শ্রমিকদের পুনর্বাসন চাইল চামড়াশিল্প সমন্বয় কমিটি

0

হাজারীবাগের ট্যানারিশ্রমিকদের পুনর্বাসন ছাড়া সাভারের হেমায়েতপুরের চামড়াশিল্পনগরী পরিকল্পিত হবে না। সে জন্য চামড়াশিল্পনগরীতে অবিলম্বে শ্রমিকদের জন্য আবাসন, হাসপাতাল, বিদ্যালয় ও খেলার মাঠের দাবি জানিয়েছেন চামড়াশিল্প-সংশ্লিষ্ট সংগঠন সমন্বয় কমিটির নেতারা। এ ছাড়া সেখানে চামড়াশিল্প-সংশ্লিষ্ট আটটি উপখাতের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়েছেন তাঁরা।
রাজধানীর হাজারীবাগের ঢাকা ট্যানারি মোড়ে গতকাল শনিবার সমন্বয় কমিটি আয়োজিত এক সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। নেতারা বলেছেন, ট্যানারিশ্রমিকদের বাদ দিয়ে কেবল বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) নির্মাণ করলেই শিল্পনগরী পরিকল্পিত হবে না। চামড়াশিল্পনগরীতে শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা না পর্যন্ত হাজারীবাগের একটি ট্যানারির নাটবল্টুও খুলতে দেওয়া হবে না হুমকি দেন তাঁরা। সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপস।
পুনর্বাসন বিষয়ে সমন্বয় কমিটির দাবির সঙ্গে সমাবেশে উপস্থিত সাংসদ, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার গুডস্ অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ) এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা একাত্মতা পোষণ করেন।
হেমায়েতপুরে ১৯৯ দশমিক ৪০ একর জায়গার ওপর চামড়াশিল্পনগরীতে মোট শিল্পপ্লটের সংখ্যা ২০৫। এসব প্লটে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৫৪টি ট্যানারিকে জমি দেওয়া হয়েছে। সমন্বয় কমিটির নেতারা জানান, চামড়াশিল্প-সংশ্লিষ্ট লেদার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস্ ম্যানুফ্যাকচারার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি, চামড়া রপ্তানিকারক সমিতি এবং কেমিক্যাল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী সমিতিকে ২ লাখ ৪০ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে সেটি বাতিল করা হয়।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারি আমলা ও ট্যানারিমালিকদের যোগসাজশে চারটি সংগঠনের নামে বরাদ্দকৃত জমি বাতিল করা হয়। এ ছাড়া শ্রমিকদের আবাসনের একটি প্রস্তাবও রহস্যজনক কারণে বাতিল হয়। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের বাদ দিয়ে কীভাবে পরিবেশবান্ধব ট্যানারিশিল্প হবে, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।’
সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সরকার ও ট্যানারিমালিকেরা মিলে হাজারীবাগের শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর জন্য জমির বরাদ্দ না দিলে অবস্থান ধর্মঘটের কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি সাভারের চামড়াশিল্পনগরী প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কার্যালয় ঘেরাও করার কথা বলেন।
সাংসদ শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, সাভারের চামড়াশিল্পনগরীতে অনেক ট্যানারিমালিক জমি পেয়েও ব্যবহার করছেন না। জমি বিক্রির পাঁয়তারা করছেন। কিন্তু জমি বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। ওই জমিগুলো ট্যানারি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে বরাদ্দ দিতে দাবি জানান তিনি।
সাংসদ বলেন, ‘আপনাদের দাবির বিষয়টি ইতিমধ্যেই স্মারকলিপি আকারে আমি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শিল্পমন্ত্রীকে শ্রমিকদের জন্য আবাসনের প্রয়োজনে একটি আলাদা প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেছেন।’ তিনি আরও বলেন, হাজারীবাগের চামড়া আসা বন্ধ করে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এ জন্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘কোরবানির এক মাসের মধ্যে সাভারে না গেলে আমরাই সব ট্যানারি বন্ধ করে দেব।’
বিএফএলএলএফইএর সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শ্রমিকদের বাসস্থান, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের দাবি শুধু দাবি নয়, এগুলো মৌলিক চাহিদা।’ চামড়াশিল্পনগরীতে এত দিন যেসব ভুল হয়েছে, সেগুলো সংশোধন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীদের সাভারে জায়গা দেওয়া হয়নি। কিন্তু আমরা কাঁচা চামড়া কেনা বন্ধ করে দিলে পরিবেশদূষণ হবে।’ তিনি কমপক্ষে ২০ একর জমি বরাদ্দ চান, যাতে করে কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ীরা আড়ত করতে পারেন।
ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, লেদার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস্ ম্যানুফ্যাকচারার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি, লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি, কেমিক্যাল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, চামড়া রপ্তানিকারক সমিতি, স্পিলিট চামড়া ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি, ট্যানারি প্রকৌশল সমবায় সমিতি, ঠেলাগাড়ি লেবার বহুমুখী সমবায় সমিতি নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠিত হয়েছে।

Advertisements

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন