বিয়ের দাবীতে প্রেমিক পুলিশের বাড়ীতে ৫দিন ধরে কলেজ ছাত্রীর অনশন

0
.

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিয়ের দাবিতে পুলিশ কনস্টেবল প্রেমিকের বাড়িতে পাঁচ দিন ধরে অনশন করছেন এক কলেজছাত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার জাফলংয়ের নয়াগাঙেরপাড় গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে পুলিশ সদস্য সোলেমানের সাথে স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। কিন্তু তাদের দু’জনের এ সম্পর্কের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের অন্য আরেক মেয়ের সাথে সোলেমানের বাবা-মা তার বিয়ে ঠিক করেন।

গত ৯ জানুয়ারি গায়ে হলুদের দিন রাতে সোলেমান তাদের বাড়িতে ওই ছাত্রীকে আসার জন্য বার বার ফোন দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে সোলেমানের প্ররোচনায় পড়ে ওই ছাত্রী সোলেমানের বাড়িতে হাজির হয় এবং বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সোলেমানের বাড়িতে অবস্থান নেন। এ সময় সোলেমানের বাবা-মা ওই ছাত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই রাতেই সোলেমানের বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজন মিলে বিয়ে ঠিক করে রাখা তাদের পছন্দের পাত্রীকে নিয়ে সোলেমানকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেন। সোলেমানও বাবা-মায়ের চাপের মুখে ওই মেয়েকে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে আত্মগোপনে চলে যান।

ওই ছাত্রী দাবি করেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে সোলেমানের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছে। সেই সুবাদে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সোলেমান তার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও স্থাপন করে।’

ওই ছাত্রী বলেন, ‘এখন সে আমাকে তার বাড়িতে আসতে বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সোলেমান বাড়িতে ফিরে এসে আমাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা না দেবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমি এই বাড়িতে অবস্থান করবো। এর ব্যতিক্রম কোনো কিছু ঘটলে আমি এই বাড়িতেই আত্মহত্যা করবো।’

এ ব্যাপারে সোলেমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহালম মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানার পর ওই বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনরত মেয়েটির সাথে কথা বলেছি। মেয়েটিকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে তার সিদ্ধান্তে অটুট রয়েছে।’

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কোন মন্তব্য নেই