ভিনদেশী পতাকার সাথে একই খুঁটিতে জাতীয় পতাকা কেন?

0
কামরুল ইসলাম দুলু

জাতীয় পতাকা একটি রাষ্ট্রের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতীক হচ্ছে আমাদের প্রিয় লাল সবুজ পতাকা। কিন্তু আমাদের দেশে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতীক ব্যবহারের বিধি সম্পর্কে জনগণ জানে না কিংবা জেনেও মানে না; অথচ এর ব্যবহারের জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট বিধিমালা।

.

জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০)-এ জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিভিন্ন বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের নিদর্শন। আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বর্তমানে সারা দেশে ভিনদেশী পতাকা উড়াচ্ছে ফুটবল প্রেমিরা। দেখা যাচ্ছে ভিনদেশী পতাকার সাথে একই খুটিতে আমাদের দেশের পতাকাও লাগাচ্ছে! বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে যারা ভিনদেশী পতাকা উড়াচ্ছে তারা মনে করছে ভিনদেশী পতাকার সাথে একই খুটিতে উপরে আমাদের জাতীয় পতাকা লাগালে তা যেন সন্মান দেখানো হবে। যারা খেলা উপলক্ষে ভিনদেশী পতাকা লাগাচ্ছে তা সন্মান করে লাগাচ্ছে না, এটা একটা জাষ্ট আবেগ!

আর আমাদের দেশের পতাকা আবেগের কারণে নয় সন্মানের সহিত লাগাতে হবে। আমাদের দেশের জাতীয় পতাকা লাগানোর অনেক নিয়ম কানুন আছে এবং তা মেনেই পতাকা লাগাতে হবে। অন্য দেশের পতাকার খুটির সাথে আমাদের পতাকা লাগানের কোন নিয়ম নেই! বিদেশি পতাকা বা রঙিন পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকালে বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য স্থান সংরক্ষিত থাকবে। যে ক্ষেত্রে শুধু দুটি ভিন্ন পতাকা থাকবে, সে ক্ষেত্রে ভবনের ডানপাশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করতে হবে এবং দুয়ের অধিক পতাকার সঙ্গে উত্তোলনকালে পতাকার সংখ্যা বিজোড় হলে বাংলাদেশের পতাকা ঠিক মধ্যে থাকবে।

আজকাল খেলার সময়, বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবল, বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রেমীরা বাসভবনে নিজ সমর্থনীয় দেশের পতাকা এমনভাবে ওড়ান, যাতে দেশের জাতীয় পতাকা নিচে পড়ে থাকে। কিন্তু কাজটি বেআইনি। কেননা আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পতাকার ওপরে অন্য কোনো পতাকা বা রঙিন পতাকা ওড়ানো যাবে না।

জাতীয় পতাকা কোনো অবস্থায়ই সমতল বা সমান্তরালভাবে বহন করা যাবে না এবং উত্তোলনের সময় সুষ্ঠু ও দ্রুতলয়ে উত্তোলন করতে হবে এবং সসম্মানে অবনমিত করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত গাইতে হবে এবং যখন জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রদর্শিত হয়, তখন উপস্থিত সবাইকে পতাকার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের এসব বিধি ভঙ্গ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং কেউ ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আমাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং নামানোর ক্ষেত্রে যেহেতু সময় নির্ধারিত থাকে সে হিসেবে এখন ভিনদেশী পতাকার সাথে লাগানো জাতীয় পতাকা লাগানোর কি কোন নিয়ম মানা হচ্ছে? খেলা উপলক্ষে এখন ভিনদেশী পতাকার সাথে লাগানো পতাকাগুলো খুটিতে উড়বে মাসের পর মাস। এ হিসেবে নিয়মবহির্ভূতভাবে লাগানো জাতীয় পতাকার অসন্মান করা হচ্ছে। পতাকার সন্মান জানাতে গিয়ে বরং অসন্মাই করা হচ্ছে। আর সরকারী কোন নিয়মও করা হয়নি যে ভিনদেশী পতাকার সাথে এক খুটিতে দেশের পতাকা লাগাতে হবে।

“পাঠকের কলাম” বিভাগের সকল সংবাদ, চিত্র পাঠকের একান্ত নিজস্ব মতামত, এই বিভাগে প্রকাশিত সকল সংবাদ পাঠক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। তা্ই এ বিভাগে প্রকাশিত কোন সংবাদের জন্য পাঠক.নিউজ কর্তৃপক্ষ কোনো ভাবেই দায়ী নয়।”

কোন মন্তব্য নেই