বাম কাত হয়ে ঘুমানোর উপকারিতা

0

কেউ কাত হয়ে, কেউ চিৎ হয়ে, কেউ ডানে বা বামে ফিরে আবার কেউ দু’পায়ের মাঝে একটা ঢাউস কোলবালিশ না থাকলে ঘুম পায় না। তবে যার যেরকমই অভ্যাস থাকুক না কেন, কিছু ক্ষেত্রে এমন কিছু মানদণ্ড থাকে যা সবারই অনুসরণ করা বেশ প্রয়োজনীয়। তেমনি একটি একটি হল ঘুমের শোওয়ার অভ্যাসটি।

কোনদিক ফিরে ঘুমালে ভালো? এরকম প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে কিছু গবেষণাও হয়েছে। যার ফলাফল একইরকম। সব গবেষণাতেই বাম দিকে ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরকম প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র গবেষণায় আলাদা উপকারিতা বেরিয়ে এসেছে।

তাহলে জেনে নিই বামদিকে কাত হয়ে ঘুমানোর কিছু উপকারিতা-

পেটের পীড়া: একাধিক গবেষণায় একথা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে যে রাতের বেশিরভাগ সময় ডান দিক ফিরে ঘুমালে গ্যাস-অম্বলের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যা বামদিক ফিরে ঘুমালে একেবারেই হয় না। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি প্রকাশিত এক কেস স্টাডিতে জানা গেছে বামদিক ফিরে শুলে বদ-হজমের মতো রোগ অনেকখানি সেরে যায়। তাই যারা ঝাল মশলা দেওয়া খাবার খাওয়ার কারণে বেশিরভাগ সময়ই বুক জ্বালা বা পেটে গুরুগুর করার মতো ঝামেলায় ভোগেন, তারা আজ রাত থেকেই চেষ্টা করুন বামদিক ফিরে ঘুমানোর।

ক্যান্সারে আক্রান্ত আশঙ্কা: সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে এই মারণ রোগের সঙ্গে আমাদের শোয়ার অভ্যাসের যোগ রয়েছে। চিকিৎসকেরা লক্ষ্য করেছেন ডান দিক ফিরে শুলে গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স বা “জি ই আর ডি” এর মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। আর একবার যদি এই রোগ শরীরে এসে বাসা বাঁধে তাহলে ইসোফেগাসের উপর মারাত্মক চাপ পড়ে, যা থেকে শরীরের এই অংশে ক্যান্সার রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

গর্ভাবস্থায় নিষেধাজ্ঞা: গর্ভাবস্থায় ডান দিকে ফিরে ঘুমালে বাচ্চার শরীরের রক্তের প্রবাহ কমে যায়। ফলে একাধিক জটিলতা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে বাচ্চার শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়া, মায়ের লিভারের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো একাধিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

নাক ডাকা: মেডিকেল ডেইলিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে ডান দিকে ফিরে শুলে নানা কারণে নাক ডাকার প্রবণতা খুব বেড়ে যায়, যা বামদিক ফিরে শুলে হয় না। কিন্তু নাক ডাকা এবং শোয়ার মধ্যে কী যোগ রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। এই বিষয়ে একাধিক দেশে গবেষণা চলছে। আশা করা যেতে পারে আগামী দিনে সম্পর্কটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

পিঠের ব্যথা: যারা দীর্ঘদিন ধরে পিঠের ব্যাথায় ভুগছেন তাদের জন্য বাম কাত হয়ে ঘুমানো উপকার বয়ে আনতে পারে। কারণ এতে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমায়।

হৃদযন্ত্রের উন্নতি: বাম নয়, ডান দিকে ফিরে ঘুমালে হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে। কারণ ডান দিকে ফিরে শুলে ঠিক মতো রক্ত পৌঁছাতে না পারায় হৃদযন্ত্র দুর্বল হতে শুরু করে। অন্যদিকে বাম দিকে ফিরে শুলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে রক্ত প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে শুরু করে।

রক্ত প্রবাহে সাবলীলতা: কোনও দিকে না ফিরে শুলে সারা শরীরের যতটা মসৃণভাবে রক্ত প্রবাহ হয়ে থাকে, ডান দিক ফিরে শুলে অতটা ভাল করে হতে পারে না। বিশেষত হাত এবং কাঁধে পর্যাপ্ত পরিমাণ রক্ত পৌঁছাতে না পারার কারণে অসারতা, যন্ত্রণা সহ নানাবিধ সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তবে বামদিকে ফিরে শুলে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

কোন মন্তব্য নেই