বানান পরিবর্তনের ৮ মাস
সরকারী বেসরকারী সংস্থাতে এখনও রয়ে গেছে “চিটাগাং”

0
.

কামরুল হাসান জনিঃ

চট্টগ্রাম রুটে ফের যাতায়াতের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম এয়ারলাইন্স সংস্থা ফ্লাই দুবাই। যেকোনো তথ্য যাচাইয়ের জন্যে মানুষ এখন দ্রুতই স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইট দেখে নিশ্চিত হতে পারে যাবতীয় তথ্য। তেমনি ফ্লাই দুবাইয়ের যাবতীয় তথ্য যাচাই করতে তাদের ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে দেখা মিলে অপরিবর্তিত থাকা চট্টগ্রাম নামের বানান। অথচ বাংলা নামের সঙ্গে মিল রেখে ইতিমধ্যেই দেশের পাঁচ জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা হয় গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে। তার মধ্যে চট্টগ্রাম ছিল অন্যতম। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) সভার অনুমোদনের পর Chittagong এর পরিবর্তে ‘Chattagram’ লেখার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আদৌ সেই সিদ্ধান্তের কার্যত ফলাফল আসেনি।

বিদেশি সংস্থা ফ্লাই দুবাই তাদের ওয়েব সাইটে চট্টগ্রাম বানান পরিবর্তন না করার ব্যাপারটি অনেকে আমলে না নিলেও অবাক হবার মত তথ্য হচ্ছে, এখনো পূর্বের বানানের উপর ভর করে চলছে চট্টগ্রাম সহ দেশের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ওয়েব সাইট। দেশের পতাকাবাহী সংস্থা বাংলাদেশ বিমানের ওয়েবসাইট (www.biman-airlines.com) ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট (www.jb.com.bd) ঘুরে দেখা গেল ‘Chittagong’ বানান। বাংলাদেশ বিমান তাদের টিকেট বুকিং এর জন্যে অনলাইনে দেয়া তথ্যে এখনো ব্যবহার করছে পূর্বের বানান। জনতা ব্যাংকও তাদের বিভাগীয় দপ্তরের তথ্যে বহাল রেখেছে সেটি। এমনকি চট্টগ্রামের সবচে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়েব সাইট ( www.ccc.org.bd) এ ভাসছে অপরিবর্তিত চট্টগ্রাম বানান।

এছাড়াও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (www.cmc.edu.bd) তাদের ওয়েব সাইট এর কাভারে রেখেছে পূর্বের বানান। এই পথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ( cu.ac.bd/ctguni) -এ ঝুলে আছে ইংরেজি অক্ষরে ‘চিটাগং’। ব্যতিক্রম নয় চুয়েট । চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (www.cuet.ac.bd) তাদের ওয়েবসাইট এ ধারণ করছে অপরিবর্তিত বানান। সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ওয়েব সাইট এ (mohsincollege.edu.bd) অধ্যক্ষের বাণীতে সংযুক্ত রয়েছে ইংরেজি অক্ষরে ‘চিটাগং’।

শুধু চট্টগ্রামই নয়, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সহ অসংখ্য ওয়েব সাইট এখনো ধারণ করে আছে চট্টগ্রামের পূর্বের বানান। সরকারি সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, বগুড়া ও যশোর জেলার বানানের যে পরিবর্তন আনা হয়, তা আট মাসেও প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটে পরিবর্তন করেনি এসব প্রতিষ্ঠান। তবে কি ওইসব জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা এসব প্রতিষ্ঠান সহ সাধারণ মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করেনি ? প্রশ্নটি প্রশ্নই থেকে গেল।

লেখক:- কামরুল হাসান জনি
যুগ্ম সম্পাদক,
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ইউএই।

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন