দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই সোহেলকে পিটিয়ে মারে ব্যবসায়ীরা

0
.

চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী বাজার এলাকার ত্রাস মহিউদ্দিন সোহেলকে দীর্ঘদিনের পঞ্জীভূত ক্ষোভের কারনেই পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। নিহত সোহেল চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়। পরবর্তী ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে পাহাড়তরী বাজার এলাকায় গড়ে তোলে শক্তিশালী সন্ত্রাসী বাহিনী। নিহত সোহেল এর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়েছে রাস্তার ক্ষদ্র ব্যবসায়ী থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা। তার নির্যাতন ও চাঁদাবাজীর শিকার হয়েছে পাহাড়তলী বাজার সংলগ্ন রেলওয়ে কলোনীর অধিকাংশ বাসিন্দা। তার কুনজর থেকে বাদ যায়নি এলাকার যুবতী- তরুনীরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত সোহেল তার বাহিনী নিয়ে পাহাড়তলী বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো। কোন ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করতো এবং জামায়াত-বিএনপি সাজিয়ে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার বা মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিতো। তার অত্যচার ও চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট হয়ে আজ সোমবার সকালে বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ব্যবসায়ীরা।

স্ত্রী ও সন্তানের সাথে সোহেল।

সমাবেশে সোহেল তার দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে গুরেতর আহত করে। এসময় বাজারের মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গতে তোলে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে । লুকিয়ে যায় সোহেল। সোহেলকে লুকায়িত অবস্থায় খুঁজে পেয়ে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত সোহেল দক্ষিণ খুলশী এলাকার আবদুল বারিকের ছেলে। সোহেলের সহযোগী রাসেলও জনতার পিটুনিতে আহত হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাহাড়তলী বাজারের এক ব্যবসায়ী পাঠক ডট নিউজকে বলেন, সোহেলের অত্যচার এতো বেশি বেড়ে গিয়েছিলো যে এখানে কোন ব্যবসায়ীই নিরাপদ ছিলোনা। সোহেল বড় বড় আড়ৎ থেকে শুরু করে ছোট ছোট টং দোকন থেকেও চাঁদা নিতো। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন চালাতো। রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখাতো।

নুর ছোবহান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সোহেল ছিলো মাদকাসক্ত।  সারারাত মাদক সেবন করে সোহেল সকালে ঘুমাতো। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আজ সকালে ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করে। কিন্তু সোহেল বিষয়টি আগে থেকে জানতে পেরে রাতে মদ খেয়ে বাজারেই থেকে যায়। সকালে ব্যবসায়ীদের সমাবেশে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে তার দল। এসময় ব্যবসায়ীরাও পাল্টা প্রতিরোধ শুরু করে।

.

পাহাড়তলী রেলওয়ে কলোনীর বাসিন্দা কাজী মাহবুব জানান, রেলওয়ে সরকারি কোয়টারে কেউ নতুন আসলে তার কাছ থেকে সোহেল ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করতো। চাঁদা দিতে কেউ অস্বীকার করলে তার কোয়াটারের দরজা-জানালা ভাংচুর করতো। তার অত্যচার থেকে বাঁচাতে চেয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহেল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। নিজেকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী বলে পরিচয় দিতেন তিনি।  মেয়রের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা তার ছবিও পোস্ট করেছে ফেসবুকে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সোহেল ও তার অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজারে আসা মালবাহী প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে আসছিল। রোববার সোহেল ঘোষণা দেয়, সোমবার থেকে গাড়ি প্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার সকালে পাহাড়তলী স্টেশন রোড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেয়।

.

নাম প্রকাশ না করে আরেক ব্যবসায়ী জানান, সোহেলের মৃত্যুতে ব্যবসায়ী এতো খুশি হয়েছে যে আজ যদি দোকান খোলা থাকতো তা অনেকে মিষ্টি বিতরণ করতো

পাহাড়তলী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সওদাগর  পাঠক ডট নিউজকে বলেন, আমি সোহেল নিহতের খবর শুনে ১১টার দিকে বাজার যাই। জানতে পারি এলাকাবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে ঝামেলা হয়েছে। একপর্যায়ে সোহেল নিহত হয়। সোহেলে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাযীদের কাছ থেকে গোপনে চাঁদা দিতো বলে অনেকের অভিযোগ রয়েছে।

*পাহাড়তলীতে ব্যবসায়ীদের গণপিটুনীতে চাঁদাবাজ আ’লীগ নেতা নিহত

 

কোন মন্তব্য নেই

একটি মন্তব্য দিন