মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলায় ২ জনের ফাঁসির রায়

0
.

নরসিংদীর শিবপুরের বিরাজনগরের জমি জায়গা নিয়ে বিরোধের জের ধরে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই হত্যা মামলায় সৎভাই সহ দুই জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মো. মনির কামাল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় অপর একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আব্দুল হাইয়ের সৎ ভাই জাকির হোসেন এবং আমজাদ হোসেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আব্দুল মান্নান নামে আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকেই ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে সবাইকে আরও ৬ মাসের কারাভোগ করতে হবে।

এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. শাহিন, জাহাঙ্গীর আলম ও রফিক নামে তিন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মাহবুবুর রহমান আর তাকে সহযোগিতা করেন মেহেদী হাসান ও আবু হানিফ। আসামিপক্ষে ছিলেন গোলাম মোস্তফা খান ও আফানুর রহমান (রুবেল)।

গত ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ রাত ৯টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বিরাজনগর বাজার থেকে নিজ এলাকার শিশু মিয়াকে সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথের মধ্যে এলিট মেহেদীর বাগানবাড়ীর সামনে পৌঁছালে পৈত্রিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আব্দুল হাইয়ের সৎ ভাই জাকির হোসেন আমজাদ, মান্নান ,শাহীন, জাহাঙ্গীর ও রফিকদের নিয়ে ধারালো চাপাতি ও ছোড়া দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক রক্তক্ত ও জখম করে।

শিশু মিয়া ও ভিকটিমের ডাক-চিৎকারে লোকজন আসতে থাকলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর আব্দুল হাইকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি ৩ আসামির নাম বলেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে রিমন মিয়া শিবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামি আমজাদকে গ্রেপ্তার হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারী আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। ২৮ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটির বিচারকাজ চলাকালে আদালত চার্জশিটভুক্ত ২২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন