পোষা প্রাণীর গায়ে ‘টিক’ থাকলে সাবধান!

0
.

বাড়িতে একটা পোষা প্রাণী থাকলে অবসর সময়টা বেশ ভালোই কাটে। শুধু সময় কেন, মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অবসাদ কাটাতেও পোষা প্রাণীরা খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। গ্রামাঞ্চলে অনেকের বাড়িতেই গরু, ছাগল, হাস-মুরগি দেখা যায়। শহরাঞ্চলেও অনেকের বাড়িতেই কুকুর, বিড়াল পরম যত্নে লালিত-পালিত হচ্ছে। যাদের বাড়িতে পোষা প্রাণী রয়েছে, তাদের জন্য এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত জরুরি।

.

একটু ভালো করে লক্ষ করলেই দেখবেন, কুকুর, বিড়ালের গায়ে ছোট ছোট কালচে লাল রঙের এক ধরনের পোকা হয়। এগুলি কুকুর, গরু, ছাগল, বিড়াল ইত্যাদির গায়ে পশমের ফাঁকে বাসা বেঁধে এদের শরীর থেকে রক্ত শোষণ করে বেঁচে থাকে, বংশ বিস্তার করে। চামড়ার সঙ্গে (অনেকটা আঁচিলের মতো) এঁটে থাকে বলেই বাংলায় এই পোকা বা কীট ‘এঁটুলি’ নামেই বিশেষ পরিচিত। ইংরেজিতে এই পোকাগুলোকে ‘টিক’ (Tick) বলে। এটি মাকড়শার শ্রেণিভুক্ত একটি কীট। গ্রাম বাংলার কৃষিজীবী মানুষ এই মাকড়ের সঙ্গে ভালোভাবেই পরিচিত। আর বাড়িতে পোষা কুকুর-বিড়ালের দৌলতে শহুরে বাসিন্দারাও অনেকেই এই পোকার সাক্ষাত পেয়েছেন।

.

সম্প্রতি, ‘অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট’-এ এই ‘টিক’কে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে তাদের ফেসবুক পেজে। এই ভিডিওর মাধ্যমে সামনে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

১৯৯০-এর শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই মাকড়ের কামড় থেকে ছড়ানো লাইম ডিজিজ (ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগ)-এ আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এটি কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কোনো সমস্যা না হলেও তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন, ত্বকের ওপর ক্ষত স্থানটি লালচে হয়ে ফুলে ওঠা, বা গা-হাত-পা ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব ইত্যাদি।

ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এই পোকার কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।

‘টিক’ এর কামড়ে আর্থারাইটিস, ঘাড়ের পেশির কাঠিন্যে বা ব্যথা এমনকি মুখের পক্ষাঘাত পর্যন্ত হতে পারে।

অবশ্য ‘টিক’ বা পোকার কামড়ে আক্রান্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কুকুর, গরু, ছাগল, বিড়ালের মতো লোমশ ঘরোয়া পোষা প্রাণী। স্ক্যাবিসের মতো চর্মরোগও হতে পারে এর কামড়ে। তবে রোয়াঁযুক্ত ফসল যেমন, ঢেঁরস, ভুট্টার চাষের ক্ষেত্রেও এই পোকার দাপটে বিস্তর ক্ষতি হয়।

মূলত বর্ষাকালেই এই পোকার দাপট বৃদ্ধি পায়। এই সময় স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় এটির দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে। বর্ষাকালেই কুকুর, বিড়ালের গায়ে এঁটুলি বা পোকার আধিক্য লক্ষ করা যায়।

‘টিক’ এর প্রকোপ থেকে পোষা প্রাণীকে যেভাবে বাঁচাবেন:

বাজারে অনেক ওষুধ (খাওয়ার) বা স্প্রে রয়েছে যেগুলির সাহায্যে কুকুর, বিড়ালের গায়ের এঁটুলি বা পোকা সহজেই তাড়ানো সম্ভব। তবে ঘর অপরিষ্কার থাকলে বা ঘরের স্যাঁতস্যাঁতে অংশে এই মাকড় বাসা বাঁধতে পারে। ফলে ওষুধ বা স্প্রে থেকে ফল মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

বাড়ি-ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। বছরে অন্তত দুই বার ‘পেস্ট কন্ট্রোল’ করানো উচিত। বাইরে থেকে এসে জামা-কাপড় ভালো করে ঝেড়ে তবে ঘরে ঢুকুন। সম্ভব হলে গোসল করে নিন।

বাড়ির পোষা প্রাণীকে সপ্তাহে অন্তত একবার ভালোভাবে গোসল করান। বিড়ালের ক্ষেত্রে সপ্তাহে একবার ড্রাই শ্যাম্পু দিয়ে সারা শরীর ব্রাশ করে দিন।
প্রতিদিন অন্তত একবার করে আপনার পোষা প্রাণীকে ভালো করে ব্রাশ করুন।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে নিজেকে এবং আপনার পোষা প্রাণীকে ‘টিক’ বা পোকার হাত থেকে সারা বছর সহজেই বাঁচাতে পারবেন। তবে বর্ষার সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। তা সত্ত্বেও এই পোকার দাপট যদি না কমে, সেক্ষেত্রে নিকটবর্তী প্রাণী চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন