২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পৌছবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

0
chokkahajiblog_1381093420_3-015675870_30300
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২১ মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। আর ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে সামিল করা।’

বহুল কাঙ্ক্ষিত দেশের প্রথম মেট্রোরেলের ভূমি উন্নয়ন কাজ ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণ কাজের উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প দু’টির ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে দেশ ও জাতির উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় অতিরিক্ত মানুষের বসবাস। কিন্তু রাস্তাঘাটের অভাব। আবার গাড়িও ব্যবহার হচ্ছে বেশি। এজন্য সাধারণ মানুষ যারা বাসে চড়েন, তাদের জন্য ঢাকা শহরে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত আরও সহজ করা আমাদের লক্ষ্য। সেজন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছি। ঢাকাকে কেন্দ্র করে বৃত্ত‍াকারে সড়ক, নৌপথ ও রেলপথ নির্মাণ করে যোগাযোগ আরও সুন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছি। পুরো ঢাকা ঘিরে সব পথই থাকবে। সে ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই হয়ে গেছে। কাজও শুরু হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেলের ১৬টি স্টেশন থাকবে। সব ইলেকট্রনিক সিস্টেম হবে। ট্রেনে ওঠানামা দ্রুত হবে। কারও জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। অনুষ্ঠানে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়কের উদ্বোধনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগেই সুখবর পাবেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের দিকে কেউ তাকায় না। কিন্তু আমরা পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে উন্নত যোগাযোগের আওতায় এনেছি। সেদিকে অনেক ব্রিজ-সেতু করে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছি। পটুয়াখালীর মতো জেলায়ও আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করছি। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। পুরো দেশে উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি এবং করছি।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কও চার লেনে উন্নীত করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগেও গুরুত্ব দিচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে চার দেশ মিলে বিবিআইএন (বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল) সড়ক যোগাযোগ চুক্তি হয়েছে।

প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এ কাজে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা দিচ্ছে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

দ্রুতগতির মেট্রোরেল উত্তরা থেকে মিরপুর ও ফার্মগেট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত যাতায়াত করবে। প্রতি চার মিনিটে প্রতিটি স্টেশনে থেমে প্রতি ঘণ্টায় এটি ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।

এই ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা তৃতীয় পর্যায় থেকে পল্লবী, রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ ও ফার্মগেট, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, তোপখানা রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত চলাচল করবে।

এই যাত্রাপথে ১৬টি স্টেশন থাকবে- উত্তরা নর্থ, সেন্ট্রাল ও সাউথ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, হোটেল সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এমআরটি লাইন-৬ চালু হলে মহানগরীর যাত্রীসাধারণ চলাচলের সুবিধা পাবে এবং ক্রমবর্ধমান এই নগরীর যানজট থেকে মুক্তি পাবে।

এ ছাড়া পথচারীরা মহানগরীর ফুটপাথগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবেন এবং হেঁটে অনেক স্থানে যেতে পারবেন।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন