সন্দেহ চিকনগুনিয়া, ঘটনাস্থলে গেলেন সিভিল সার্জন
সীতাকুণ্ডে আবারও অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত শতাধিক নারী-পুরুষ

0
অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত গোপাল জলদাস।

জেলার সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জেলেপাড়ায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শতাধিক নারী শিশু ও বৃদ্ধ। এ নিয়ে পুরো এলাকাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা এটিকে চিকনগুনিয়া আক্রান্ত বলে ধারণা করলেও আজ বিকালের মধ্যে আক্রান্ত রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন।

আক্রান্ত নারী শিশু বৃদ্ধরা জ্বরের পাশাপাশি শরীরে হাঁড়ে (গিড়ায়) প্রচন্ড ব্যাথায় আক্রান্ত। গত কয়েকদিনে আক্রান্তের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যাবার পর এনিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছে সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পাঠানো হয়েছে মেডিকেল টিম।

চট্টগ্রামে সিভিল সার্জন আজিজুল হক ভূঁইয়া গণহারে আক্রান্ত হওয়া বিষয় শুনে আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে গেছেন। তিনি পাঠক ডট নিউজকে জানান, আমি ঘটনাস্থল শীতলপুরে যাচ্ছি। বিষয়টি ভালোভাবে সরেজমিনে দেখে তারপর আপনাদের জানাবো। তিনি বলেন, চিকনগুনিয় আক্রান্তের খবর পাওয়ার পরপরই আমরা তাৎক্ষনিক একটি টিম সেখানে পাঠিয়েছ। তবে এটি চিকনগুনিয়া কিনা তা পরিক্ষা নীরিক্ষা করা হবে। রোগের চিকিৎসা হিসেবে তারা আপাতত ১ হাজার প্যরাসিটামল ও ১ হাজার হিস্টাসিনসহ প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র দিয়েছেন। এক একটি মেডিকেল টিম এলাকায় সার্বক্ষনিক রয়েছে।

এর ৪ মাস আগে একই এলাকায় পাহাড়ের উপজাতী পাড়ায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এনিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় চলে।

স্থানীয় সুত্রে জানগেছে- সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর মদনহাট গ্রামের জেলে পাড়ার মানুষের মধ্যে গত এক মাস ধরে রোগে আক্রান্ত হলেও এতোদিন এটি সাধারণ জ্বর হিসেবে ধরে নিয়ে স্থানীয় ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসা সেরেছে। কিন্তু এতেও জ্বর না সারায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে স্থানীয়রা।

জেলে পাড়ার সর্দ্দার সুনীল দাশ জানান, প্রায় একমাস আগে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। এলাকায় কয়েকজন ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ খাওয়ার পরও জ্বর ভালো হচ্ছে না। পরে একে একে তার স্ত্রী শশী রানী এবং এবং ৩ সন্তান রোগে আক্রান্ত হন। জ্বরের সাথে পুরো শরীর গিড়ায় গিড়ায় প্রচন্ড ব্যথা রয়েছে বলে জানান।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার এ খবর জানার পর সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা শুরু করেছে।

আজ বুধবার দুপুরে এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরামর্শ সভা করছে সীতাকু- থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থলে গেছেন জেলা সিভিল সার্জন। তার সাথে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফরিদ আহমদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অলিউর রহমান।

সীতাকু- উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ফরিদ আহমদ জানান, মশাবাহিত এ রোগ নির্মূলে ওই এলাকায় ঝোপঝাড় পরিস্কার করার জন্য একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনার অংশ হিসেবেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরদের নিয়ে বৈঠকে বসেছি। তিনি বলেন, বিষয়টি মোটেও আতঙ্কের নয়। ঠিকমত ঔষধ খেলে আক্রান্ত যে কোন রোগি এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা এটি চিকনগুনিয়া বলে চিহ্নিত করেছি। তার পরও আক্রান্তদের রক্ত সংগ্রহ করে পরিক্ষার ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি জানান, গতকাল এবং আজ আক্রান্ত ৯৫ জনকে চিহ্নি করা হয়েছে। তাদের এসকেইউএস এর আওতায় আজ মাঝে মশারি বিতরণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই