সিংহের লিড ৩১২,চাপে বাংলার বাঘ

0

বাংলাদেশের পক্ষে ৩৫ রানে ৩টি উইকেট নিয়েছেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। দুটি করে উইকেট তাইজুল ইসলাম আর মেহেদী হাসান মিরাজের। একটি উইকেট নিয়েছেন আবদুর রাজ্জাক।

বাংলাদেশকে ১১০ রানে অলআউট করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দেখে শুনেই শুরু করেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার। তবে দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই কুশল মেন্ডিসকে (৭) ফিরিয়ে দেন রাজ্জাক। বাঁহাতি এই স্পিনারের বল ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মেন্ডিস। বলে-ব্যাটে করতে পারেননি। আম্পায়ার এলবিডব্লিউ দেওয়ার পর পর রিভিউ নিয়েছিলেন। তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।

মেন্ডিসের বিদায়ের পর উইকেটে এসেই আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। তবে ব্যক্তিগত ২৪ বলে ২৮ রান করে থামে এই ব্যাটসম্যান। তাইজুলের মিডল স্টাম্পে পিচ করা বল ডিফেন্স করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে বল লাগে স্টাম্পে।

এরপর গুনাথিলাকাকে সাজঘরে ফিরিয়ে লঙ্কান শিবিরে আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। কাটার মাস্টারের বলের লাইন বুঝতে পারেনি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। অফ স্টাম্পে সরে গিয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করলে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। ফলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান ১৭ রান করে।

উইকেটে প্রায় থিতু হয়ে যাওয়া দিমুথ করুণারত্নেকে সাজঘরের পথ দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩২ রান করে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর পঞ্চম উইকেটে ৫১ রানের একটি জুটি গড়েন দিনেশ চান্দিমাল আর রোশন সিলভা। দারুণ খেলতে থাকা চান্দিমালকেও (৩০) এলবিডব্লিউ করে ফেরান মিরাজ।

এরপর ১০ রান করে তাইজুলের শিকার নিরোশান ডিকভেলা। ৫৬তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত মোস্তাফিজুর রহমানের। ওভারের দ্বিতীয় আর তৃতীয় বলে দিলরুয়ান পেরেরা (৭) আর আকিলা ধনঞ্জয়াকে (০) আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন বাঁহাতি এই কাটার মাস্টার। হ্যাটট্রিক বলটা আটকে দেন সুরাঙ্গা লাকমল।

তবে পরের বলেই আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন মোস্তাফিজ। এবার প্রথম স্লিপে সাব্বির রহমান ক্যাচ ফেলে দেন লাকমলের। আঙুলে ব্যথাও পান সাব্বির। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আবারও ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ান।

এর আগে চাপ নিয়েই দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশের প্রথম দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও মিরাজ। তবে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি লিটন। লাকমলের ছেড়ে দেওয়ার মতো বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পে টেনে আনেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ফলে ২৫ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান এই তারকা।

লিটনের বিদায়ের পর মিরাজকে ভালোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। দুইজনে মিলে গড়েন ৩৪ রানের জুটি। তবে এরপরই ঘটে ছন্দপতন। ধনঞ্জয়ার অফ স্টাম্পের বাইরের স্পিন করা বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে গিয়ে লাগে স্টাম্পে। দুই বল ব্যবধানে ফিরে যান সাব্বির। এই স্পিনারের বল স্ট্রেট ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। তবে বল স্পিন করায় যেভাবে খেলতে চেয়েছিলেন পারেননি। মিডউইকেটে নিচু ক্যাচ চলে যায় দিনেশ চান্দিমালর হাতে। সাব্বিরের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায়

কোন মন্তব্য নেই