চট্টগ্রাম-১৫, শামসুল ইসলামকে বিজয়ী করতে বিএনপি-জামায়াত একাট্টা

0
.

চট্টগ্রাম-১৫ সংসদীয় আসন সারাদেশের জামায়াতের রিজার্ভ আসন হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে জামায়াতের রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান। রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এই আসনে এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দী মাওলানা আ.ন.ম শামসুল ইসলাম।

এক সময়ে জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিগত ১০ বছর বিভিন্ন হামলা-মামলার কারনে এলাকা ছাড়তে হয়েছে জামায়াত-বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী। তবে যে কোন মূল্যে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে জেতাতে ঐক্যবন্ধ হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, চট্টগ্রামের সংসদীয় আসন-১৫ লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া উপজেলার আংশিক নিয়ে গঠিত এই আসনে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর ২০১৪ সালে বিজয়ী হয় আওয়ামীগ প্রার্থী। সেই নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত অংশ গ্রহণ না করায় এই আসনে শক্ত কোন প্রার্থী ছিলোনা।

এই আসনে জামায়াত-বিএনপির রয়েছে ব্যপক জনপ্রিয়তা ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন তৎকালীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির কর্নেল অলি ও জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী দুইজনই চারদলীয় জোটের প্রার্থিতা হতে চান। তখন সারা দেশের একমাত্র এই আসনেই ধানের শীষ নিয়ে কর্নেল (অব.) অলি আহম ও দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচন করেন জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান চৌধুরী।

সেই বার কর্নেল অলি ও নোৗকা প্রতীকের প্রার্থী প্রয়াত শিল্পপতি আলহাজ্ব জাফর আহমদ চৌধুরীকে পরাজিত করে সংসদ নির্বাচিত হন জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী। ২০০১ সালের পর থেকে এই এলাকার জামায়াত-বিএনপির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি। এই আসনে কেন্দ্র করেই বিএনপি ত্যাগ করেন কর্নেল অলি আহমেদ।

.

জামায়াত-বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে বর্তমানে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন জামায়াতের নেতা মাওলানা শামসুল ইসলাম। তাই এই আসনে এতো দিন বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে কিছু দূরত্ব থাকলেও দলীয় প্রতীককে জেতাতে মরিয়া বিএনপি। তাই সরকারি দলের সকল বাঁধা-বিপত্তি পেরিয়ে জোট প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজয়ী করার কথা বললেন বিএনপির নেতারা।

জানতে চাইলে দক্ষিন জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন চাওয়া নাজমুল মোস্তফা বলেন, আমি বিএনপি অথবা ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন পাবার লক্ষে অনেক কাজ করেছি। তবে দেশনায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দিয়েছেন বিনা বাক্য ব্যয়ে আমরা তার হয়ে নির্বাচনে কাজ করে যাব। এ লড়াইয়ে জিততে হবে।

তিনি আরো বলেন, সারাদেশের ন্যায় আমাদের এলাকায়ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে বাঁধা দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। আমরা বিএনপির সবাই একটি বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করা। আমরা সবাই ৩০ তারিখ মাঠে থাকবো। জোট প্রার্থীকে জেতাতে জীবনবাজি রেখে কাজ করবো আমরা।

জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন পাঠক ডট নিউজকে বলেন, আমাদের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া বিএনপির ঘাঁটি। এখানে আমরা জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। এটি আমাদের আন্দোলনের অংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিব চেয়ারম্যান পাঠক ডট নিউজকে বলেন, আমরা আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন করছি। দেশের স্বার্থে,গণতন্ত্রের স্বার্থে আমরা নির্বাচন করছি। প্রশাসন প্রতিটি এলাকায় ব্যপক ধরপাকড় শুরু করেছে। আমরা এলাকা যেতে পারছিনা। গণসংযোগ করতে পারছিনা। তারপরও আমরা জোটের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক সংসদ শামসুল ইসলামকে বিজয়ী করবো। আমরা ঘরোয়া মিটিং করছি। আমাদের প্রতিটি এলাকার নেতাকর্মীরা একযোগে মাঠে নামবে। যে কোন প্রকারে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করবোই।

জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আপনারা কেমন ভূমিকা রাখবেন জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাতকানিয়া উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুন নাঈম পাঠক ডট নিউজকে বলেন, আমি চট্টগ্রামে -১৪ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু পাইনি। তাতে আমার কোন দু:খ নেই কারন এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন হচ্ছে। দল বা জোট যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তাকে বিজয়ী করতে কাজ করবো।মাওলানা শামসুল ইসলাম জামায়াতে প্রার্থী নয় তিনি ধানের শীষের প্রার্থী। দেশনেন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনিত প্রার্থী। আমার জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধ।

সাতকানিয়া উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহীম চৌধুরী বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা শামসুল ইসলামকে লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার জনগণ ২০০৮ সালের মতো আবারও বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন বলে আমরা আশাবাদী। ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী জনতার দুর্গ ও পীর আওলিয়ার আবাসভূমিতে ইসলামী ব্যক্তিত্বকেই বিজয়ের মুকুট পরাবে জনগণ ইনশাআল্লাহ।

দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জাফর সাদেক বলেন, জামায়াত প্রার্থী মাওলানা শামসুল ইসলাম সরকারের দেয়া বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তিনি কারাবন্দিবস্থায় নির্বাচন করবেন।

তাঁকে তথা ধানের শীষ প্রার্থীকে জিতাতে সাতকানিয়া লোহাগাড়ার বিএনপি জামায়াত ঐক্যফ্রন্টসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছেন।

কিন্তু প্রশাসনের এক চোখা দমন নিপীড়ন হামলা, মামলা গ্রেফতার এবং নির্বাচনী প্রচারে বাঁধার করণে ঠিক মত গণ সংযোগ করতে পারছে না বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউপি সদস্য ও এলডিপি নেতা মোহাম্মদ পেয়ার বলেন, ২০ দলীয় জোটপ্রার্থী মাওলানা শামসুল ইসলামের পক্ষে আমরা ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।

এই আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন বর্তমান এমপি প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তিনি তৃণমূল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে কখনো জড়িত ছিলেননা। তার বিরুদ্ধে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মমিনুল ইসলামের মেয়ের জামাই ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। এক সময়ে গোলাম আজমের শীর্ষ হিসেবে পরিচিত আবু রেজা নদভীকে নিয়ে আওয়ামী লীগে রয়েছে কোন্দল।

২০১৪ সালে জামায়াত-বিএনপি নির্বাচন অংশগ্রহণ না করায় এই আসনে শক্ত কোন প্রার্থী না থাকায় বিজয়ী প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন