নায়ক রাজ রাজ্জাক আর নেই

5
.

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। (মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

তিনি দীর্ঘ দিন শাররীক ব্যাধিতে ভুগছিলেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

সেখানেই তার জীবনের অবসান ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন।

নায়কের রাজের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে।

জানাগেছে, রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারতের) কলকাতার টালিগঞ্জে। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বরসতি পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।

তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক।

পরবর্তীতে কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশন-সহ আরও বেশ কয় ‘টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন সদর্পে। তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।

তার দুই পুত্র বাপ্পারাজ ও সম্রাটও চলচ্চিত্র অভিনয়ের সঙ্গে জড়িত।

মূলত ১৯৬৬ সালে ‘আখেরি স্টেশন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাজ্জাক চলচ্চিত্রে পা রাখেন। এরপর সালাউদ্দিন প্রোডাকশনসের ‘তের নাম্বার ফেকু ওস্তাগার লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিষিক্ত হন।

তিনি প্রায় ৩০০ বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সঙ্গেই ঢালিউডে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। অর্জন করেন একাধিক সম্মাননা। সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচবার (১৯৭৬, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ১৯৮৮)। ২০১৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র আজীবন সম্মাননা পুরস্কার ও ২০১৪ সালে মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পান তিনি। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন নায়ক আবদুর রাজ্জাক।

5 মন্তব্য

একটি মন্তব্য দিন