একান্ত সাক্ষাতকারে তানভীর শাহরিয়ার রিমন
এবারের বাজেট আবাসন খাতের জন্য ব্যবসা বান্ধব হয়নি

0
Rimon- 02
নিজ অফিসে পাঠক নিউজের সাথে কথা বলছেন ব্যবসায়ি প্রকৌশলী তানভীর শাহরিয়ার রিমন।

বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতের মতো আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বাজেট নিয়ে এই সেক্টরের ব্যবসায়িদের নানা প্রত্যাশা ছিল, সেই প্রত্যাশা কতোটা পুরণ হলো বাজেট পরবর্তী তাদের ভাবনা নিয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেছেন অন্যতম শীর্ষ আবাসন প্রতিষ্ঠান এ এন জেড প্রপার্টিস লি: চট্টগ্রাম’র চীফ অপারেটিং অফিসার বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তানভীর শাহরিয়ার রিমন।

বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন কী ঘটেছে ?

দেখুন, আমাদের আবাসন ব্যবসায়িদের বিশাল সংগঠন রিহ্যাব থেকে ১৩ টি লিখিত প্রস্তাব করা হয়েছিল বাজেট নিয়ে । এই প্রস্তাবনাগুলো সরকার সদয় বিবেচনায় নেবে বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বাজেট প্রনেতারা এর কোনোটিই আমলে নেননি ।

কী কী আবেদন ছিল আপনাদের কাছ থেকে ?

-বিগত বছরতিনেক এর অধিক সময় ধরে আবাসন খাতে মন্দা চলছে। যদিও গেল বছরের মাঝামাঝি থেকে বিচ্ছিন্নভাবে মার্কেট ফের কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, তাই আমরা আশা করেছিলাম সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কিছু উদ্যোগ এই খাতকে পুনরায় একটা গতি দিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের আবাসন সংকট সমাধানে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুন তহবিল গঠনের প্রস্তাবনা নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী ছিলাম। এই তহবিল পুরো খাতকে চাঙ্গা করতে দারুন ভুমিকা রাখত বলে আমি মনে করি । পাশাপাশি স্পর্শ কাতর বিষয় হলেও আমরা চাচ্ছিলাম বিনা প্রশ্নে আবাসন খাতে কালো টাকা বিনিয়োগের একটা সুযোগ। দেশের অপ্রদর্শীত টাকা দেশে রাখতে এর চেয়ে সময়োপযোগি সিদ্ধান্ত আর হতে পারতনা। কিন্তু এখানেও আমরা মনে হয় একটা বড় ভুল করলাম। যারা দেশের অপ্রদর্শীত টাকা দিয়ে মালেয়শিয়া, সিংগাপুর, থাইল্যান্ড এর আবাসন খাতে বিনিয়োগ করছেন বা ভবিষ্যতে করবেন তারা কিন্তু দেশে বিনিয়োগের কোনো পজিটিভ বার্তা পেলেননা। এতে করে দেশের একটা বড় বিনিয়োগ বাইরে চলে যাবে। পাশাপাশি নিবন্ধন ব্যয় কমানোর যৌক্তিক প্রস্তাবনাটাও বিবেচনায় নেয়া হয়নি। উপরন্তু উৎসে আয়কর বর্গমিটারে ৪০০ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে ।

এতে করে কী আবাসন খাত আবার সংকটে পড়বে বলে মনে করেন ?

-দেখেন কেউ স্বীকার করুক বা না করুক দেশের জিডিপি তে আবাসন খাতের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ অবদান ১২ শতাংশ। এর সাথে জড়িত ২৫০ এর ও অধিক লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি। এর সংগে ৫০ লক্ষ লোকের জীবিকা নির্ভরশীল। এতো বড় একটা খাতকে অবহেলা করা নিতান্তই আত্মহত্যার শামিল। আমরা মনে করি এই ১৩ টি প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়ন করলে পুরো খাতটি আবার সরগরম হতো। দেশের মানুষের আবাসনের ৮০ শতাংশ কিন্তু বেসরকারী উদ্যোগেই হয়েছে। তাই প্রণোদনা দিয়ে, সঠিক সিদ্ধান্তে এই সংকট আমরা পার করতে পারতাম। হংকং এ যখন আবাসনে মন্দা দেখা দিয়েছিল তখন প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর লেগেছিল তা কাটিয়ে উঠতে। সেখানে তাদের সরকার নানা ভাবে সহায়তা করেছিল উত্তরণে। আমরা চাই আমাদের সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াক। বিশাল এই শিল্পটা টিকে থাক ।

আপনারা এখন কী করতে চান ?

-আমাদের সংগঠন রিহ্যাব’র সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিনের নেতৃত্বে রিহ্যাব এর একটা প্রতিনিধি দল এনবিআর এবং রাজস্ব বোর্ড এর কাছে প্রাক বাজেট আলোচনায় যে প্রস্তাবনাগুলো রেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন চাই। অন্তত প্রধান প্রধান প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনায় নেয়া সময়ের দাবী। আমাদের দেশে জমির অপ্রতুলতা আছে। তাই সেকেন্ডারি আবাসন মার্কেট তৈরী করা খুবই প্রয়োজন। একটা সেকেন্ডহ্যান্ড কারের নিবন্ধন ফি কিন্তু নতুন কারের নিবন্ধন ফির তুলনায় যৎসামান্য। কিন্তু অ্যাপার্টমেন্ট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নতুন পুরাতনে কোনো আলাদা নিয়ম নেই। এই চিন্তা কী আমাদের কর্তা ব্যক্তিদের সুবিবেচনায় আসবেনা? দেশে রিয়েল এস্টেট এর জন্য এখন সত্যি অনেক অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সিংগেল ডিজিটের গৃহঋন এবং এন আর বি দের জন্য গৃহ ঋন উন্মুক্ত করায় আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে অত্যন্ত ভালো প্রতিশ্রুতি পাচ্ছিলাম। কিন্তু এই বাজেট আমাদেরকে হয়তো আবার পিছিয়ে দেবে কয়েক ধাপ। সরকারের সুবিবেচনাই পারে কেবল এই পরিস্থিতি থেকে প্রায় ১২০০ রিহ্যাব সদস্যের ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে ।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন