বাপ কা বেটা....
বাবা ওয়াহিদুল আলমের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতিতে শাকিলা

0
ব্রেকিং নিউজ
  •                 
.

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। একইসাথে চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য। হাটহাজারী আসনে চার দফায় সংসদ সদস্য ছিলেন তার বাবা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম। আগামী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ আসন (হাটহাজারী ও সিটির ১ ও ২ ওয়ার্ড) থেকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানিয়েছেন ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তিনি সাংসদ পদে এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান।

অন্যদিকে হাটহাজারী বিএনপিও রয়েছে বেকায়দায়। আর তার জের ধরেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতায় পড়তে পারে বিএনপি। কারন রয়েছে একাধিক প্রার্থী। তাদের সবাই মনোনয়ন প্রত্য্শাী। এক সময়ে বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত ছিল চট্টগ্রামের এ আসনটি। কিন্তু গত ২০০৮ নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থীর কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের সেই ঘাঁটি। আগামী নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বড় ধরনের কোন সংকট তৈরি না হলে বিএনপি পুনরায় আসনটি ফিরে পাবে-এমন ধারণা বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।

.

জানা যায়, শাকিলা ফারজানা দেশে ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করেছেন। পরে লন্ডন থেকে অর্জন করেন ব্যারিস্টার অ্যাট ল’ ডিগ্রি। ‘জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত’ এ আইনজীবী জামিনে কারামুক্তির পর থেকে তার নিজ এলাকা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ঢাকায় থাকলেও সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন তিনি হাটহাজারীতে অবস্থান করছেন। এলাকায় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকের পাশাপাশি দলীয় নানা কর্মসূচির আয়োজন করে তাতে অংশও নিচ্ছেন।

জঙ্গি অর্থায়নে’র অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শাকিলাসহ গ্রেফতার হন তিন আইনজীবী। শহীদ হামজা ব্রিগেডের সামরিক কমান্ডার ডনের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। তারপর জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান শাকিলা। এর আগে আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে হাইকোর্টে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও নিজ এলাকায় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না ব্যারিস্টার শাকিলা। এবার কারাগার থেকে বের হওয়ার পর এলাকায় পুরোদমে দলীয় কর্মকান্ডে মনোনিবেশ করেছেন তিনি।

শাকিলা ফারজানা নিজের অভিব্যক্তির কথা জানাতে গিয়ে পাঠক ডট নিউজকে বলেন, দলের জন্য আমার বাবা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের ত্যাগ ও অবদান অপরিসীম। এর আগেও চার দফায় নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি নির্বাচনে গেলে হাটহাজারী আসনে দল থেকে প্রথমে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

.

তবে দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, ব্যারিস্টার শাকিলার রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশকে নিরীক্ষা করা হবে। পিতার পথ ধরে যদি তিনি এলাকায় যথেষ্ট সাড়া জাগাতে পারেন তাহলে মনোনয়নের পাল্লা তার দিকে ঝুঁকবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম চলতি বছরের ১৮ মে আলম মারা যান। রাজধানীর ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোর মৃত্যু হয়। ওয়াহিদুল আলমের বয়স হয়েছিল ৭৩। তার দুই মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও ব্যারিস্টার আকলিমা ফারজানা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

সৈয়দ ওয়াদিদুল আলম ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর তিনি এই দলে যোগ দেন। তিনি হাটহাজারী উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি তিন দফা জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ।২০০৮-০৯ মেয়াদে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করা ওয়াহিদুল আলম দলের গত কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন।

.

সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম স্মরণে আয়োজিত শোক শোক সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীদের মুক্তির জন্য আরো ইস্পাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়া ছাড়া এদেশে আর জাতীয় কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তার মতে, সেনাবাহিনী ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ওয়াাহিদুল আলমের মতো দলের প্রতি অনুগত নেতা রাজনৈতিক অঙ্গনে আর জন্মাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়াহিদুল আলমের দুঃখ একটাই, মৃত্যুকালে তিনি নেত্রীকে মুক্ত দেখে যেতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, ওয়াহিদুল আলম মানুষকে ভালবাসতেন। মানুষের সাথে সহজে মিশে যেতে পারতেন। মানুষকে আপন করে নেওয়ার মত তার অসাধারণ গুণ ছিল। শিক্ষার প্রতি সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের অপরিসীম দরদ ছিল। তাই তিনি এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখানে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে এলাকার অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ হয়েছে।

ব্যারিষ্টার শাকিলা ফারজানা জানান, বাবার রেখে যাওয়া অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করবেন তিনি। কারন তার বাবা মৃত্যুর আগে সবসময়ই বলে গেছেন হাটহাজারীর দায়িত্ব তিনি আমার কাছে দিয়ে যেতে চান। বাবার আদর্শকে উজ্জ্বল করতে হাটহাজারীবাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান শাকিলা ফারজানা।

তিনি আরো জানান, তার বাবা বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তিনিও এখন তাই। তাই যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয় তিনি নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছেন।

মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ পদে নির্বাচিত হলে দলীয় কোন্দল নিরসনে তার ভূমিকা কি থাকবে এ প্রশ্নের জবাবে শাকিলা ফারজানা জানান, বিএনপি একটি বড় দল। আর যেকোন বড় দলেই কোন্দল থাকবেই। তবে তিনি কোন কোন্দলে না জড়িয়ে দলের জন্য কাজ করবেন।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আগে থেকে এখানে মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও তার পুত্র মীর হেলাল এবং বিজিএমইএ নেতা চাকসু জিএস এসএম ফজলুল হক আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের আশায় কাজ করছেন। বিএনপিপন্থি জোটের পক্ষে কল্যাণ পার্টির নেতা মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও হাটহাজারী থেকে সামনের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে পিতার উত্তরাধিকার নিয়ে ব্যারিস্টার শাকিলার আগমন বিএনপির রাজনীতিকে আরও জটিল ও উত্তেজিত করবে বলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীর অভিমত।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম হাটহাজারী ৫ আসন চট্টগ্রাম সংসদীয় আসন হল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি। এটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত জাতীয় সংসদের ২৮২নং আসন। এ আসনটি চট্টগ্রাম জেলার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১ ও ২ নং ওয়ার্ড এবং হাটহাজারী উপজেলা নিয়ে গঠিত।

কোন মন্তব্য নেই