বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট হারিয়ে অ্যাম্বাসেডর হলেন চাঁটগার মেয়ে এভ্রিল

1
.

হারিয়েছেন মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ। বিয়ে ও বিচ্ছেদের কথা গোপন করার দায়ে তাঁর মাথা থেকে নেমে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট উঠেছে আরেকজনের মাথায়। তবে একেবারে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না এভ্রিলকে। প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর লাভেলো আইসক্রিম তাঁকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নিযুক্ত করেছে।

বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন লাভেলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হক।

.

সংবাদ সম্মেলন থেকে নতুন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হিসেবে জেসিয়া ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের নাম। এরপর গত ছয়দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে এভ্রিল ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নাম। বিজয়ী হওয়ার পর গণমাধ্যমে উঠে আসে তাঁর বিয়ে ও বিচ্ছেদের খবর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুক লাইভে এসে বিয়ে ও বিচ্ছেদের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। তবে তাঁর দাবি, সে সময় বয়স কম থাকায় মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা-তর্ক-বিতর্ক। কে এই এভ্রিল? কি তার অতীত-বর্তমান? তার ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন খেতাব অর্জনের রহস্য কি ? এসব নিয়ে অনুসন্ধানে নেমে সাংবাদিকদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে সিনেমার মতো গল্প। আমেনা থেকে এভ্রিল হওয়ার গল্প। এভ্রিলের প্রকৃত নাম আমিনা। ১৯৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আমেনার জন্ম চট্টগ্রামের চন্দনাইশের সেবন্দী গ্রামের একটি দরিদ্র কৃষক পরিবারে। তার বাবা তাহের মিয়া। তারা দুই ভাই, দুই বোন। চন্দনাইশ বড়মা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই বিয়ের পিড়িতে বসে জান্নাতুল নাঈম আমেনা। স্বামী চন্দনাইশ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুদর্শন মনজুর উদ্দিন রানা। বিয়ে হয় ২০১৩ সালের ১১ জুন খুব ঘটা করে। বিয়ের দেনমোহর ছিল আট লাখ টাকা। সুখেই চলছিল তাদের সংসার। তখন দুই মাসের অন্ত:সত্বা আমিনা। আমিনার শ্বশুরালয়-পিত্রালয়ের সবাই খুশি। ইতিমধ্যে হঠাৎ একদিন নিরুদ্দেশ হয়ে যান জান্নাতুল নাঈম আমেনা। কয়েকদিন পর তার বাবা-মা জানতে পারেন-স্থানীয় এক যুবকের প্রেমে পড়ে তার হাত ধরে কক্সবাজার চলে গেছে।

প্রথম মন্তব্য