আদালতে স্বীকারোক্তি
পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে না পেরে মাকে হত্যা করে মো. আলী

0
মাকে হত্যা করলো এই ছেলে
আপন মাকে কুপিয়ে হত্যাকারী ছেলে মো. আলী।

বড় ভাইয়ের শ্যালীকাকে বিয়ে করাতে রাজি না হওয়ায় নিজের মাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করেছে ছেলেসহ তিনজনে। ঘটনার ১২ দিনের মাথায় ভূজপুর থানা পুলিশ মায়ের খুনি ছেলে মো. আলীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

এ ছাড়া হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটিও (দা) উদ্ধার করেছে। নিহত জয়নব বেগমর ছেলে মো. আলী গ্রেফতারের পর সোমবার রাতে চট্টগ্রামের চীফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হোসেন মুহাম্মদ রেজার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূজপুর থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত বাকী দুজনকে আটকের চেষ্টা চলছে। হত্যাকান্ডের পর থেকে তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্তে কাজ শুরু করে পুলিশ।

আপন মাকে হত্যার সময় তার ছোট খালার প্রেমিক মো. হোসেন ও আবদুর রহীম নামে স্থানীয় এক যুবক সহযোগিতা করেছিল বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে মো. আলী। তারা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই দিবাগত রাতে ভূজপুর থানার ১নং বাগান বাজার ইউনিয়নের মতিন নগর গ্রামের মৃত খুরশিদ মিয়ার স্ত্রী জয়নব বেগম ওরফে জগুন বিবি (৫৩) কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এঘটনার পর নিহতের বড় ছেলে জালাল উদ্দিন বাদি হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামী করে ভূজপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ভূজপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো.হেলাল উদ্দিন জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর বিধবা জয়নব বেগম কে বিয়ে করেন খুরশিদ মিয়ার। তার দ্বিতীয় সংসারে মো. আলী নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

আর জয়নব বেগমের প্রথম সংসারে এক ছেলে জালাল উদ্দিন সহ মতিন নগর এলাকায় তার পৈত্রিক বাড়িতে বসত করতো। এই বয়ষ্ক মহিলার হত্যা কান্ডের ক্লু উদঘাটন করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। কারণ হত্যাকারী নিজেই তার মা খুন হওয়ার খবর সকালে সবাইকে দেয়। লাশ নিয়ে থানায় যায়। থানায় সে প্রথমে মামলার বাদি হতে মত দিলেও পরে অসম্মতি জানায়। ঘটনার দিন থানায় মো. আলীকে একেবারেই স্বাভাবিক দেখা গিয়েছিল । নিজের মাকে খুন করার পর কি ভাবে এত স্বাভাবিক আচরন করেছিল এটিই ভাবিয়ে তুলেছে পুলিশকে।

পরে মামলার এজাহার পরিবর্তন করে তার ভাই জালাল উদ্দিনকে বাদি করে ভুজপুর থানার মামলা নং ৭ তাং ১৪/৭/১৬ ধারা ৩০২/৩৪ দ:বি: রুজু করে।

এর মধ্যে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মো. আলী তার বড় ভাই জালাল উদ্দিনের শ্যালীকাকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু জয়নব বেগম এতে রাজী না হওয়ায় মা-ছেলের মধ্যে ঝগড়া হয়।
এলাকার সুত্র মতে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হয়েছে সন্দেহে যে ধারালো দা উদ্ধার করেছে। এমন একটি ধারালো দা নিয়ে আগের দিন মো. আলীকে এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

অপর দিকে নিহত জয়নব বেগমের ছোট বোন কমলা বিবির সাথে স্থানীয় হোসেন ওরফে হোসাইন্যা নামে এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। কমলা বিবি সৌদি আরবে নারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো।

তাদের এ অবৈধ সম্পর্কে টানে সে সৌদি থেকে কমলা বিবিকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করে। দেশে এসে অবৈধ মেলা মেশা শুরু করে। এতে বাঁধা দেন জয়নব বেগম। পরে হোসেইন্যা কমলা বিবিকে বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করে। শশুর বাড়ির সম্পত্তি নিয়েও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এসব কারণে হোসাইন্যা ক্ষুদ্ধ হয় জয়নব বেগমকে হুমকী ধমকী দেয়। এ কারণে সে বিষয়টি বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুস্তম আলীকে অবহিত করেছিলেন।

ভূজপুর থানার এ উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন আরো বলেন, ঘটনার পর ত্রি-মুখী এসব বিষয় মাথায় নিয়ে ভূজপুর থানার একটি চৌকস টিম অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে হোসাইন্যা ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। প্রথমে তার মুঠোফোন খোলা থাকলেও পরে বন্ধ পাওয়া যায়। খুব কৌশলে ছোট ছেলে মো. আলীর গতিবধি, আচার আচরণ বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে লাগলাম। এর মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেই তার মায়ের হত্যাকান্ডে জড়িত।

ভূজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আলী বলেন, গত রবিবার রাতে বাগান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় নিহতের ছোট ছেলে মো. আলীকে । রাতভর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকা-ের বিস্তারিত জানায় সে। তার স্বীকারোক্তি মতে, হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো একটি দা ঘর থেকে ২০ গজ দূরে পরিত্যক্ত একটি টয়লেটের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়।

এর পর সোমবার চট্টগ্রাম আদালতের চীফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট হোসেন মুহাম্মদ রেজার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এতে তার ছোট খালার স্বামী হোসেন ওরফে হোসাইন্যা, স্থানীয় আরেক সহযোগী জনৈক আবদুর রহিমসহ ৩ জনে মিলে ঘটনার দিন রাত ১২ টার পরে জয়নাব বেগমকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে বলে স্বীকার করে।

কোন মন্তব্য নেই