মৎস্য ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন
ফিশারিঘাটে পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতন, দৈনিক ৫ কোটি টাকার মাছ বিক্রি বন্ধ

0
.

চট্টগ্রামের পুরনো ফিশারিঘাটে আগে দৈনিক যেখানে ৫ কোটি টাকা লেনদেন হতো এখন নানামুখী ষড়যন্ত্র, হয়রানি ও পুলিশি নির্যাতনের মুখে তা ১ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেডের আহ্বায়ক জানে আলম এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভোররাত তিনটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত নির্ভঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সহায়তা চেয়েছেন শত বছরের পুরোনো ফিশারিঘাট বাজারের মৎস্য আড়তদারেরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আহবায়ক জানে আলম বলেন, ২০০ বছরের পুরোনো এ বাজারের উপর স্থানীয় ৫০ হাজার গরিব মানুষের ভাগ্য জড়িত। যুগের পর যুগ তারা এ বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাদের যদি হকারদের মতো বিশেষ সুযোগ না দিলে তাদের রুটি-রুজি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

ব্যাবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পুলিশ মাছ ব্যবসায়ীদের মাছ বিক্রিতে বাধা দিচ্ছে। আদালতের দোহাই দিয়ে পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করে পুরাতন ফিশারিঘাটের মাছ বাজার থেকে ব্যবসায়ীদের জোর পূর্বক বের করে দিয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাজারের প্রধান ফটকে ওয়েল্ডিং করে সীলগালা করার আদেশ নেই আদালতের। কিন্তু পুলিশ একটি বিশেষ মহলের কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে ভিতরে প্রধান ফটকে ওয়েল্ডিং করে সীলগালা করে দেয়।

মৎস সমবায় সমিতির নেতারা বলেন, চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ও শতবর্ষী পাইকারী মাছের বাজার ফিশারি ঘাট ধংস হতে চলেছে । রাত গভীর হওয়ার সাথে যেখানে আগে মাছ ব্যবসায়ী আর শ্রমিকদের হাঁকডাক শুনা যেত এখন সেখানে সুনসান নিরবতা।

গত প্রায় কয়েকমাস ধরে মাছ শুন্য চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট। ফলে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের মাছের খুচরা বাজার গুলোতে। পুলিশ আর আড়তদারদের একাংশের বাধার মুখে মাছ আসছেনা চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পাইকারী মাছের বাজার ফিশারিঘাটে। ফলে অতিরিক্ত দামে মাছ কিনে খেসারত গুনতে হচ্ছে খুচরা ক্রেতাদের।

আড়তদার সমিতির নেতা সামশুল আলম বলেন, একটি মহল মামলার দোহাই দিয়ে শত বছরের পুরনো এ বাজারকে ধংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আদালত বাজারের ভিতরে মাছ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাইরে নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা রাস্তায় বা বাজারের বাইরে মাছ বিক্রি করতে চাইলে সেখানেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে। পুলিশ বিরোধীয় পক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে যে ভাবে ব্যবসায়ীদের হেনস্থা করছে তাতে করে এ বাজারের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার লোক বেকার হয়ে পড়বে।

সমিতির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে মেয়র মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলবো নগরীর হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয়েছে। তারা বিকেল পাঁচটা থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত ফুটপাতের একপাশে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা ভোররাত তিনটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করার সুযোগ চাই।

স্বরূপ বিকাশ বড়ুয়া বিতান বলেন, আমরা সড়কের ওপর মাছ বিক্রি করি না। আড়তের ভেতর মাছ প্যাকিং করি। তারপরও পুলিশ আমাদের নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। আমরা ২৬ জন সিকিউরিটি-দারোয়ান দিয়েছি যাতে রাস্তার ওপর কেউ ব্যবসা চালাতে না পারে। কেউ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে।

এদিকে আড়তদারদের এমন দ্বন্দ্বের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। পাইকারী বাজারে মাছ না পাওয়ায় এমন চড়া দামে মাছ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সদস্য শামসুল আলম, জাফর আলম সওদাগর, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুস শুক্কুর প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনের আগে মানববন্ধন করেন ফিশারিঘাটের মৎস্যজীবী ও মাছ ব্যবসায়ীরা।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন