এক ভয়ঙ্কর ডাক্তার তিনি…!

1
ব্রেকিং নিউজ
  •                 
.

সিজারিয়ান অপারেশন শেষে প্রসূতি মায়ের পেটের ভীতর রক্ত পরিষ্কার করার কাপড় রেখেই সেলাই করে দেন এক ডাক্তার। এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে প্রায় এক মাস পর অন্য একটি ক্লিনিকে আরেকবার পেট কেটে বের করতে হয় সেই কাপড়ের টুকরো।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিতের এক ডাক্তার এ কান্ড ঘটান।

ভুক্তভোগী রোগীর নাম চামেলী খাতুন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের ভাটাডাঙ্গা গ্রামের মোশারেফ হোসেনের স্ত্রী।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ শহরে প্রাইম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক মাছুদুল হক চামেলীর পেট থেকে এই কাপড়ের টুকরো বের করেন।

মোশারফ হোসেন জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর কালীগঞ্জ শহরের ফাতেমা ক্লিনিকে তার স্ত্রীর সন্তান প্রসব হয়। আব্দুল্লাহ কাফি নামে একজন চিকিৎসক পেট কেটে সন্তান বের করেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর তার স্ত্রীর পেটের ভেতর নানা জটিলতা দেখা দেয়।

এরপর চামেলীকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর ক্লিনিকে নানা অজুহাতে ৭৫ হাজার বিল তোলার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। গত ৮ জানুয়ারি ফাতেমা হাসপাতাল থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা রোগীর অবস্থা ভালো নয় বলে জানান। এরপর ঝিনাইদহ প্রাইম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয় তাকে।

সেখানে চিকিৎসক অপারেশন করে রোগীর পেট থেকে রক্ত পরিষ্কার করা কাপড়ের টুকরা (মফ) বের করেন। সেই সাথে প্রায় দুই কজির মত দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ রক্ত বের করা হয়।

এই অপারেশনে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক মাছুদুল হক বলেন, ‘ফাতেমা ক্লিনিকে যে ডাক্তার অপারেশন করেছিলেন তিনি এই মফ রেখে সেলাই করে দেন।’

তবে ফাতেমা ক্লিনিকের মালিক একরামুল হক তাদের প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘ক্লিনিক থেকে সুস্থ রোগী বাড়ি গেছে। বাড়িতে রোগীর ঠিকমত চিকিৎসা না হওয়ায় তার ইনফেকশন হতে পারে।’

যার হাত ধরে চামেলীর সন্তানের জন্ম হয়েছে, সেই চিকিৎসক আব্দুল্লাহ কাফীর দাবি, তিনি সিরাজিয়ান অপারেশন করেননি। ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি কালীগঞ্জে অনেক দিন অপারেশন করিনি। অনেক সময় ক্লিনিক মালিকরা ডাক্তারের নাম ভাঙ্গিয়ে এ ধরনের অপকর্ম করে থাকে। আমি তিনি ঢাকাতে অবস্থান করছি।’

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন রাশেদা সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রথম মন্তব্য