জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল
২৯ মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে চির নিদ্রায় ছাত্রদল নেতা সুমন

5
.

আওয়ামী দু:শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে ২৯টি মিথ্যা মামলা আসামী হয়েছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা মেধাবী ছাত্র আলাউদ্দিন সুমন। আর সে মামলা মাথায় নিয়ে অবশেষ চির শায়িত হলেন নগরীর চৈতন্যগলি ২২ মহল্লা কবরস্থানে। এর আগে দীর্ঘ ৩ মাস মৃত্যুর সাথে লড়াই করেন মেধাবী এ ছাত্র নেতা।

তার ঘনিষ্ট্য বন্ধুরা জানান,  সুমন এতোটা মিশুক এবং অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী ছিলেন, দলমত নি:শেষে সবাই তাঁকে ভালোবাসতো এবং সকলের সাথে ঘনিষ্ট্যতা ছিল। জীবনে দাঙ্গা হাঙ্গামাতো কখনো সে কাউকে একটি থাপ্পরও দেয়নি। অথচ সেই ছাত্রনেতাকে রাজনৈতিক কারণে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২৯ মামলা চালাতে হয়েছে। গ্রেফতার হয়ে মাসের পর মাস কারাভোগ করতে হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বাটালী রোডস্থ রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল জানাজা পূর্বে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর যখন তাঁর (সুমনের) স্মৃতি তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখছিলেন তথন উপস্থিত সকলের চোখের পানি ধরে রাখা কস্টকর হয়ে উঠে। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে তাকে চির বিদায় নিতে হল এ পৃথিবী থেকে।

বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে মারা যান ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দিন সুমন।

ছাত্রদল নেতা সুমন নগরীর জুবলী রোড ৫১, এনায়েত বাজার গোয়ালটুলি এলাকার হাজী রাশেদ মিয়ার বাড়ীর বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন লাতুর বড় ছেলে।

সুমনের পারিবারিক সুত্র জানিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সুমন লিভার সমস্যা ও কিডনী সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভূগছিলেন। দীর্ঘ ৩ মাস ধরে নগরীর টিট্রমেন্টসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় তার শাররীক অবস্থার অবনতি ঘটলে ১০ দিন আগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তাঁর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদতক আবুল হাসেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান সহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ।

নগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শোকঃ

ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দিন সুমনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী এম মোরশেদ খান, সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি হাজী হোসেন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ ছাদেক, নগর যুবদলের সভাপতি কাজী বেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সৈয়দ আজম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এস.কে. খোদা তোতন, মহিলা দলের সভাপতি কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, জাসাসের সভাপতি আব্দুল মান্নান রানা, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ শিপন, নগর ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু। নেতৃবৃন্দ আলাউদ্দিন সুমনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

5 মন্তব্য

  1. অভিশ্বপ্ত চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদল আবছারের পর সুমন দুইজন ই সংগ্রামী নেতার পদ নিয়ে কবরে চলে গেছেন। এখনো নেতারা ভাইখেলা আমার লোক, প্রতিষ্টার জন্য সহযোগী সংগঠনের কমিটি আজও ঝুলিয়ে রেখেছে , বাধাঁ দিচ্ছে, অথচ তাদের নিজের ছেলারা নিরাপদে, ব্যাবহার হচ্ছি প্রতিনিয়ত আমরা, তাদের যতবার ভাই ডাকি নিজের ভাই বাবা মাকে ও ততবার কেউ ডাকিনি, এইটা যদি আল্লাহ কে ডাকলে আল্লাহ কে পাওয়া যেত, দল ও পরিবার ধংস্বের কারিগর দের বিচার করবেই, আল্লাহ একদিন, ওদের সুমন ও আবসারের আত্না কখনো মাফ করবে না, হয়ত কিছু নেতার রেশারেষিতে আর অনেক কর্মি হারিয়ে যাবে সময়ের বিবর্তনে। অভিশাপ দেওয়া ছাড়া ও দীর্ঘ শ্বাস ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই পিচনে ফিরার কোন জায়গা নেই।

একটি মন্তব্য দিন