"কয়েকটা বিন্দু কেড়ে নিল ইমাম হোসেনের দশ বছরের সাধনা”
প্রশ্নপত্রে দাগ: ৩ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

4
.

প্রশ্নপত্রে দাগ দেওয়ায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও অভিবাকদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিবাদে সম্মেলন করেছে বহিষ্কার হওয়া পরীক্ষার্থীর পরিবার।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় নগরীর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত মেধাবি এসএসসি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্থ অভিভাবক’র ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবাদ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ৩ পরীক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে মুসলিম হাই স্কুল থেকে এস.এস. সি পরিক্ষা দেওয়ার সময়ে তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন হল পরিদর্শকের দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিষ্ট্রেট রমিজ আলম।

ঐ তিন শিক্ষার্থী হল সেন্ট প্লাসিড স্কুলের ছাত্র ইমাম হোসেন, তারিক আমিন চৌধুরী এবং স্কলাসটিকা স্কুলের ছাত্রী সায়মা আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ ইউনুছ। তিনি সেন্ট প্লাসিড স্কুলের বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ইমাম হোসেনের বাবা।

তিনি বলেন, এ তিন শিক্ষার্থী বহিষ্কার হওয়ার পর, অপমানবোধে আত্মহত্যার মত মারাত্মক পথ বেছে নেবে মর্মে উপস্থিতদেরকে জানিয়ে দিলে, আমরা হতবম্ভ হয়ে তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসকের বরাবরে আবেদনের মাধ্যমে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে কোর্ট বিল্ডিং এ সমাগত হয়েছিলাম। আমাদের ৪ জন অভিবাককে সমাধান দেওয়ার কথা বলে জেলা প্রশাসকের কক্ষে ডেকে নিয়ে পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়, এবং কোতোয়ালি থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে(মামলা নং-৪১ তারিখ ১৫/ ০২/ ২০১৮) ১৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বন্ধের দিন আমাদের আদালতে প্রেরণ করে দেয়। উক্ত মামলার ফলে আমরা এখনো হয়রানির শিকার হচ্ছি।”

তিনি আরো বলেন, “কয়েকটা বিন্দু কেড়ে নিল আমার ছেলে ইমাম হোসেনের দশ বছরের সাধনা!”

এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিট্রেড রমিজ পরিক্ষা কেন্দ্রে অবৈধ স্মার্টফোন নিয়ে প্রবেশ এবং পরীক্ষা কক্ষে পরিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ফোরামের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন, মো. শরীফ, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ইমাম হোসেন, মো. ইউসুফ, ইসহাক উদ্দিন, মো. আরিফ, হারুনুর রশিদ, সাইফুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রশ্নের উপর কলমের দাগ দেওয়ার কারণে ম্যাজিষ্ট্রেট রমিজ এ তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। এসময় ৪ অভিভাবককে আটক করা হয়।

4 মন্তব্য

Mofizul Hasan শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন উত্তর বাতিল করুন