নমিনিকে অর্থ না দেয়ায় শাহজালাল ব্যাংকের ম্যানেজারকে লিগ্যাল নোটিশ

0
.

মৃত গ্রাহকের সঞ্চিত অর্থ তার পূর্ব নির্ধারিত নমিনিকে প্রদান না করায় বেসরকারী শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ চট্টগ্রামে পাহাড়তলী শাখার ম্যানেজারের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ জারী করা হয়েছে।

ডা.ফজলুল হাজেরা ডিগ্রী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক ও বিভাগীয় প্রধান মিসেস হাসনা বানু সম্প্রতি মানবাধিকার আইনজীবী জিয়া হাবীব আহ্‌সানের মাধ্যমে উক্ত নোটিশ জারী করেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, বিশিষ্ট পীরে কামেল পাহাড়তলী থানাধীন দক্ষিণ কাট্টলী ছধু চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা হযরত শাহ সুফী (মরহুম) সৈয়দ মোহাম্মদ জামান শাহ (ম.আ.) এর সুযোগ্য পুত্র ও তৎ দরবারের সাজ্জাদানশীন শাহজাদা পীরে কামেল হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান ১২/০২/১৭ ইং তারিখে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

উক্ত ব্যাংকে মরহুম পীর সাহেবের এম.টি.ডি.আর নং ০০১১৬ এর নমিনি করা হয় তাঁরই মুরিদ মিসেস হাসনা বানুকে। ১৯/০৭/১৭ ইং তারিখে নমিনি উক্ত টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংক ম্যানেজার ওমর ফারুক বরাবরে আবেদন করেন, কিন্তু তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশ, আইনের বিধান ও বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার অনুযায়ী নমিনিকে তাৎক্ষনিক উক্ত টাকা পরিশোধ না করে নানাভাবে হয়রানী, বিলম্বিত ও ঘুরাতে থাকেন।

নোটিশদাতার অভিযোগে আরো বলা হয় ম্যানেজার সামগ্রিক বিষয়ে অবহিত থাকা সত্ত্বেও মৃত ব্যাক্তির ইচ্ছার প্রতি সম্মান না দেখিয়ে নির্ধারিত নমিনিকে তা প্রদান না করে উল্টো মৃত ব্যক্তির কতিপয় ওয়ারিশ দাবীদারকে ব্যাংকের গোপন তথ্য ও নথিপত্র সরবরাহ করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত আইনী জটিলতা সৃষ্টির অপ্রয়াস চালান।

অভিযোগকারী তার আবেদন ও লিগ্যাল নোটিশ প্রদানের পর দীর্ঘদিন উক্ত টাকা আটকে রাখা হয়। আদালতের কোনরূপ স্থিতিবিস্থা বা নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক ম্যানেজারের এই ধরণের কর্মকান্ড ক্ষমতার অপব্যবহার মর্মে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবী জিয়া হাবীব আহ্‌সান জানান, নোটিশদাতা ২৫/০৭/১৭ ইং তারিখে নোটিশ প্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নমিনিকে টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও উক্ত নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও জবাবও প্রদান করা হয়নি।

এ ব্যাপারে ব্যাংকের জোনাল হেড নাসিরউদ্দিনকেও অবহিত করে কোন প্রতিকার পাননি। এরপর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও দূর্নীতি দমন কমিশনকেও অবহিত করা হয়।

মিসেস হাসনা বানু জানান মৃত ব্যক্তি অসিয়তনামা মূলে তাঁর ওয়ারিশদের সাথে জীবিতকালেই পীর সাহেব সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং তৎ স্ত্রী মোছাম্মৎ মেহেরুন্নেছা আমিনকেও ১১/০৫/২০১০ ইং তারিখে সাক্ষীদের সাক্ষাতে তালাক প্রদান করেন । বাংলাদেশ ব্যাংক ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং মৃত ব্যক্তির ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এ ধরণের হয়রানীর প্রতিকার চেয়েছেন প্রশাসনের কাছে মিসেস হাসনা বানু।

এ ব্যাপারে ব্যাংক ম্যানেজার ওমর ফারুক বলেন মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ বিজ্ঞ ১ম যুগ্ন জেলা জজ আদালতে সাকসেশান মামলা ও ঘোষণার মামলা দায়ের করায় নমিনিকে টাকা প্রদান করা হয়নি। অথচ তথ্যনুসন্ধানে দেখা যায় নমিনি ব্যাংকে এম.টি.ডি.আর মূল কপি প্রদর্শন পূর্বক আবেদন করেন ১৯/০৭/১৭, লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন ২৫/০৭/১৭, ম্যানেজার নোটিশ গ্রহণ করেন একই দিন ২৫/০৭/১৭ ইং তারিখে আর মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ দাবীদারগণ সাকসেশান মামলা দায়ের করেন ০৭/০৮/১৭ ইং তারিখে। এইভাবে নমিনির দরখাস্তের পর দীর্ঘদিন টাকা আটকিয়ে রেখে প্রতিপক্ষগণকে মামলা করার সুযোগ করে দেওয়া হয় । ঐ সকল মামলার নমিনিকে টাকা প্রদানে কোন ধরনের স্থিতিবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা আদেশ নাই। এর পরও শাখা ম্যানেজার সংশ্লিষ্ট নমিনিকে টাকা না দিয়ে ব্যাংক আইন লংঘন এবং গ্রাহক অথিকার খর্ব করে চলছেন।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন