পূজা কমিটির নেতৃত্বের বিরোধেই পাহাড়তলীতে খুন হয় হিন্দু যুবক বিশু কুমার

0
.

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে গঠিত কমিটির নেতা হতে না পেরে নেতৃত্বে কোন্দলে খুন করা হয়েছে পূজা কমিটির অর্থ সম্পাদক বিশু কুমার ধরকে।  বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা রোড় শিববাড়ি এলাকায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় বিশু কুমার ধরকে।

এ ঘটনায় জড়িত শিমুল ধর বাবুকে (৩০) একজনকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকালে পাহাড়তলী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় পুলিশ কর্মকর্তারা।  হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি বুধবার নগরীর তামাকুমণ্ডি লেইন থেকে ৫০০ টাকায় কিনেছিলেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন গ্রেফতারকৃত শিমুল।

পাহাড়তলী থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ পাঠক ডট নিউজকে বলেন, গোপনে খবর পেয়ে শুক্রবার ভোরে খুলশী থানাধীন চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে শিমুলকে গ্রেফতার করি।  পরে তার স্বীকারোক্তিতে হত্যাকান্ডে ব্যবহ্নত রক্ত মাখা ছুরি ও রক্তাক্ত জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার করা হয়।

.

জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল আমাদের কাছে স্বীকার করেছে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দক্ষিণ কাট্টলী বণিকপাড়া পূজা কমিটির সভাপতি হতে আগ্রহী ছিল রাজীব কুমার ধর।  গত ঈদুল আযহার পর ওই পূজা কমিটি গঠনের সভা হয়। সেখানে শিমুলের আপত্তির মুখে রাজীবকে সভাপতি করা হয়নি। সভাপতি হন বিটু ধর নামে অন্য একজন। এতে রাজীব ও বিশু শিমুলের উপর ক্ষুব্ধ হন। মূলত এসব বিরোধ নিয়ে বিশুকে হত্যা করেছে বলে জানায় শিমুল।

ওসি আরো বলেন, যে ছোরা দিয়ে বিশু কুমার ধরকে খুন করা হয়েছে সেটি তিনদিন আগে শিমুল বাজার থেকে কেনেন। এতে বোঝা যায়, হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। শিমুল বিশুর গলায় ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। আমরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করেছি।

 গ্রেফতারকৃত শিমুল দক্ষিণ কাট্টলী বণিক পাড়া এলাকার মৃত গোপাল কৃঞ্চ ধরের ছেলে।  সে একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক।

উল্লেখ্য-বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা শিববাড়ি মোড়ে রাস্তায় বিশু কুমার ধরকে (২৮) এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়। বিশু ছিলেন পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক।

বিশু কুমার ধরকে খুনের ঘটনায় তার বাবা মিলন কুমার ধর বাদী হয়ে নগরীর পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন