চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন আর নেই

0
.

ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন।

শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল নিশ্চিত করেছেন।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে ১৮ নভেম্বর আমজাদ হোসেনকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

বরেণ্য এই নির্মাতার শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উন্নত চিকিৎসার খরচ হিসেবে এই নির্মাতার পরিবারকে ২০ লাখ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ ২২ লাখ টাকা দেন।

২৭ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ খ্যাত পরিচালককে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে ব্যাংককে রয়েছেন আমজাদ হোসেনের দুই ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও সোহেল আরমান।

আমজাদ হোসেন একাধারে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গল্পকার, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ‘ভাত দে’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’র মতো কালজয়ী অনেক সিনেমা নির্মাণ করেছেন।

‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

দেশবরেণ্য এই চলচ্চিত্রকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের সদস্যরা আমজাদ হোসেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই