেরও এখন জমজমাট বেচাবিক্রি।

পৌর সদরের ব্যবসায়ীরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে রমজানের শুরতে বিক্রি ছিল মন্দা। ক্রেতারা মার্কেটে তেমন একটা আসেননি। এছাড়া ঝড় বৃষ্টিতে বিপনিবিতানগুলো বাহারি সাজসজ্জা নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও বর্তমানে ক্রেতার ভীড় বাড়ায় আশানুরূপ ব্যবসা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ব্যবসায়ীরা।

.

পৌর সদরের জব্বার মার্কেটের এ ঈদের কাপড় কিনতে আসা গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, আগে ঈদের কাপড় কিনতে নগরে যেতে হতো, এখন বোয়ালখালী সদরের উন্নতমানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এ অনেক ঝক্কিঝামেলা কমে গেছে।

পোপাদিয়া ইউনিয়ন থেকে আসা শাহিদা শারমিন জানান, এতদিন ঘর থেকে বের হতেই পারিনি। ঈদ প্রায় ঘনিয়ে এসেছে, আর সময় নেই। তাই নিজের ও পরিবারের পছন্দের জন্য কাপড় চোপড় কিনতে আসা। তবে বিক্রেতার দাম হাঁকছে বেশি।

পৌর সদরের খাজা মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, খাজা আজমীর, মেগামাঠ, কে এম বিতান, আরেফা ফ্যাশন, আল ওয়াসিম ফ্যাশন, রিয়াদ ফ্যাশন, দুবাই ইল্কেট্রনিকস, খাজা বুট হাউস, বড় বাজার, মন রেখ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের ভীড় বেশি। এমব্রডারী কাজ করা মাছরঙি ৬হাজার, দেওয়ালি, মনছুয়া ৫হাজার, মাস্তানি ৪হাজার, মনছুড়ি ৩হাজার, খানদানী ২হাজার, ত্রিপিস বিপুল সাড়ে তিন হাজার, বিনয় ফ্যাশন, জোবাইদা, নাকাশি ১০হাজার ও প্রিন্টেট লোন ৬শত, কাশমেরী বেনারসী ১০হাজার, লেহেঙ্গা ১৩হাজার, ভারতীয় জর্জেট, শিপন ৩হাজার, কাতান কাঞ্চি বরণ সাড়ে তিন হাজার, ব্যাঙ্গালোর আড়াই হাজার ও অপেরা ১০হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া জুয়েলারী গোল্ডপ্লেট জয়পুরির চাহিদা রয়েছে ক্রেতাদের মাঝে।

.

আরেফা ফ্যাশনের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আয়ুব জানান, হঠাৎ গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়ের ফলে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এবার বিদেশী পণ্যের চেয়ে দেশী পণ্যের দাম নাগালে থাকায় চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।

ঈদের বাজার মধ্য রাত অবধি সরগরম রয়েছে জানিয়ে জব্বার মার্কেটে ব্যবসায়ী সমিতির নাজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবার ভালো থাকায় ক্রেতারা নির্বিঘেœ কেনাকাটা করছেন। মার্কেটগুলোর পক্ষ থেকেও যানজট নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রমজান মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে পুলিশ। উপজেলা সকল ব্যাংক ও ব্যবসায়ী লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। যে মূর্হুতে পরিস্থিতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া ঈদের বন্ধে বোয়ালখালী থানা পুলিশের টহল টিম জন নিরাপত্তায় কাজ করবে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন