পোশাকে বৈশাখী আমেজ

0

নতুন বছরকে বরণ, তো আর নতুন পোশাক ছাড়া হয় না। আর সাজ-পোশাকে থাকতে হবে শতভাগ বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। যে মেয়েটি শাড়ি পরতে একেবারেই অনভ্যস্ত, সেও চাইবে সুন্দর একটি শাড়ি গায়ে জড়িয়ে নিতে।

বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার ও ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, এবারের বৈশাখ উদযাপনের জন্য তাদের ফ্যাশন হাউসের থিম নির্ধারণ করা হয়েছে সখের হাঁড়ি। পটচিত্রের বিভিন্ন নকশা তুলে ধরা হয়েছে পোশাকগুলোতে। রঙিন নকশায় ফুল, পাখি, ময়ূর, ইত্যাদির নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর বৈশাখ মানেই তো লাল-সাদা। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন উজ্জ্বল রংও ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টিশার্ট, সালোয়ার-কামিজ, শিশুদের পোশাকসহ নানা ধরনের গিফট আইটেমও। টিনএজদের জন্য রয়েছে আলাদা কালেকশন। পরিবারের সবাই মিলিয়ে পোশাক পরতে চাইলে তার জন্যও রয়েছে ফ্যামিলি পোশাক, রয়েছে কাপল ড্রেস। পোশাকগুলোতে কাপড় হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে তাঁত, হাফসিল্ক, মসলিন, সুতি ইত্যাদি। কাজের মাধ্যম হিসেবে আছে তাঁত, প্রিন্ট, ব্লক। এবারের সখের হাঁড়ি থিম ছাড়াও গেলবারের পঞ্জিকা থিমের বেশকিছু আইটেম তৈরি করা হয়েছে ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে।

বাঙালির সার্বজনীন উৎসব বৈশাখে অঞ্জন’স তৈরি করেছে থিমভিত্তিক বর্ণিল সব বৈশাখী পোশাক। লাল-সাদায় উপজীব্য অন্যান্য উজ্জ্বল সব রঙে বিভিন্ন লতাপাতা, কলকা, ফুল পেইনটিং ও উড কার্ভিংই হচ্ছে বৈশাখী থিমের মূল উপস্থাপনা। অন্যদিকে রঙ বাংলাদেশ বৈশাখে সৃজনের প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে যামিনী রায়ের অঙ্কনশৈলীকে।

আপাদমস্তক বাঙালি চিত্রকর যামিনী রায়ের ক্যানভাসে মূর্ত অবয়ব, রেখা ও রঙের উপস্থাপনায় সাজানো হয়েছে। নিত্য উপহারের এবারের বৈশাখের শাড়ি করা হয়েছে বাংলার পিঠার নকশা দিয়ে। ডিজাইন করেছেন চন্দ শেখর সাহা। এ ছাড়া সরা মোটিফ দিয়েও শাড়ি করা হয়েছে। কে-ক্র্যাফট এ দেশের ট্রাডিশনাল ফোক মোটিফের নিরীক্ষাধর্মী ব্যবহার করা হয়েছে পোশাক ও অনুষঙ্গে।

পোশাক বাছাই

শাড়িতে এখন জমিদার বাড়ির মোটিভ, শম্ভু বা গাজির পটচিত্র, মুখোশের মোটিভ বা ফ্লোরাল মোটিভ প্রাধান্য পাচ্ছে। সেই সঙ্গে ব্লক, বাটিক, স্ক্রিনপ্রিন্ট বা কাজ করা শাড়িও এ সময় বেশ চলছে। বরাবরের মতো এবারও দেশীয় বিভিন্ন মোটিভে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। হাতের কাজ, নকশিকাঁথার কাজ, ফুল, পাখি ঐতিহ্যবাহী নকশার হ্যান্ড পেইন্টের চাহিদা বেশি। বৈশাখের শাড়ি কেনার জন্য বাজেটটা অনেক হতে হবে তা নয়। বরং সুন্দর ঐতিহ্যবাহী নকশায় বোনা শাড়ি কিনতে পাওয়া যাবে ফ্যাশন হাউসগুলোতে। এসব শাড়িতে বুননের পাশাপাশি থাকে খানিকটা বাড়তি যোগ।

হাতকাটা, খাটোহাতা, ঘটিহাতা, এমনকি ফুলহাতার কামিজ পরা যেতে পারে। সুতির পোশাকই গরমের জন্য আরামদায়ক হবে। তবে রাতে বের হলে অ্যান্ডি, সিল্ক কিংবা মসলিনের পোশাক পরতে পারেন। বৈশাখকে ঘিরে তরুণদের চাহিদার মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, বৈশাখী শার্ট, গামছাসহ কিছু নতুন ও ব্যতিক্রমী প্রসাধন-সামগ্রী। ফতুয়ায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঢোল, একতারার ডিজাইনগুলো এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ও নজরকাড়া। আর সেদিকেই ঝুঁকছেন অধিকাংশ ফ্যাশন সচেতন পুরুষ। পাঞ্জাবির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়টাতে থাকে একটু বেশি। বাঙালি বলে কথা, তাই পোশাকেও থাকতে হবে বাঙালির ঐতিহ্য। আর তাই হাতে হালকা লাল রঙের কাজ, গলা ও পিঠে সাদামাটা লালের ছটায় বর্ণিল পাঞ্জাবিগুলোর চাহিদা বেশি। মোঘল পোশাকের ক্যাটিং বা সেমি-ফিট পাঞ্জাবি বেশি চলছে এবার।

রঙের সঙ্গে কমলা, হলুদ, নীল ও অন্যান্য রঙও ব্যবহার করা হচ্ছে বৈশাখের পোশাকে। তবে কেন্দ্রীয় রঙ লাল-সাদাই রাখা হয়। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূল, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বৈশাখের সব অনুষ্ঠানে দেখা যায় লাল-সাদা শাড়ির বাহার। চুড়ি, টিপ, গহনা, লিপস্টিক এমনকি জুতা, ব্যাগও হয়ে থাকে লাল-সাদা রঙের।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন