মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়
    ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

    0
    images
    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের ৮ জনের মধ্যে ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন-আশরাফ হোসেন, আবদুল মান্নান ও আবদুল বারী।

    অ্যাডভোকেট শামসুল হক ,এস এম ইউসুফ আলী , অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. হারুন ও মো. আবুল কাসেমকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    এদের মধ্যে অ্যাডভোকেট শামসুল হক এবং এস এম ইউসুফ আলী আটক রয়েছেন। বাকিরা পলাতক।

    সোমবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

    সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম২৮৯ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু করেন।

    এ সময় মামলার আসামি অ্যাডভোকেট শামসুল হক এবং এস এম ইউসুফ আলী ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।

    রবিবার (১৭ জুলাই) রায়ের জন্য ১৮ জুলাই (সোমবার) সময় নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে গত ১৯ জুন উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ রাখা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। অপরদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজী এইচ এম তামিম। গত বছরের ২৬ অক্টোবর এই ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

    ২০১৫ সালের ২৪ মার্চ রাজধানীর ধানমণ্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৮ রাজাকারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ৫ ধরনের অভিযোগ আনা হয়। একই বছর ২৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ২২ জুলাই পলাতক জামালপুরের ৬ রাজাকারকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

    পাঁচ অভিযোগ

    প্রথম অভিযোগ : মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও শান্তি কমিটির সদস্য শামসুল হক, এস এম ইউসুফ আলী ও তাদের সহযোগীরা তৎকালীন জামালপুর মহকুমায় সাধারণ মানুষকে অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটায়। একাত্তরের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জামালপুরে স্বাধীনতাকামী এক হাজার লোককে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

    দ্বিতীয় অভিযোগ : আসামি আশরাফ হোসেন, শরীফ আহমেদ, আব্দুল মান্নান, মো. হারুন ও আব্দুল বারী ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই এবং ২২ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত জামালপুরের সরিষাবাড়ী থানার মইষ ভাদুরিয়া ও ধূপদহ গ্রামের শহীদ আব্দুল হামিদ মোক্তারের বাড়ি, মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার বাড়ি, আমির আলী খানের বাড়ি, পিটিআই হোস্টেলের টর্চার ক্যাম্প ও জামালপুর শ্মশানঘাটে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে।

    এ ঘটনায় শরীফ হোসেন, মো. আশরাফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল বারী ও হারুনের বিরুদ্ধে অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    তৃতীয় অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ১০ জুলাই রাত ৩টার দিকে আসামি শরীফ আহমেদ, আশরাফ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আব্দুল বারী, আবুল হাসেম, শামসুল হক, ইউসুফ আলী ও আল-বদর বাহিনীর সদস্য ও শান্তি কমিটির সদস্যরা জামালপুরের সিঅ্যান্ডবি রোডের (পুরাতন) দয়াময়ী লেনের মল্লিক ভিলা থেকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন শহীদ নুরুল আমীনকে অপহরণ করে। তারপর ওইদিন সকাল ১০টায় তার মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদের চ্যাপতলা ঘাটে ভেসে ওঠে।

    এ ঘটনায় শরীফ হোসেন, মো. আশরাফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল বারী, মো. আবুল হাশেম, শামসুল হক, এস এম ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    চতুর্থ অভিযোগ : তৎকালীন জামালপুর মহকুমার ছাত্র সংঘের সভাপতি আশরাফ হোসেনের নেতৃত্বে বদর বাহিনী গঠিত হয়। আশরাফ হোসেন জামালপুরের আশেক মাহমুদ ডিগ্রি কলেজকে ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করেন। একাত্তরের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামিরা সেখানে অনেককে আটকে রেখে নির্যাতন ও হত্যা করেছে।

    এ ঘটনায় শরীফ হোসেন, মো. আশরাফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান ও মো. আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে আটকে রিখে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    পঞ্চম অভিযোগ : ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামি শরীফ আহমেদ, আশরাফ হোসেন, আব্দুল মান্নান, আব্দুল বারী, আবুল হাসেম, শামসুল হক ও ইউসুফ আলী এবং স্থানীয় আল বদর বাহিনীর সদস্য ও পাক সেনারা জামালপুরের পিটিআই হোস্টেলকে নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করত। সেখানে হাজারখানেক নিরস্ত্র মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো এবং রাতে তাদের ব্রহ্মপত্র নদের তীরে শ্মশান ঘাটে নিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

    Advertisements

    কোন মন্তব্য নেই

    একটি মন্তব্য দিন