মনোজ সেন গুপ্তসহ সিটিভি’র ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

0
.

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় আত্মসাৎ এবং অনুষ্ঠান করতে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মনোজ সেন গুপ্তসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালতে।

বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক মুন্না ফারুক সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে মামলাটি (দুর্নীতি মামলা নং ২২/১৮) দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে দুর্নিতী দমন কমিশন দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে পাঠক ডট নিউজকে জানান, বাদীর আইনজীবি এডভোকেট জামশেদ আলম চৌধুরী।

মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা হলেন, মনোজ সেন গুপ্ত (৬৫) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, সুকুমার বিশ্বাস (৪৫) ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের একান্ত সহকারী, মোঃ মোমতাজ আবেদীন (৬৫) বাদ্যযন্ত্রী (মিউজিক কম্পোজার), উপস্থাপন সম্পাদক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), আশীষ কুমার শীল (৩৮) ক্যামেরাম্যান, বাংলাদেশ টেলিভিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্র।

বাদী আদালতে দেয়া তার অভিযোগে জানান, অন্যান্য শিল্পীদের মতো রুটিন কাজ মোতাবেক প্রোগ্রাম (অনুষ্ঠান) বুঝে নেওয়ার জন্যে ২০১৬ সালের ৬ জুন বিকালে ঘটনাস্থলে সি.টি.ভি কেন্দ্রে যান। ১নং আসামী অপরাপর আসামীগণের সাথে নিজ অফিস পক্ষে বসে খোশ গল্পে মশগুল ছিলেন বিধায় পিয়নকে দিয়ে অফিস সামলাচ্ছিলেন। বাদী বার বার পিয়নকে বলেও ১নং আসামীর সাথে সাক্ষাৎ করতে ব্যর্থ হন। এসময় আসামীর অফিস পক্ষে কয়েকজন নারী প্রবেশ করায় তিনি পিয়নকে দিয়ে বলেন আজ নয় আগামীকাল আসতে নতুবা সন্ধ্যার পরে আসতে। বাদী এতে মনক্ষুন্ন হয়ে আসামীর অফিস কক্ষের পর্দা সরিয়ে ১নং আসামীকে সালাম দিয়ে কথা বলেন। আসামী বাদীকে চিনতে পেরে হেসে অফিসে ঢুকার অনুমতি দেন।

পরে তিনি বাদীকে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপনার সিডিউল এবং সময় (ডিউরেশান) ঠিক করার জন্যে ২নং আসামীর সাথে বসে আলোচনা করতে বলেন এবং তিনি তার লেডি মেহমানদের সাথে গল্প-গুজবে ব্যস্ত থাকেন। বাদী ২নং আসামী সাথে একটি রুমে বসেন। ২নং আসামী একপর্যায়ে বাদীকে বলেন- ”স্যারের (১নং আসামীর) নির্দেশনা মোতাবেক অনুষ্ঠান সাজাতে হবে। মাসে ১ টির বেশী অনুষ্ঠান পবেন না। মাসে ৪টি অনুষ্ঠান (২৫ মিনিটের)
পেতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। মাসে চারটি অনুষ্ঠান পেলে আপনার জনপ্রিয়তা বাড়বে, পরবর্তীতে আপনাকে সংগীত পরিচালক হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হবে”।

বাদী ২নং আসামীর কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে “২নং আসামী বলেন- ”স্যার (১নং আসামী) অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। ”গ” শ্রেণীর শিল্পীকে উচ্চ শ্রেণী এবং নতুন শিল্পীকে তালিকাভুক্ত করণের ক্ষেত্রে উনি যা বলেন তাই করেন। আপনি আমার বলা মতো টাকা না দিলে কোনো অনুষ্ঠান কিংবা একটি গানের সুযোগ ও পাবেন না”। বাদী ২নং আসামীর সহিত কথা বলে অত্যন্ত হতাশ হন এবং বেরিয়ে আসার সময় ৩নং, ৪নং আসামীগণ রুমে প্রবেশ করে বাদীকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চান কি বিষয়ে কথা হচ্ছে। বাদী উক্ত কথার বিষয়-আশয় তাদেরকে বলেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আসামীগণ হঠাৎ করে একাট্টা হয়ে বাদীকে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন। বাদী নিরুপায় হয়ে ১নং আসামীর কক্ষে প্রবেশ করেন।  সকল আসামীগণ বাদীকে সি.টি.ভি তে আসতে নিষেধ করেন। বাদী আসামীগণের এই কথার প্রতিবাদ করলে আসামীগণ বলেন বাদীকে নাকি শায়েস্তা করতে এক ঘন্টাও সময় লাগবেনা। আসামীগণ বাদীকে আরো বলেন- “আমরা সাবেক জি.এম জয়নাল আবেদীন সরকারকে কিভাবে শায়েস্তা করেছি তোমার মনে নেই”? অসহায় বাদী নিজের মান- সম্মান রক্ষার্থে বেরিয়ে আসেন এবং চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী সহ বিশিষ্ট শিল্পী বন্ধুদেরকে বিষয়টি জানান। বাদী এই আসামীগণের হেন অপকর্ম অন্যান্য শিল্পী ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিদের নিকট হতে সংগ্রহ করতে থাকেন।

মৌখিক ভাবে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের নিকট প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে বাদী জানতে পারেন যে, ১নং আসামী দূর্নীতি সহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ১৯৯৮ ইং সালে বি.টি.ভি হতে বহিষ্কৃত হন। ইত্যবসরে ১নং আসামী তার ভয়ঙ্কর সব দূর্নীতির ডালপালা বিস্তার ঘটিয়ে একটি সিন্ডিকেটে রূপান্তরিত করে পরম নিশ্চিন্তে বাংলাদেশ সরকারের অঢেল অর্থ অপচয় করতঃ বেহাত করে নিজ পকেটে নেন। চট্টগ্রাম টেলিভিশনের সময় বৃদ্ধি করা হলে আসামী এবং তার সিন্ডকেটের পোয়াবারো অবস্থার সৃষ্টি হয়। অতালিকাভূক্ত শিল্পীরা নিয়ে টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠান নিয়ে থাকেন। এতে করে আসামীগণ অতিউৎসাহী তরুণদের নিকট হতে অঢেল টাকা উৎকুচ হিসাবে গ্রহন করেন এবং তাদের বিলের সাথে স্বনামে বেনামে ভূয়া বিল-ভাউচার করিয়ে সরকারের কোটি টাকা লোপাট করেন।

কোন মন্তব্য নেই