ঈদে চট্টগ্রামের শিল্প এলাকার মার্কেটগুলো ক্রেতা শূন্য !

0
Jpeg
ক্রেতাদের আর্কষণ করতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় ইপিজেড এলাকার মার্কেটগুলো। ছবি: আল আমিন সিকাদার

প্রতিবছর শহরের অন্যান্য বিলাস বহুল মার্কেট গুলোর তুলনায় দ্বিগুন পণ্য বিক্রি করত চট্টগ্রামের শিল্প এলাকা বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার শ্রমিক অধূষ্যিত মার্কেট গুলো। তবে এবারের চিত্র অনেকটাই ব্যাতিক্রম ধারন করেছে।

ইপিজেড এলাকার মার্কেটগুলোকে শ্রমিকনির্ভর বলার কারন হল, চট্টগ্রামের সব থেকে বেশি জনবহুল ও লক্ষাধিক ভোটারের বসবাস এই ইপিজেড এলাকাতে। এই অঞ্চলে বসবাসরত ৭০ ভাগ মানুষই পেশায় শ্রমিক। আর তাই ইপিজেড এলাকাতে গড়ে উঠা মার্কেটগুলোকে শ্রমিক নির্ভর মার্কেট বলা যায়।

Jpeg
ইপিজেড এর কয়েকটি দোকানে বেচাবিক্রি চলছে এভাবে।

চট্টগ্রামের ইপিজেড এ ঈদ বিক্রয় উৎসবে মেতে উঠা মার্কেট গুলো হচ্ছে বে-শপিং সেন্টার, ঝনক প্লাজা, চৌধুরী মার্কেট, শাহ্ প্লাজা এবং নব মার্কেট হিসেবে আল-মদিনা সুপার মার্কেট। ঈদ বিক্রয় উৎসব নামকরন করা হলেও ক্রেতা শূন্য মার্কেট গুলোর বিক্রেতাদের মুখে কেবলই হতাশার ছায়া।

গত ঈদ বিক্রয় উৎসবের ১৫ রমজানে মার্কেট গুলোতে ব্যবসায়িরা ক্রেতাদের নিয়ে বেচাবিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করলেও এবছর একই দিনে রাত ৯ টা হতে দীর্ঘ ১ ঘন্টার পরিদর্শনকালে অনেকটা ক্রেতা শূণ্য হয়ে হতাশা নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় দোকানীদের।

কর্ণফুলী ইপিজেডের “কেনপার্ক” কারখানার পোশাক শ্রমিক আলী পাঠক নিউজকে জানায়, এখনো পর্যন্ত কেবল নিজের ছোট বোনের জন্য কেনাকাটা করতেছি। তবে বেতন বোনাস পাওয়ার পর পরিবারের সকল সদস্যদের ও নিজের জন্য কিছু কেনাকাটা করবো।

Jpeg
ক্রেতাদের আর্কষণ করতে ইপিজেডের মার্কেটগুলোতে সাজানো হয়েছে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের আর্কষণ করতে বন্দর, পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকার জনসাধারণ পছন্দের মার্কেট বে-শপিং সেন্টারের ঈদ বিক্রয় উৎসব শুরু হয়েছে। এ উৎসব চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে বলে জানান, সিইপিজেডস্থ বে- শপিং সেন্টার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ নাছির চৌধুরী।

এবারে ২পর্বে ঈদ বিক্রয় উৎসবের ড্রয়ের পুরস্কার বিতরন করা হবে জানিয়ে সমিতির সেক্রেটারী চন্দন সরকার বলেন, ১ম পর্বে ৫১টি পুরস্কার ১৫ রমজানে এবং বাকী ১০০টি পুরস্কার ২০/৭/১৬ইং বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান করে ড্রয়ের বিজয়ীদের প্রদান করা হবে।

রমজানের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজনে ”সূলভে পণ্য-কিনে হোন ধন্য”শ্ল্গোান আহবান করে বিক্রয় উৎসব সফল করতে উৎসব কমিটির আহবায়ক মোরশেদুল আালম চৌধুলী (তাজু) ও সদস্য সচিব কাজী আজিজুল হক ক্রেতা-সাধারন কে এই পুরষ্কার সম্ভারটি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান। প্রতিটি পর্বের ড্রয়ের কুফন নম্বর সংবাদ পত্র ও মিডিয়ার মাধ্যমে জানানো হবে। এই সুযোগ পবিত্র রমজান পর্য›ত অব্যাহেত থাকবে বলে সমিতির নোটিশ সূত্রে জানিয়েছে ।

আল-মদিনা সুপার মার্কেটের বিক্রেতা জিকু পাঠক নিউজকে জানায়, গত দুই শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির কারনে ভাল বিক্রি করতে পারলেও এখন বেচাকেনার অবস্থা খুবই বেহাল। মাসের মধ্যবর্তী হওয়ায় ক্রেতারা মার্কেট বিমুখ। তবে বেতন বোনাস পাওয়া মাত্রই আমরা বতর্মান বেচাকেনার বিপরীত মুখ দেখতে সক্ষম হব বলে আশাবাদী

Jpeg
কপড়ের দোকানগুলোতে হরেক রকম বাহারি পোষাক ঝুলানো থাকলেও কাঙ্খিত ক্রেতা পাচ্ছেন না।

এব্যাপারে গত বারের ঈদ বিক্রয় উৎসবের সর্বাধিক সফলতা অর্জনকারী শাহ্ প্লাজা মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ফারুক হোসেন মিঠুন প্রতিবেদককে জানায়, এই এলাকার বেশিরভাগ ক্রেতারা শ্রমিক হওয়ায় তাদের বেতন ভাতার উপর নির্ভর করে আমাদের বিক্রয়।

রমজানের প্রথম দিকে কিছুটা বেচাকেনা হলেও বর্তমানে আমরা খুবই শংকিত আছি। বাকি ও লোনের মাধ্যমে আনা মালগুলো বিক্রি করতে না পারলে প্রচুর লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে আমাদের।

তবে আমরা আশাবাদী ২০ রমজানের পর ক্রেতাদের সমাগমে আমরা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পারবো। হয়তো বেচাবিক্রি বাড়বে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন