লাগেজ নিয়ে টানাটানি, দালালদের উৎপাত
বেনাপোল চেকপোষ্টে যাত্রীরা হয়রানীর শিকার

0
.

বেনাপোল থেকে ফিরে কামরুল ইসলাম দুলুঃ

ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা ও দেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর, আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেকপোষ্ট বেনাপোল। এই চেকপোষ্ট দিয়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যান চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে। সে কারণে বেড়েছে সরকারের রাজস্ব আয় কিন্তু নানা অনিয়ম ও অব্যাবস্থাপনার কারণে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

কাষ্টমস ইমিগ্রেশনে চেকিং-এ যাত্রীর সেবার মানের বিষয়টি পদে পদে হয় উপেক্ষিত। হয়ারানী ও লাঞ্চিত হওয়াসহ পাসপোর্ট যাত্রীদের বাড়তি অর্থ গুণতে হয় অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই পড়তে হয় হয়রানীর মুখে। সময় ও দুর্ভোগের কথা ভেবে অনেকে কর্তৃপক্ষের অনেক অনৈতিক সুবিধা দিয়ে দ্রুত পার হন।

অলিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের ধার্যকৃত অনৈতিক অর্থ দেয়া নিয়েও তেমন কোন অভিযোগ নেই যাত্রীদের। বিপত্তি ঘটে তখনি যখন ধার্যকৃত অর্থের বাইরে মোটা অংকের অর্থ চেয়ে বসেন চেকিং-এ কর্মরতরা এমনটিই জানালেন ভারত ফেরত অনেক যাত্রীরা। তাদের দাবি নামতে অস্বীকৃতি জানালে নেমে আসে চেকিং-এর নামে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড় করিয়ে রেখে তল্লাসী। এদিকে এখানে গড়ে ওঠেনি যাত্রী সেবায় সুন্দর কোনো অবকাঠামোও।

.

দেশে বিদেশ থেকে আসা রোগী পর্যটক, ব্যাবসায়ী চাকুরীজীবীসহ ভ্রমন পিপাসু মানুষ বেনাপোলে এসে হন নাজেহালের শিকার। এখানে আইনশৃংখলা বাহিনীর সামনেই প্রকাশ্যে চলছে দালালদের উৎপাত। এছাড়া যাত্রীদের লাগেজসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে চলে টানা হেছড়া। ঢাকা থেকে ৩৬৫ কিলোমিটার বেনাপোল।

ভারত ভ্রমন শেষে বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারতীয় ইমিগ্রেশন,কাস্টসের কার্যাদী শেষ করে ল্যাগেজ নিয়ে নো-ম্যান্সল্যান্ডে আসলে বিএসএফ সদস্যরা প্রায়ই বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের ল্যাগেজ সহ ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

তাদের কে চোরাচালানী হিসেবে মামলা দেয়ার ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়। এ সকল বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও বিজিবি কোন বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না।

বেনাপোল চেকপোষ্টে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানী বন্ধে ভারতীয় দূতবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে ভূক্তভোগী পাসপোর্ট যাত্রীরা।

ওখান থেকে ভারতের পশ্চিম বাংলার বাণিজ্য শহর কলিকাতার দুরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা সড়ক পথে যাতায়াত করলে সময় যেমন কম লাগে তেমনি ও যাতায়াত খরচও হয় কম। সে কারণে বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়েই মানুষ ভারতে বেশি যাতায়াত।

এরপর বিজিবি আমড়াখালি চেকপোষ্টের সুবেদার মিজানুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের উপরের নির্দেশ আছে বৎসরে একজন পাসপোর্টযাত্রী ৩ বার ৪ শত ডলারের পণ্য আনতে পারবে। আর যে সব পণ্য আমরা জব্দ করছি তা মালিকবিহীন করা হচ্ছে। পাসপোর্ট প্যাজেঞ্জারদের এসব পণ্য কাষ্টমস শুল্ক গুদামে জমা করা হয় বলে তিনি জানান।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন