সিএমপি’র দুই ওসি’র সাথে খুনি ফয়সাল ও মাসুদের কিসের সখ্যতা?

30
ইমন ও ফরিদ হত্যার আসামী ফয়সাল (সাদা গেঞ্জি হলুদ ক্যাপ) ও মাসুদ (মুখে দাঁড়ি) সাথে চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা ও বাকলিয়ার ওসি প্রণব চৌধুরী।

ক্যাবল টিভি’র (ডিস লাইন) সংযোগ দখল নিয়ে দলীয় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নগরীর বাকলিয়ায় প্রকাশ্যে দিবালোকে যুবলীগ নেতা ফরিদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যার দুইদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ খুনের আসামীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ এ খুনের অন্যতম আসামী ফয়সাল ও মাসুদের সাথে রয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের দারুণ সখ্যতা! এমনই প্রমাণ মিলেছে পাঠক ডট নিউজের অনুসন্ধ্যানে।

আমাদের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে দুই দুটি খুনের আসামী জেলখাটা ফয়সালে এবং ফরিদ হত্যার আসামী মাসুদের সাথে দুই ওসির কথাকপোথনের দৃশ্য।

ছবিগুলো যদিও কয়েক মাস আগের হলেও তার পরও প্রশ্ন থাকে ২ বছর আগের খুনের ঘটনায় জেলখাটা খুনের আসামী এবং সন্ত্রাস চাঁদাবাজির অভিযোগে যার নামে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে সে আসামী কিভাবে ওসিদের সাথে সম্পর্ক থাকে?

এখানে দেয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে নগরীর চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর নুরুল হুদা ও বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রণব চৌধুরীর সাথে খুনি ফয়সাল দাড়িয়ে কথা বলছেন পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে।

ওসি নূরুল হুদার সাথে সন্ত্রাসী ফয়সাল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকবাজার থানার ওসি মীর নুরুল হুদা বলেন, এটা এক বছর আগের ছবি। কমিউনিটিং পুলিশের র‌্যালীর। সেখানে ছাত্রলীগের ছেলেরাও অংশ নিয়েছিল। তারা এখন ক্ষমতাসীন দলের নেতা. তাদের সাথেতো কথা বলতে হয়। জামায়াত শিবির হলে অন্য কথা ছিল।

খুনের মামলা আসামীরা কমিউনিটিং পুলিশের সদস্য হয় কিভাবে? এ প্রশ্নে জবাবে ওসি বলেন, আমি জানি না, এটা আমাদের ব্যাপার না। এলাকায় কমিউনিটিং পুলিশের যারা দায়িত্বে আছে তারাই জানবে।

ছাত্রলীগ নেতা হলেও ফয়সাল দুটি খুনের মামলার আসামী (ইমন হত্যা) এ কথার জবাবে ওসি নুরুল হুদা বলেন, ফয়সালের নামে তখন আমার (চকবাজার) থানায় কোন মামলা ছিল না। বাকলিয়া থানায় মামলা ছিল।

এ ব্যাপারে বাকলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী সন্ত্রাসী ফয়সাল ও মাসুদ নামে কাউকে চিনে না উল্লেখ্য করে বলেন, যে কোন অনুষ্ঠানে গেলে অনেকেই তো ছবি তুলে। তখন কে সন্ত্রাসী কে মাস্তান সেটা বিবেচিত হয় না।  কেউ একসময় সন্ত্রাসী, মাস্তান, খুনের আসামি হবে সেটা আমি জানলে তো ছবি তুলতাম না।

উল্লেখ্য গত ২৭ এপ্রিল শুক্রবার ক্যাবল ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র কওে ছাত্রলীগ-যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফরিদুল ইসলাম। এ ঘটনায় আহত হয়েছে নারী শিশুসহ চারজন। এর আগে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ নেতা রাসেলের নেতৃত্বে নগরীর ডিসি রোডের কালাম কলোনীতে ক্যাবল ব্যবসায়ি যুবদল নেতা এমদাদুল হক বাদশা ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফয়সালের অনুসারীদের মধ্যে ক্যাবল ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা শুরু হয়। এমদাদুল হক বাদশার দীর্ঘদিনের ক্যাবল লাইনের প্রায় ৫শ লাইন দখলে নেয় সন্ত্রাসীরা।

.

এ ঘটনায় শনিবার সকালে নগরীর চকবাজার থানায় ফরিদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মুছা, দেওয়ানবাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ও যুবলীগের ফয়সাল, জানে আলম, নবী, ইকবাল, তৌহিদুল আলম, মাসুদ এবং মুরাদসহ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৯ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামীর তালিকায় রাখা হয়।

জানাযায় এ খুনের আগেও যুবলীগ সন্ত্রাসী ফয়সালের নামে আরো একটি খুনের মামলা রয়েছে। ২০১৪ সালে নগরীর ডিসি রোড়ে ইয়াসির আরাফাত ইমন নামে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করেছিল ফয়সাল। মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ০৪ মে সন্ধ্যায় ইমনকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে ৭ মে ইমন মারা যায়। এ মামলায় ১৭ জন আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীর্ট হয়েছে।

এ ঘটনায় বাকলিয়া থানা পুলিশ ফয়সারকে গ্রেফতার করলেও জামিনে বেরিয়ে সে হত্যার নেশায় মেতে উঠে এবং ২৭ এপ্রিল শুক্রবার প্রকাশ্যে গুলি করে যুবলীগ নেতা ফরিদুলকে হত্যা করে।

*ফরিদের খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, মামলার পরও গ্রেফতার করছে না পুলিশ

*বাকলিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ কর্মী নিহত

 

30 মন্তব্য

  1. বাহ খুব সুন্দর সে সি এম পির তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সবাই জানে আর আপনার জানেন না। আপনারা কি বাল ফেলাতে আছেন।

  2. সাংবাদিক সাহেব বাকলিয়া থানার ওসি সম্পর্কে আপনার ধারণা কম। উনি ছ্যাচড়া সন্ত্রাসী পাত্তা দেন না,যার কারনে সদরঘাট থানা থেকে উনার ওপর নাখোশ হয়ে এক এমপি উনাকে ডিবিতে বদলি করে দিয়েছিল। আর ছবির কথা বলছেন,আরে ভাই অনুষ্ঠানে আপনার সাথে অনেকে ছবি তুলতে চাইবে,আপনি কয়জনকে মানা করবেন?!!!!!

  3. পুলিশের আশপাশে এমন সন্ত্রাসী থাকতেই পারে।
    হতে পারে এটা অপরাধ নির্মূলের কৌশল অথবা অপরাধী তেমন বড় মাপের না।
    তবে রাজনৈতিক প্রভাব বলতেও একটা বিষয় রয়েছে ।