সিলেটের মেয়র আরিফের বাসার সামনে সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা নিহত

0
.

সিলেটের নব নির্বাচিত মেয়র আরিফুল ইসলামের বাসায় হামলা ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছেন এক ছাত্রদল নেতা। আহত হয়েছেন আরো দুজন।

আজ শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের দায়ি করেছে।

নিহত ছাত্রদল নেতার নাম ফজলুর রহমান রাজু। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-প্রচার সম্পাদক বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপই বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ মেয়র আরিফুলের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছে। ঘটনার সময় মেয়র আরিফুল নিজ বাসায় ছিলেন।

আহতরা হচ্ছেন জাকির হোসেন উজ্জল ও লিটন। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিসিকের মেয়র হিসেবে আরিফুল হক পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় বিজয় মিছিল নিয়ে বাসার সামনে আসেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এসময় গেটের পাশে অবস্থান নেয়া ছাত্রদলের আরেকটি বলয়ের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে পদবঞ্চিত ছাত্রদলের তিন কর্মী আহত হন। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজু ও উজ্জলের অবস্থা আশংকাজনক। তাদের দু’জনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ ও ছুরিকাঘাত রয়েছে। তবে রাজুর দুই সহকর্মীর দাবি, রাজু বেঁচে নেই। তারা হাসপাতালের অভ্যন্তরে লাশ দেখে এসেছেন।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর গাড়িবহরের সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় তার বাসায় যান ছাত্রদল কর্মী উজ্জ্বল, রাজুসহ তিনজন। আরিফুল হককে বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফেরার সময় তিনজন একই মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। গলির ভেতর থেকে কুমারপাড়া পয়েন্ট সংলগ্ন গলির মুখে আসা মাত্র শাহী ঈদগাহর দিক থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলে কিছু যুবক এসে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা স্টাম্প, দাসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর হামলা করে। তখন এক যুবক সেখানে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। হামলায় গুরুতর আহত তিনজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ফয়জুর রহমান রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

হামলার জন্য ছাত্রদলের রকিব গ্রুপকে দায়ী করেছে ফয়জুরের সর্তীর্থরা।

কোতোয়ালী থানার এসি কাউছার দস্তগীর জানান, গুরুতর আহতদের আইসিইউতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক।

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সংঘর্ষে জড়িতরা পালিয়ে যায়। রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে থাকলেও সংঘর্ষের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন