সারাদেশে ধানের শীষের প্রার্থী ২৯৮ , বিএনপির ২৪২

    0
    ব্রেকিং নিউজ
    •                 

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সারা দেশে মোট ২৯৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    তাদের মধ্যে ২৪২ জন বিএনপির দলীয় প্রার্থী, ১৯ জন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ও ৩৭ জন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী। তবে ২০ দলের অন্যতম শরিক এলডিপির অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ‘ছাতা’ নিয়ে ভোটে লড়বেন।

    দল ও জোটের ২৯৮ জনের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে রবিবার (৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব বরাবর চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

    ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে গণফোরামকে ৭টি, জেএসডিকে ৪টি, নাগরিক ঐক্যকে ৪টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে ৩টি আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপির জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভুক্ত শরিক দলগুলো ১৯টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

    অন্যদিকে ২০ দলীয় জোট শরিকদের মধ্যে এলডিপিকে ৫টি, খেলাফত মজলিশকে ২টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ৩টি, জাতীয় পার্টিকে (কাজী জাফর) ২টি, বিজেপিকে ১টি, কল্যাণ পার্টিকে ১টি, এনপিপিকে ১টি, লেবার পার্টিকে ১টি, পিপিবিকে ১টি করে আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

    বিএনপির ২০ দলীয় জোটের এই শরিকরা ১৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এদের মধ্যে এলডিপির চার নেতা ধানের শীষ প্রতীক নিলেও দলটির চেয়ারম্যান অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ভোট করবেন নিজের দলের প্রতীকে।

    ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে নিবন্ধনহীন জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি আসন ছেড়ে দিচ্ছে বিএনপি। ইসিতে দেয়া তালিকায় জামায়াতের দলের নাম বিএনপি লেখা হয়েছে।

    ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী যারা:
    গণফোরাম: সুব্রত চৌধুরী (ঢাকা-৬), মোস্তফা মহসিন মন্টু (ঢাকা-৭), এএইচএম খালেকুজ্জামান (ময়মনসিংহ-৮), রেজা কিবরিয়া (হবিগঞ্জ-১), অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ (পাবনা-১), আমসাআ আমিন (কুড়িগ্রাম-২), সুলতান মো. মনুসর আহমেদ (মৌলভীবাজার-২)।

    জেএসডি: আ স ম আবদুর রব (লক্ষ্মীপুর-৪), আবদুল মালেক রতন (কুমিল্লা-৪), শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন (ঢাকা-১৮), সাইফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-৩)।

    কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ: কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী (টাঙ্গাইল-৮), লিয়াকত আলী (টাঙ্গাইল-৪), ইকবাল সিদ্দিকী (গাজীপুর-৩), মনজুরুল ইসলাম (নাটোর-১)।

    নাগরিক ঐক্য: মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), এস এম আকরাম (নারায়ণগঞ্জ-৫), শাহ রহমত উল্লাহ (রংপুর-১), নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর (বরিশাল-৪)।

    ২০ দলীয় জোট শরিকদের প্রার্থী যারা:
    এলডিপি: চট্টগ্রাম-১৪ আসনে অলি আহমেদ, চট্টগ্রাম-৭ আসনে মো. নুরুল আলম, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।

    বিজেপি: ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।

    কল্যাণ পার্টি: চট্টগ্রাম-৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।
    খেলাফত মজলিশ: হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমেদ আবদুল কাদের ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন।

    জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শাহিনুর পাশা, হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল বাসিদ আজাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস।

    জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর): গাইবান্ধা-৩ আসনে টিআই ফজলে রাব্বী, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন।

    এনপিপি: নড়াইল-২ আসনে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।
    পিপিবি: রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান।
    লেবার পার্টি: পিরোজপুর-২ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

    জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী যারা:
    ঢাকা-১৫ আসনে ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনে মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী, বাগেরহাট-৩ আসনে আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাইট-৪ আসনে আবদুল আলীম, যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মো. সাহাদাত হোসেইন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিউর রহমান, পাবনা-৫ আসনে ইকবাল হোসেইন, রংপুর-৫ আসনে গোলাম রাব্বানী।

    তবে জামায়াত নেতাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে নাজিব মোমেন পাবনা-১ আসনে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়বেন। যদিও পাবনা-১ আসনে গণফোরামের হয়ে ধানের শীষে প্রার্থী রয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈয়িদ।

    এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোট মিলিয়ে ২৭২ জনকে নৌকা প্রতীক দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এই প্রার্থীদের মধ্যে ২৫৮ জন আওয়ামী লীগের নেতা আছেন। বাকিরা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর। তাদের বাইরে জোট শরিক জেপির দুজন নিজস্ব প্রতীকে ভোট করবেন। মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির জন্য এবার ২৯টি আসন ছেড়েছে আওয়ামী লীগ।

    কোন মন্তব্য নেই