চট্টগ্রাম ওয়াসা’র গলার কাঁটা ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইন

1
.

চট্টগ্রাম ওয়াসার গলার কাঁটা ৪০ বছরের পুরোনো পাইপলাইন। আর সেই পাইপ লাইনে চলছে চট্টগ্রাম নগরীতে পানি সরবরাহের কাজ। সেই কাঁটা সরানোর কাজ করার কথা ছিলো কম্পিউটারের। ওয়াসা ওয়াদা করেছিলেন, নগরীর যেকোন স্থানে ওয়াসার পাইপে লিক হলে অফিসে বসেই কম্পিউটারের মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ করে পরবর্তীতে ওই চিহ্নিত জায়গায় গিয়ে সহজেই পাইপ লিক বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ওয়াসা।

আর সেই ওয়াদা বাস্তবায়ন করতেই ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটির (সিওয়াসা) সাথে জাপানের ইউকোগাওয়া সলিউশন সার্ভিস করপোরেশনের চুক্তি স্বাক্ষর করে র‌্যাডিসন ব্লু চিটাগাং বে ভিউর মেজবান হলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল্লাহ। কিন্তু সেই কার্যক্রম ফলপ্রস্যু না হওয়ায়া ওয়াসার ফুটো পাইপলাইনে সরবরাহ হওয়া জীবানুযুক্ত পানি পান করে নগরীর হালিশহরে বেড়েছে জন্ডিসের প্রকোপ। মারা গেছেও কয়েকজন। এ পর্যন্ত জন্ডিসে আক্রান্ত প্রায় প্যেনে তিন শতাধিক। এ ঘটনায় উদ্বিগ মনোভাব এলাকাবাসীর এখনও কমেনি।

এদিকে ওয়াসার এমডির কথার ফলঝুরিও এখনও কমেনি। হালিশহরে পানিবাহিত রোগ জন্ডিসের প্রকোপ দেখা দেয়ার পর চট্টগ্রাম ওয়াসার পানিতে কোনো ধরনের জীবাণু নেই দাবি করে বলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ওয়াসার কর্মকর্তারা। তারপর ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইডিসিআর) কর্মকর্তারা ওয়াসার পানির নমুনা সংগ্রহ করেন।

তাদের সংগৃহীত পানিতে জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। তবে সিভিল সার্জনের এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াসার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। বুধবার জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ওয়াসার পানিতে জীবাণু নেই গণমাধ্যমে এই ধরনের বক্তব্য না দিয়ে পানির পাইপলাইনের কোথাও লিকেজ (ছিদ্র) আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন বলেন, এতোদিন চুপ ছিলাম। সাধারণ জনগণের কথা ভেবে আর চুপ থাকতে পারছি না। ওয়াসার পানিতে সমস্যা আছে। পানির সমস্যা সমাধান না করলে জন্ডিস ও পানিবাহিত রোগের সমাধান করা সম্ভব নয়। ওয়াসাকে বলবো সাংবাদিকদের কাছে পানিতে জীবাণু নেই দাবি না করে হালিশহর এলাকায় যান। এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকার মানুষজন ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ আছে সেটি দেখিয়েছেন। কোথায় লিকেজ আছে তা খুঁজে দেখেন।

সিভিল সার্জনের বক্তব্য নিয়ে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একেএম ফজলুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিভিল সার্জনের বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এই ধরণের বক্তব্য দিতে পারেন না। আমাদের পাঁচটি স্যাম্পলের মধ্যে শুধুমাত্র স্যাম্পলে অ্যারোবিক প্লেট কাউন্ট (এপিসি) একহাজারের মধ্যে ১৩শ’ পাওয়া গেছে। এপিসি’র কারণে কখনো জন্ডিস হতে পারে না। তাই তার বক্তব্য ভিত্তিহীন।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন আরো বলেন, পানিবাহিত রোগ বাড়ার পেছনে হালিশহরের মানুষের দায়ও কম নয়। ভবনে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সেই ভবনের প্রতিটি মানুষ জন্ডিসে আক্রান্ত। কিন্তু তাদের যে পানির ট্যাংক আছে সেগুলো গত ১০ বছরে একবারও পরিস্কার করেনি। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেগুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা দরকার। এছাড়া একটু করে বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা যায়। এসময় টয়লেটের পানি আর খাবার পানি একাকার যায়। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্য বিভাগ হাজারও কাজ করলে কোনো ভালো ফলাফল আসবে না।

ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, হালিশহরে গত মে জুন মাস পর্যন্ত আমরা হিসেব করে দেখেছি হালিশহরে সর্বমোট আড়াইশ’র বেশি বাসিন্দা জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারমধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ লোকজন সুস্থ গেছেন। বাকিটা সুস্থতার পথে রয়েছেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা জন্ডিসে তিনজনের মারা যাওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এদের মধ্যে যে মহিলা বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে মারা গেছেন, আমরা তার পরিবারের সাথেও কথা বলেছি। তিনি জন্ডিসের কারণে মারা গেছেন কিনা আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই। অপরদিকে জন্ডিস পানিবাহিত রোগ হলেও পচা বাসি খাবার খেলেও জন্ডিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আইডিসিআরের গবেষক টিম আমাদের এখানে এসেছেন। ওনারর বিষয়টি অধিকতরভাবে দেখবেন।

