ছুটির দিনে নিজেকে ছুটি দিন

0

ছুটির দিন মানেই খুশির দিন আরাম – আয়েশের দিন। নেই অফিসের চিন্তা। সারাদিন নিজের মতো করে কাটানোর দিন। কিন্তু শুয়ে-বসে তো আর পুরোদিনটি কাটিয়ে দেয়া যায় না? ছুটির দিনটায় যদি মন এবং শরীরকে একেবারেই অকেজো করে রাখা হয় তাহলে সপ্তাহের শুরুতে কাজে ফিরে যাওয়াটা যে আরো কঠিন হয়ে পড়ে!

যেভাবে কাজের চাপ বেড়ে চলেছে, আপনার মন আর শরীর সবসময়েই একটু রিলাক্স করতে চায়। সামনে কোনো ছুটির দিন পেলে মন আগে থেকেই ভাবতে থাকে, ছুটি টা কিভাবে ব্যবহার করবেন। কাজের মনোযোগ তাতেই বিগড়ে যায়! উত্তর স্বরূপ বলতে পারি, ছুটির দিন তা কিভাবে কাটাবেন, তা আগে থেকেই প্ল্যান করে রাখুন।

সপ্তাহের কাজের চাপের ক্লান্তি ভুলে যাওয়ার জন্য ছুটির দিনটি আনন্দে কাটানো জরুরি। সেই সঙ্গে সেরে নেয়া উচিত জরুরি কাজগুলো। তাই এই ছুটির দিনটিকে আরো বেশি উপভোগ্য করে তুলতে জেনে নিন কিছু নির্দেশনা।

পরিকল্পনা করুন
সারা সপ্তাহ কাজের পর আমরা ভাবি ছুটির দিনে কোনো কাজই করবো না। কিন্তু একেবারে কোনো কাজ না করে কি থাকা সম্ভব? তাই ছুটির দিনে কি করবেন আর করবেন না তার একটা তালিকা করে রাখুন। এর মধ্যে রাখুন টুকিটাকি কিছু বাড়তি কাজ যা করার কথা সপ্তাহের শুরুতে।

কিছু সময় রাখুন নিজের জন্য
পরিকল্পনা করতে হবে তাই বলে একেবারে চব্বিশ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র প্ল্যান করবেন না। তাহলে সপ্তাহের বাকি সব দিনের সঙ্গে ছুটির দিনের কোনো পার্থক্য থাকবে না। কাজের মাঝেও ছুটির দিনটা উপভোগ করা যায় এমন কিছু করার সময় রাখুন।

নিজের শরীরকে রাখুন কর্মক্ষম
ব্যায়াম করতে ভুলে যাবেন না। সারা সপ্তাহ যদি সময় না পান তবে সপ্তাহের ছুটির দিনে আপনার ধুলো পড়া সাইকেলটা নিয়ে বের হন, অথবা সাঁতার কাটতে যান। ঘরে বসেই হাল্কা কিছু ব্যায়াম সেরে নিতে পারেন। সারাদিন শুয়ে বসে কাটাবেন না।

অন্যরকম কিছু করুন
সারা সপ্তাহ যা করার সময় পান না তা করতে পারেন ছুটির দিনে। এক-দুই ঘণ্টার মাঝে শেষ করা যাবে এমন কিছু করুন। যেমন নতুন একটা রেসিপি নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে পারেন, বাগানে কজা করতে পারেন।

বিশ্রামের সময়টা ঠিক করুন
নিজের মন এবং শরীরকে বিশ্রাম দিতে হয় ছুটির দিনে। কিন্তু তাই বলে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমানো মোটেও ঠিক নয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিন কাজে যাবার জন্য যদি ৬টার সময়ে ঘুম থেকে উঠে থাকেন তবে ছুটির দিনেও প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে উঠতে চেষ্টা করুন।

অন্যদের সঙ্গে কাজ করতে পরিকল্পনা করুন
আপনার বন্ধুদের সঙ্গে লাঞ্চ করতে গিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে? সঙ্গে একটা গল্পের বই রাখুন। বাসা থেকে বের হয়ে অনেক দূরের কোথাও যেতে হচ্ছে? বাসে ছোট্ট একটা ঘুম দিয়ে নিন। এভাবে অন্যদের সঙ্গে কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা এমনভাবে ঠিক করুন যাতে কোনো সময় নষ্ট না হয় এবং বিরক্তি না আসে।

ঘরের কাজকর্মগুলো সেরে রাখুন
সারা সপ্তাহ ঘরের কিছু কাজ জমে যায়। এগুলো সপ্তাহের মাঝে করতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই এই জমে থাক কাজগুলো দ্রুত শেষ করুন এবং অতিরিক্ত কিছু কাজ শেষ করে রাখুন। যেমন সারা সপ্তাহ ব্যবহারের পোশাকগুলো আগেই ইস্ত্রি করে রাখতে পারেন, জুতো এবং অলঙ্কার আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে পারেন।

নিজেকে ছুটি দিন
সব তো শেষ হলো। এরপর নিজেই নিজেকে ছুটি দিন সকল কাজের চিন্তা থেকে এবং একান্তই নিজের আনন্দের জন্য কিছু করুন। সেটা হতে পারে আপনার প্রিয় গান শোনা, বই পড়া, টিভি দেখা কিংবা শপিং!

মনে রাখবেন, সারা সপ্তাহ জুড়ে ছুটির দিনের জন্য কাজ জমাবেন না। ছুটির দিনে ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুমানো হচ্ছে চরম বোকামি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছুটির দিনের অতিরিক্ত ঘুম হৃদরোগের ঝুঁকি ৪৬ শতাংশ বাড়ায়। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে ৫৬ শতাংশ। তাই নিয়মমাফিক ঘুম থেকে উঠে পড়ুন।

গান শুনুন। বই পড়ুন অবশ্যই। মনটা চাঙা হয়ে উঠবে। নিজের শখের কাজগুলো করুন। আগামী সপ্তাহের কিছু কাজ এগিয়েও রাখতে পারেন। নিজের পরিচর্যা করুন। রুটিন করে প্রতিদিন ত্বক,চুল, হাত, পায়ের যত্ন নেওয়া উচিত। তবে ছুটির দিনে অন্তত দুই ঘণ্টা রূপচর্চার জন্য ব্যয় করুন।

ছুটির দিনে অন্তত আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশি ও বন্ধুদের খোঁজ নিন। অথবা বেড়িয়ে আসুন শহরের অদূরে কোনো পর্যটন স্পটে।ছুটির দিনের রাতে পরের দিনের অফিসের কথা ভেবেই মন খারাপ হয়? তাহলে আগামী ছুটির দিনের প্ল্যান সেরে ফেলুন। বেশ চাঙা লাগবে।

কোন মন্তব্য নেই