ঈদে লম্বা ছুটি, সুনসান নীরবতা চবি ক্যাম্পাস

0
.

ইমাম ইমু, চবিঃ

আয়তনে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় । ক্যাম্পাস খোলা থাকলে প্রায় ১২-১৫ হাজার শিক্ষার্থীর পদাচারণায় মুখরিত থাকে চবি ক্যাম্পাস। সকালে শাটলের আওয়াজে এ ক্যাম্পাসের ঘুম ভাঙ্গে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্যাম্পাস যেন রমরমা হয়ে উঠে। শাটল থেকে শিক্ষার্থীরা নামলে যেন মানুষের ঢল নেমেছে।  এ সময় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার,প্রত্যেকটি অনুষদ,কলা ঝুপড়ি, সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, ফরেস্ট্রি,আইইআর ইনস্টিটিউট সহ সব জায়গায় যেন মানুষের সমাগমে ভরে যায়।

কেউ ক্লাসে যায়,কেউ গানের আড্ডায়,কিংবা কেউ যায় সৌন্দর্য উপভোগ করতে,আবার কেউ যায় লাইব্রেরিতে পড়তে। সবমিলিয়ে সারাদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থাকে আনন্দ, গান আর হৈ-হল্লুড় এ মুখরিত।

.

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পুরো ক্যাম্পাসে যেন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ফ্যাকাল্টিগুলো নিস্তব্ধ। রাত্রী নামলেই জনশুন্য লোকালয়ে পরিণত হয় পুরো ক্যাম্পাস। সড়কগুলোতে হাঁটতে গেলে পাহাড়ের গাছগুলো যেন একে অপরের সাথে কথা বলছে।আড্ডা আর গানে মুখরিত থাকার ঝুপড়ির টেবিল-চেয়ার গুলো যেন লোকালয়ের অভাবে খাঁ খাঁ করছে আর দোকানগুলোতে ঝুলছে তালা।

হলে শিক্ষার্থীদের একসাথে খেতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া আর গান গাওয়ার দৃশ্যও আর দেখা যায় না।

.

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই রকম হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ দীর্ঘদিনের ছুটি। গত ২৭ মে থেকে চবি ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বর্ষাকালীন, রমজান, শবে কদর ও ঈদের ছুটি, সবমিলিয়ে টানা ২৮ দিন বন্ধ থাকবে চবি ক্যম্পাস। কাজেই দীর্ঘদিনের ছুটি পেয়ে শিক্ষার্থীরা দলে দলে ছুটেছে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে। ব্যাগ গুছিয়ে ভালোবাসার মানুষের প্রিয়মুখ গুলো দেখতে রওনা হয়েছেন বাড়ির পথে। যেখানে তাদের আপনজনরা তার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে।
তবে আপনজনদের সাথে মিলিত হবার আনন্দ আর প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার বেদনা সব মিলিয়ে চবি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

আবার প্রাণের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে মন চাচ্ছে না অনেকের ।এই প্রতিক্রিয়ায় আমানত হলের এক শিক্ষার্থী ফোরকানুল আলম জানায়, খুব মিস করবো সবুজ পাহাড়ে ঘেরা সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই ক্যাম্পাসকে, মিস করবো বন্ধুদেরও,বাড়ির জন্য মনটা কেমন যেন করতেছে, বন্ধুরা সবাই চলে গেছে বাড়ি।

আবার অনেকে টিউশনির চবলে পড়ে যেতে পারছে না মায়ের কোলে। ক্যাম্পাসের জমিয়ে রাখা গল্পগুলো শুনাতে পারছে না বন্ধুদের। তবে যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা কিংবা অন্যান্য কারণে বাড়ি যেতে পারছে না বা যেতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের দিকেও খেয়াল রাখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে ব্যাপারেও নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। শাটল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তিনটি বাস শহরের নন্দন কানন থেকে আসা- যাওয়া করে। হলের ডাইনিংও চালু রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই