ত্বকের বলিরেখা বাড়িয়ে দিচ্ছে মোবাইল!

0
.

সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি আমাদের ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করে, এটা আমরা সবাই জানি। তবে এটা জানেন কী? ভরদুপুরের রোদের মতোই চামড়ার ক্ষতি করতে পারে কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা হাতে থাকা স্মার্টফোনের নীলচে আলো! এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন গবেষকরা।

তাদের মতে, ওই নীল আলো মুখে বলিরেখা বাড়ায়, কালচে ছোপ ফেলে হাতে, শিথিল করে গলার চামড়াও।

নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষকের দাবি, ২০ মিনিট কম্পিউটারের সামনে কাজ করা আর রোদে থাকার মধ্যে তফাৎ খুব বেশি নেই। দু’ক্ষেত্রেই সমান ক্ষতি হয় মুখের ত্বকের। একই ক্ষতি করে স্মার্টফোনের নীল আলো।

অনেকেই বেশিরভাগ সময়ে ঘর বা অফিসে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপে ব্যস্ত থাকেন। ওই সব যন্ত্রের নীলচে আলো সূর্যালোকের অতিবেগুনী রশ্মির মতোই ত্বকে কালচে ছোপ ফেলতে পারে। তাতে ত্বকের স্থিতিস্থাপক তন্তু বা কোষ (ইলাস্টিক টিস্যু) নষ্ট হয়। অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়ে মুখে।

চিকিৎসার পরিভাষায় একে ফোটো-ডার্মাটাইটিস বলা হয়। সূর্যের আলোয় মিনিট পাঁচেক থাকলে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটার, মোবাইলের আলো মুখে পড়লেও তেমনই ক্ষতি হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন। তবে দেখা গেছে, যারা দিনের অনেকটা সময় ল্যাপটপের সামনে থাকেন, তাদের মুখের চামড়ায় প্রভাব পড়ছে। ত্বকে মেলানিনের অদলবদলই এর কারণ হতে পারে।

নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে যে, সূর্যের ‘আলট্রাভায়োলেট’ রশ্মির মতোই স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা ট্যাবলেট থেকে নির্গত আলো ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্য দায়ী।

গবেষকদের বক্তব্য, ওই সব যন্ত্র থেকে বের হয় ‘হাই এনার্জি ভিজিবল লাইট’ (এইচইভি আলো)। ওই তরঙ্গমাত্রার আলো সূর্যালোকেও থাকে। তা থাকে ঘরের সিএফএল আলোতেও। রোদে অনেকক্ষণ থাকলে যেমন মুখের চামড়া জ্বলে যাওয়ার অনুভূতি হয়, তেমনটা হয় না ওই নীল আলোয়। কিন্তু, ক্ষতি হয় একই রকম।

গবেষকদের দাবি, অতিবেগুনী রশ্মির থেকে ত্বকের ১০০ ন্যানোমিটার গভীরে পৌঁছতে পারে ‘এইচইভি’ বা নীলচে আলো। এই সব যন্ত্র যোগাযোগ বা বিনোদনের মাধ্যম। তাই সেগুলোর সঙ্গে জড়িত বিপদের কথা অনেকেরই নজরে পড়ে না।

আপাতত নীলচে আলোর প্রভাব রুখতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। সঙ্গে মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় আলো কমিয়ে রাখা উচিৎ।

ত্বকের সুরক্ষায় নীলচে আলোর প্রভাব রুখতে ‘ব্রড স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন’ ব্যবহার করাই ভালো।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন