স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির
হেলাল হুমায়ুন ছিলেন সাংবাদিকতার বাতিঘর

1
.

চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘পৃথিবীতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জন্মাচ্ছে। কিন্তু কিছু মানুষের জন্ম পৃথিবীকে পাল্টাতে আসে। চট্টগ্রামে তেমনই একজন মানুষ সাংবাদিক হেলাল হুমায়ুন। তিনি ছিলেন মৃদুভাষী, অসম্ভব রকমের বিনয়ী ও সাহসী মানুষ। তিনি আমাদের আলোকবর্তিকা। তিনি সৎ সাংবাদিকতার মশাল নিয়ে ছুটেছেন। সেই মশাল নিয়ে আমাদের আগামী পথে চলতে হবে।

গত ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যায় এই সাংবাদিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র এসব কথা বলেন।

নগরের কাতালগঞ্জস্থ ফিফ্থ অ্যাভিনিউ কনভেনশন হলে মরহুম হেলাল হুমায়ুনের পরিবার ওই স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাদে মাগরিব দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দারুল উলুম আলীয়া মাদরাসার মহাদ্দিস মাওলানা মকছুদ আহমদ দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন। সেখানেই হেলাল হুমায়ুনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন বক্তারা।

মরহুম হেলাল হুমায়ুনের শ্বশুর আলহাজ্ব ওয়াকিল আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ দোয়া মাহফিল ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের এমপি প্রফেসর আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা: শাহাদাত হোসেন।

রোকন উদ্দিন চৌধুরী রিপনের সঞ্চলনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, চসিকের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মুহাম্মদ হাসনী, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আহসান উল্লাহ, ইউনানী বোর্ডের মহাসচিব হাকিম ফেরদৌস ওয়াহিদ।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম, সিটি কলেজের অধ্যাপক দিদারুল আলম, আল-হেলাল আর্দশ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হারুনুর রশীদ, মাওলানা মামুনুর রশীদ নূরী, এডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী রিজিয়া রেজা, সাবেক লায়ন গর্ভনর রফিক আহমদ, সালাউদ্দিন মোহাম্মদ বেলাল, মাওলানা মোস্তার আহমদ, চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন, সাউথ ইস্ট ব্যাংক ম্যানেজার বাবু বাবর, এনসিসি ব্যাংক ম্যানেজার মুকুল জয়নাল, মরহুমের স্ত্রী মিসেস রোকসানা হেলাল, তাঁর সন্তান গালিব হিলালী, রাগিব হিলালী ও আফসানা ফারহীন রাহী প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, মেয়র পত্মী শিরীণ আক্তার, সাংবাদিক সালাউদ্দিন রেজা, সাংবাদিক মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাংবাদিক শফিউল আলম, সাংবাদিক কাশেম মাহমুদ, সাংবাদিক নুরুল মোস্তাফা কাজী, শহিদুল ইসলাম, হাফেজ আমান উল্লাহ, ইকবাল হাজী, প্রমূখ।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের এমপি প্রফেসর আবু রেজা নদভী বলেন, ‘হেলাল ভাই ছিলেন চট্টগ্রামে এক অসামান্য রকমের উদ্দাম পুরুষ। সারা জীবন তিনি তার সাংবাদিকতায় সত্যকে তুলে ধরেছেন। তিনি সহজভাবে বলতেন এবং লিখতেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতেন। যে কোন লেখার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করতেন।’

ডা: শাহাদাত হোসেন বলেন, সাংবাদিক হেলাল হুমায়ুন ছিলেন সময়ের সাহসী ও সৎ সাংবাদিকতার প্রতিকৃৎ। তিনি অর্থ, বিত্ত, চিত্ত ও মোহের উর্ধে উঠে সাদা সিদে জীবন যাপন করে আলোকিত ব্যাক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন। আজীবন তিনি সততা ও সাহসিকতাকে পুঁজি করে হয়ে উঠেন সাহসী সাংবাদিকতার বাতিঘর। তার সৎ সাংবাদিকতা সর্বস্তরের মানুষকে উৎসাহিত করে আসছে।

স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,‘ হেলাল হুমায়ুন ছিলেন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আদর্শ প্রতীক। সব সময় খবরের পেছনে ব্যতিব্যস্ত এ মানুষটি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বাক্ষর রেখেছেন। সাংবাদিকতার বাইরে ছিলেন সমাজসেবক। তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং জীবনের সমস্ত অঙ্গন মিলিয়ে তিনি একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন। তিনি আমাদের আলোকবর্তিকা। অনুষ্ঠানে শেষে দোয়া কামনায় মেজবানের আয়োজন করা হয়। -প্রেসবিজ্ঞপ্তি

প্রথম মন্তব্য

  1. শহীদ ছাত্রনেতা তবারক,শাহাদাতকে স্মরন না করে তাদের খুনি কুখ্যাত হেলাল হুমায়নের স্মৃতিচারন করছি আমরা।ছি:
    স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবিরের হাতে প্রথম শহীদ ছাত্রলীগ নেতার নাম তবারক হোসেন।ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র রাজনীতির প্রথম শিকার চট্টগ্রাম কলেজ ক্যাম্পাসে ১৯৮১ সালে।’নারয়ে তাকবীর’ স্লোগানে ছাত্রলীগের মিছিলে হামলা চালিয়ে গলায় কিরিচ বসিয়ে দিনে দুপুরে পশুর মতো জবাই করা হয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা তবারক হোসেনকে।সেই থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম কলেজ মহসিন কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছিল বিতারিত একটি সংগঠনের নাম।সেদিন তবারক হোসেন মৃত্যুর আগ মূহুত্বে খুনীদের কাছে পানি খেতে চেয়েছিল।কিন্তু কুখ্যাত শিবির ক্যাডার হেলাল হুমায়ন হাসতে হাসতে তবারকের মুখে পশ্রাব ছিটিয়ে দিয়েছিলো।