নগরী জুড়ে গণগ্রেফতার, আত্নগোপনে বিরোধী নেতাকর্মী

1
আটক জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের কয়েকজন।

আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন ও সরকার বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরী জুড়ে গ্রেফতার অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন বাসা-বাড়ী ও মেসে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের। এতে করে চরমভীতি বিরাজ করছে সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে। গ্রেফতার এড়াতে ইতোমধ্যে আত্নগোপনে চলে গেছে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিরাতেই নগরীর বিভিন্ন থানার বিএনপি-জামায়াতের চিহিৃত নেতাকর্মীদের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। প্রতিদিন ২০-৩০ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশ মূলত সেই সব নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ীতে তল্লাশী চলাচ্ছে যাদের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে রাজনৈতিক মামলা্ দায়ের করা হয়েছিল। অথবা কোন রাজনৈতিক মামলা আগে গ্রেফতার হয়েছিল এমন নেতাকর্মীদের টার্গেট করছে প্রশাসন।

জানা যায়, বিভিন্ন বাসায় অভিযান চালিয়ে পিতাকে না পেয়ে সন্তানকে আবার সন্তানকে না পেয়ে পিতাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গতাকাল শুক্রবার রাতে নগরীর আকবরশাহ থানার বিশ্ব ব্যাংক কলোনীর থানা বিএনপির নেতা মীর জাহাঙ্গীরকে বাসায় না পেয়ে তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে ফয়সালকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ এমন অভিযযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

পতেঙ্গা থানা পুলিশ গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে ৭ জন বিএনপি ও জামায়াত শিবিরে কর্মীকে আটক করেছে।  এর মধ্যে কোন মামলা ও অভিযোগ ছাাই পতেঙ্গা ইসলামিয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল জানে আলমের দুই পুত্র বকতিয়ার ও রাশেদ বেলালকে আটক করে নিয়ে যায়।

এছাড়াও গতকাল রাতে নগরীর চন্দনপুরা শিবিরের অফিসে তল্লাশী চালায় পুলিশ। গতকাল রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক বিএনপি-জামায়াত ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। অনেক বিএনপি নেতার বাড়ীতে অভিযান চালানোর অভিযোগ করেছে দলটির মহানগর নেতারা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদাত হোসেন পাঠক ডট নিউজকে বলেন, সরকার ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারীর ন্যায় আরেকটি নীল নকশার নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা ২০১৪ সালে যেভাবে ধারপাকড় করে ছিল ঠিক সেইভাবে এখন গণগ্রেফতার করছে। সরকার বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করো বিএনপির নির্বাচনী ভীত দুর্বল করে আরেকটি নীল নকশার নির্বাচনের পায়তারা করছে।

জানতে চাইলে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর পাঠক ডট নিউজকে বলেন, সরকার বিএনপির আন্দোলনে ভীত হয়ে গণগ্রেফতার চালাচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ীতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতার করেছে সাধারণ মানুষসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের। এপর্যন্ত আমাদের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর উত্তর ছাত্রশিবিরের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখন কোন আন্দোলন সংগ্রাম নেই, কোন কারন ছাড়াই আমাদের নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়াী,মেসে ও অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।  নেতাকর্মীদের পরিবার পরিজনকে হয়রানি করছে। আমাদের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। গত এক সাপ্তাহে শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, আমাদের একজন কর্মী আজ পরীক্ষা ছিল। তাকে গতকাল রাতে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ।  অফিস বন্ধ কালীন সময়ে রাতের অাধারে হীন উদ্দেশ্যেই নাটক সাজানোর জন্যই এই অভিযান পরিচালনা করেছে।অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী সরকারের আজ্ঞা পালন করতে গিয়ে পুলিশ দেশের স্বাভাবিক পরিবেশকে অস্হীতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।ছাত্রশিবির দেশের প্রচলিত আইনের বিরোধী বা নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। ছাত্রশিবির দেশের আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হয়ে তার নিয়মতান্ত্রিক জনকল্যাণ ও গঠনমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

গ্রেফতার বিষয়ে নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, পুলিশ কোন কারন ছাড়াই আমাদের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করেছে। প্রতিদিন বাসা-বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে পরিবারের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করছে। পুলিশি অভিযানে ঘরে থাকতে পারছেনা অনেক নেতাকর্মী।

তিনি আরো বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে সরকার পুলিশ দিয়ে মোকাবেলার চেষ্টা করছে। যতই গ্রেফতার করুক নির্যাতন করুক আগামী দিনে আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারের পতন হবে।

তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মাহাবুবুর রহমান এ অভিযানকে গণ গ্রেফতার বলতে নারাজ। তিনি পাঠক ডট নিউজকে বলেন, এটা গণ গ্রেফতার না। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গতকাল রাতে শিবিরের কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপনি গত এক সপ্তাহ আগে দেখেন এবং কোর্টে খবর নিয়ে দেখেন প্রতিদিন কত গ্রেফতার হচ্ছে..? গণ গ্রেফতার হলে তো সাধারণ মানুষ আটক হতো। এখনতো কোন সাধারণ মানুষ আটক হচ্ছে না।