তিনি আরো বলেন, জন্ডিস হলে আতঙ্কের কিছু নেই। জন্ডিস এমন রোগ অনেকে কোনো ধরণের চিকিৎসা নেয়া ছাড়াও ভালো যায়। তবে গর্ভবতীদেরে ত্রে একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ জন্ডিসে প্রতি ৫ জন গর্ভবতী মহিলার মধ্যে একজন মারা যান। ইতোমধ্যে জন্ডিসে আক্রান্ত রোগী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছে কিনা জানার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা অবশ্যও গত দুই মাস আগে নগরীর বিভিন্ন রোগ নিরূপনী কেন্দ্রে (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) জন্ডিস আক্রান্তদের ডাটা দেয়ার জন্য চিঠি পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু প্যাথলজি রিপোর্টে যেহেতু রোগীর পুরো ঠিকানা থাকে না, তাই এসব হালিশহরের রোগী কিনা তা আমরা শনাক্ত করতে পারিনি। আমরা বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও চিঠি দিয়েছি।

সিভিল সার্জন আরো বলেন, জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসার প্রথম থেকেই হালিশহরের বাসিন্দাদের সচেতন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা। হালিশহরে ২ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার ট্যাবলেট বিতরণ শেষ হয়েছে। সচেতনতামূলক বিভিন্ন নির্দেশনা সম্বলিত লিফলেট ছাপা হয়েছে ৫০ হাজার। এর মধ্যে ৪৩ হাজার লিফলেট বিতরণ শেষ হয়েছে। এছাড়া ৫০ হাজার ওরস্যালাইনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০ হাজার বিতরণ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে আমরা সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর বড়পোল ও হালিশহর এইচ বহ্মকের ২ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর লেন ওয়াসা পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি। আমরা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নেয়া হাসপাতালগুলো মৃত রোগীদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ কাজ শুরু করেছি। তিনি আরো বলেন, মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ জন্ডিসের কারণ নির্ণয়ে কাজ করছে। চসিকের ৪১টি ওয়ার্ডে ৫৮টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও ৪টি মাতৃসদন হাসপাতাল রয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আসা আইডিসিআরের ডা. আব্দুল্লাহীল মারুফ ফারুকী বলেন, হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। শুধুমাত্র গর্ভবতী মহিলা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগী মারা যান। অন্যান্য ক্ষেত্রে রোগী মারা যাওয়ার সম্ভাবনা এক ভাগ। আমি গত দুমাস আগেও এখানে তদন্ত করতে এসেছিলাম। সরকারি হাসপাতালে ১৭৮ জন রোগী শনাক্ত হলেও কয়েক হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এলাকাবাসীকে অবশ্যই পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে।

ওয়াসার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেছিলেন, কম্পিউটার ডাটা বেইজের মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা কন্ট্রোল করতে জাপানের ইউকোগাওয়া সলিউশন সার্ভিস করপোরেশনের সাথে এ চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পানির অপচয় রোধে যেমনি ভূমিকা রাখবে, তেমনি সমস্যা নিরসনে দ্রুত মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। মূলত নগরীর বাসিন্দাদের ২৪ ঘন্টা নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলী ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (ফেস-২) বাস্তবায়িত হচ্ছে

এর আগে কর্ণফুলী ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট (ফেস-২)্ এ চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অথরিটির (সিওয়াসা) পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফজলুল্লাহ ও জাপানের ইউকোগাওয়া সলিউশন সার্ভিস করপোরেশনের পক্ষে করপোরেট অফিসার হিরোশি অনুকী চুক্তিতে সই করেন।্ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ৪ বছর।

ওয়াসা সূত্রে জানা যায়, মোহরা পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট ও কালুরঘাট আয়রণ রিমোভাল প্ল্যান্টের মাধ্যমে ওয়াসার পানি পুরোনো পাইপলাইনে ওয়াসা ৪০ শতাংশ পানি নগরবাসীকে সরবরাহ করছে। কিন্তু ১ হাজারা ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফূলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলেও নতুন পাইপ লাইন পর্যাপ্ত না হওয়ায় নগরবাসীর পানির দুর্ভোগ কতটুকু কমবে এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ওয়াসার খোদ কর্মকর্তারাই।

ওয়াসা সূত্রে আরো জানা গেছে, নগরীতে পাইপলাইন রয়েছে ৬৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে নষ্ট ৫০০ কিলোমিটার। সূত্রে আরো জানা গেছে, ওয়াসায় চলমান কর্নফূলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নতকরণ ও পয়:নিস্কাশন প্রকল্প, জরুরী পানি সরবরাহ প্রকল্প ও ভ্যান্ডালজুড়ি প্রকল্পের আওতায় ১৫০ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন বসানো হয়েছে। কিন্তু ওয়াসা স্বপ্ন দেখছে, কর্ণফূলি পানি সরবরাহ প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিন ওয়াসার পানি উৎপাদন ৩৫ কোটি লিটার বেশি হবে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে আরো জানা গেছে, বর্তমানে নগরীতে পানির চাহিদা প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন লিটার। কিন্তু এর বিপরিতে পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ মিলিয়ন লিটার।

এদিকে কর্ণফূলী পানি সরবরাহ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপানী সংস্থা জাইকার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৯৯১ কোটি টাকা ও সরকারের রয়েছে ৫০৪ কোটি টাকাও চট্টগ্রাম ওয়াসা দিয়েছে ১৫ কোটি টাকা। তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম প্যাকেজে রয়েছে পানি শোধনাগার প্ল্যান্ট তৈরি, দ্বিতীয় প্যাকেজে পাইপলাইন তৈরি আর তৃতীয় প্যাকেজে জলাধার (রিজার্ভার) নির্মাণ। কিন্তু এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা মাত্র ৩৫ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করেছে।

এদিকে ওয়াসা সূত্রে আরো জানা গেছে, চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নতকরণ ও পয়:নিস্কাশন প্রকল্পটি ওয়াসা দেড় বছর আগে শুরু করেছে। আর ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জরুরী পানি সরবরাহ ও গভীর নলকূপ পূর্নবাসন প্রকল্পের আওতায়নগরীতে ১৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কালুরঘাটে আয়রন রিমোভাল প্ল্যান্টে বসানো হবে ৮টি গভীর নলকূপ ও নগরীর পুলিশ লাইন, হালিশহর, জেলা কারাগার, গরীবুল্লাহ হাউজিং সোসাইটি, আগ্রাবাদ পানওয়ালা পাড়া, লালখান বাজারসহ অক্সিজেন এলাকায় বসানো হবে ৭টি গভীর নলকূপ। আর ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প ও ১ হাজার ৭৮ কোটি মদুনাঘাট প্রকল্পও হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

জানা গেছে, বর্তমানে মোহরা পানি শোধনাগার প্লান্টের আওতায় হালদা নদীর পানি শোধন করে নগরীতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আর কালুরঘাট আয়রন রিমোভাল প্ল্যান্টের মাধ্যমে আয়রনযুক্ত পানি শোধন করেও নগরীতে সরবরাহ করছে ওয়াসা। কিন্তু দুটো প্ল্যান্টে নগরীতে ৪০ শতাংশ ওয়াসার পানি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন নগরবাসী। আবার সেই ৪০ শতাংশ পানিও নগরীতে সব জায়গায় সমভাবে বন্টন হচ্ছেনা। এর কারন পরিত্যক্ত ও পুরোনো পাইপলাইন। তাছাড়াও রয়েছে গেট ভালব এর ম্যানুয়ালি অপারেটিং ।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়াসার এক প্রকৌশলী জানান, , পিডিবি যেমন বিভিন্ন ডিভিশনে কন্টোল রুম থেকে সুইচ টিপে বিদ্যুৎ বন্টন করতে পারে, ওয়াসায় সে সুযোগ নেই। কারন ওয়াসার নীতিমালায় সেটা নেই। তাই পাইপলাইনের সাথে মাটির নীচেই গেটভাল্ব স্থাপন করা আছে। যদি পাইপলাইনগুলোর গেটভাল্বগুলো ওয়াসার মূল কন্ট্রোল রুম থেকে অফ-অন করার সুযোগ থাকত তাহলে ৪০ শতাংশ পানিই নগরীতে সমানভাবে বন্টন হতো।

কিন্তু চট্টগ্রাম ওয়াসার ৫০০ কিলোমিটার পুরোনো পাইপলাইনে নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ, বাকলিয়া, মুরাদপুর, ইপিজেড, পতেঙ্গাসহ বেশিরভাগ এলাকায় পাইপলাইনগুলোর গেটভাল্ব ভাঙ্গা নষ্ট বলে জানা গেছে। যার ফলে ওয়াসার সিকিভাগ পানিও এসব এলাকার বেশিরভাগ জায়গায় পৌঁছায়না।

জরুরী পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী তপন দাশ জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসা যে প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর পানির দূংখ ঘোচবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ওয়াসার গলার কাঁটা পুরোনো ও পরিত্যক্ত পাইপলাইন সরিয়ে নতুন পাইপলাইন নির্মানের সংখ্যা না বাড়ালে প্রকল্প থেকে পানির চাহিদা পূরণ কোনকালেই হবে না বলে তিনি জানান।

প্রথম মন্তব্য

একটি মন্তব্য দিন