চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প -পানি সম্পদমন্ত্রী

0
ANISUL PIC -01
চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটে মতবিমিয় সভায় বক্তব্য রাখছেন পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ছবি: জীবন মুছা।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে উল্লেখ্য করে পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, স্থায়ীভাবে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বড় বড় খাল গুলো খনন করে এগুলোর মুখে রেগুরেটর ও পাম্প হাউজ স্থাপন করতে হবে। এ ছাড়া খাল গুলোর প্রবেশ মুখে স্লুইচ গেইট নির্মান করতে হবে।

তিনি শনিবার বিকালে চট্টগ্রামে “মহানগরীর জলাবদ্ধতা ও পানি নিস্কাশন সমস্যা সমাধানে সমন্বিত প্রকল্প গ্রহনের লক্ষ্যে” আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া নগরীর অধিকাংশ খাল ভরাট আর বেদখল হয়ে গেছে। এসব বেদখল হওয়া খাল পূনরুদ্ধার করে খনন করতে হবে।
আনিসুল ইসলাম বলেন, বিএস খতিয়ান পরিবর্তন আর নাম পরিবর্তন করে কেউ খালের জমি বিক্রি বা লিজ দিতে পারবেনা। ভূমি দস্যু আর খাল জবরদখলকারীদেও সাথে কোন ধরনের সমঝোতা হবেনা বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, জনগন সচেতন হলে ভূমিদস্যুরা খাল দখল করতে পারবেনা। এ জন্য প্রয়োজনে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। মহল্লায় মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নকে আমরা সব সময় প্রাধান্য দিয়ে থাকি। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনে এক হাজার লোক বিলোধী হলেও দখলবাজদের ছাড় দেয়া হবেনা বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্ছারন করেন। আনিসুল ইসলাম বলেন আমি দখলবাজদের দমন করতে রাজি আছি আপনারা রাজি আছেন কিনা ?

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডেও মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী আগষ্ট মাসে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়মের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে যথেষ্ট অনিয়ম রয়েছে। তবে আগের চেয়ে অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। এখন পানির নীচে অনিয়ম নেই আছে সচ্ছতা। তবে পানির উপরে অনিয়ম এখনো রয়ে গেছে।

অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে অনেকেই চাকুরিচ্যুত হয়েছেন। কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছেনা। তবে লোকবল সংকটের কারণে রাতারাতি অনিয়ম দুর করা সম্ভব নয় বলেও মন্ত্রী জানান। তবে এ জন্য জনগনের সচেতনতা এবং গনমাধ্যমের ভূমিকাই কাজ করবে সবচেয়ে বেশী বলে মনে করেন আনিসুল ইসলাম।

মত বিনিময় সভায় চট্টগ্রামের চান্দগাঁও-বোয়ালখালি আসনের সাংসদ জাসদ নেতা মাঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন,চট্টগ্রামের উন্নয়ন না হলে দেশের উন্নয়ন হবেনা। চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে দেশকে কল্পনা করা যায়না। তিনি বলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে বাস্তব সম্মত প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। শুধু পকিল্পনা করলে হবেনা। এর বাস্তবায়ন চাই।

জাসদ নেতা বাবু ইন্দু নন্দন দত্তের সঞ্চালনায় সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নাগরিক কমিটি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম,সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আশ্রাফুল আলম, সাইফুদ্দিন খালেদ,মোবারক আলী, কফিল উদ্দিন,বোয়ালখালি উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক, মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী হোসনেয়ারা পারুল প্রমুখ।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন