বাস্তবতার নিরিখে কাল্পনিক গল্প
নগরীতে “মোটর বাইক স্টার’দের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান

0
মো. মহসীন

বিয়ের দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও নিঃসন্তান ছিলেন মাহবুব-নাসরিন দম্পতি। উচ্চ শিক্ষিত, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এই দম্পতির জীবনের অপূর্ণতা বলতে এই একটি সন্তানের আকুতি। একটি সন্তানের আশায় তারা সবার কথা-কুকথা শুনেছেন।

মেনেছেন সংস্কার-কুসংস্কার সবই। বিয়ের দীর্ঘ ১৫ বছর অবশেষে পূর্ণতা পায় তাদের সুখের সংসার। তাদের ঘর আলো করে আসে ছেলে সন্তান নয়ন। পোকা কামড় দিবে- তাই সন্তানকে মাটিতে রাখতেন না। বাইরের শব্দে ঘুম ভেঙে যাবে-তাই বাসায় লাগিয়েছেন সাউন্ড প্রুফ গ্লাস। সন্তানের সবকিছুই যেন নিজে দেখতে পারেন তাই তাকে রাখতেন চোখের সামনেই। সন্তানের বয়স বাড়লেও কমেনি বাবা-মা’র এমন আহ্লাদে ভালবাসা। বরং এর সাথে যুক্ত হয় সন্তানের নানা আবদারও।

একমাত্র সন্তান তাই চাহিবামাত্রই দিতে বাধ্য তারা। ফলে যে কোন কিছু চাওয়ার রাত ফুরানোর আগেই পূরণ হতো কাঙিক্ষত সেই চাহিদা। কখনো বাবা বারণ করলে মা দিতেন লুকিয়ে। আবার কখনো মা’র মানা করা সত্ত্বেও আবদার মেটাতেন বাবা। এভাবেই বাবা-মা’র ‘বেহিসেবি’ ভালবাসায় দিন যাচ্ছিল মাত্র সপ্তম শ্রেণিতে পড়া নয়নের। তবে তাদের এমন বেহিসেবি ভালবাসাই যে একদিন তার সন্তানের জন্য কাল হবে তা বুঝেননি ঘুনাক্ষরেও।

.

সন্তানের আবদারের মুখে মোটর সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। গগণবিদারি হর্ন বাজিয়ে, সাপের মতো এঁকেবেঁকে, মরণ গতিতে বাইক চালিয়ে দিন-রাত পাথরঘাটা, জামালখান, কাজীর দেউড়ি, নেভাল দাপিয়ে বেড়াত নয়ন। তার এমন ‘হিরোইজম’ বাহবাও পেত সবার। সেই হিরোইজম দেখাতেই রমজানে নগরীর জামালখানে বাইক ছুটিয়েছিল সে।কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০০ গজ দূরে ছিটকে পড়ে সে। ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নয়ন। একই সাথে নিহত হয় মাহবুব-নাসরিন দম্পতির সব সুখ। তাদের বাসার সামনে এখনও আছে আবদারের সেই বাইক। শুধু নেই নয়নই।এক শখ পূরণেই হরণ হয় তাদের সব সুখ।

.

মাহবুব-নাসরিন দম্পতির এই করুণ কাহিনী শোনার পরই পরিকল্পনা করেছিলাম ঈদের পরপরই ‘বাইক স্টার’দের বিরুদ্ধে অভিযানে নামব। আজ সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাস্তায় নামলাম। সার্বিক সহযোগিতা করল ট্রাফিক বিভাগও। মোট ১২০ টি মোটর সাইকেল যাচাই বাছাই করা হয়। মোটরযান আইনে মামলা করা হয় ৩০ টি। জব্দ করা হয় তিন মোটর সাইকেল। বাকিদের ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিত বাইক না চালানোর শর্তে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোর আড্ডাবিরোধী অভিযানের মতো অব্যাহত থাকবে এই অভিযানও।

প্রিয় অভিভাবক, সন্তানের প্রতি ভালবাসা দেখান। তবে তা যেন কখনোই মাত্রা না ছাড়ায়। না হলে মাহবুব-নাসরিন দম্পতির মতো শোকের প্রস্তুতি নিন আপনিও।

লেখকঃ মো. মহসীন, অফিসার ইনচার্জ
কোতোয়ালী থানা, সিএমপি।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন