চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা অত্যাধুনিক ১৫ রেল কোচ

0
.

ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানী করা অত্যাধুনিক ১৫টি ব্রডগেজ রেলওয়ের যাত্রীবাহী কোচ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। বৃহস্পতিবার থেকে এসব কোচগুলো বন্দরে খালাস হচ্ছে বলে বন্দর সুত্রে জানাগেছে।

অধিক যাত্রী পরিবহনে ট্রেনের কোচের চাহিদা মেটাতে সর্বাধুনিক ও বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন মোট ৫০টি অত্যাধুনিক ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।প্রথমবামতো এসবরের কোচে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের জন্য নতুন ডিজাইনের বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন কোচ থাকছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা এসব কোচে পৃথিবীর সকল উন্নত দেশের ট্রেনের ন্যায় নানা সুবিধা থাকবে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

রেল সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে খালাসের পর চট্টগ্রামের সিজিপিওয়াইতে এনে কোচগুলো মিটার গেজ বগির উপর বসিয়ে স্লো স্পিডে (১০ থেকে ১৫ কি.মি. বেগে) টঙ্গীতে নেয়া হবে। তবে এ কোচের বিভিন্ন কাজ শেষে করতে সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে নেয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক ও রেলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (উন্নয়ন) হারুন-অর-রশীদ জানান, ২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন ধাপের মধ্যে প্রথম চালানে এসেছে ১৫টি, ২য় চালানে আসবে ১৮টি, ৩য় চালানে ১৭টি ব্রডগেজ কোচ চলতি বছরের মার্চ মাসের মধ্যেই আসবে। প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী বান্ধব এ রেল কোচগুলোতে থাকছে প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট সংরক্ষিত আসন। এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধীরা হুইল চেয়ারে করে সহজে প্রবেশের পাশাপাশি ওঠানামাও করতে পারবেন বলে জানান।

হারুন-অর-রশীদ আরও বলেন, মোট ৫০টি ব্রডগেজের মধ্যে বর্তমানে ১৫টি আধুনিক ব্রডগেজ কোচ রেলের বহরে যুক্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কোচগুলোও মার্চের মধ্যে চলে আসবে। ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজের মধ্যে থাকবে প্রথম শ্রেণির এসি স্লীপার কোচ ৪টি, এসি চেয়ার কোচ ৮টি, শোভন চেয়ার কোচ ২৫টি, খাবার গাড়ি (গার্ডব্রেকসহ) ৮টি, পাওয়ার কার (নামাজ ঘরসহ) ৫টি। প্রতিটি কোচে ৮০ থেকে ৯২টি আসন রয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কেনা এসব কোচের প্রথম শ্রেণি বার্থ (কেবিন) বগির ভেতরে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দোতলায় উঠার জন্য উন্নত মানের সিঁড়ি ও পানি-কাপ পিরিচ রাখার ব্যবস্থা থাকবে। কোচে রাতে জ্বালানো থাকবে উন্নত প্রযুক্তির এলইডি লাইট। এছাড়া গভীর রাতে প্রতিটি বগিতে বিশেষ প্রযুক্তির তিনটি করে ডিম লাইটও জ্বালানো হবে।

রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. মিজানুর রহমান বলেন, কোচগুলো রেলে নতুন মাত্রা যোগের পাশাপাশি কোচ সংকট কমে যাবে। রেলের পরিবহন বিভাগ ৫০টি ব্রডগেজ কোচের রেক সাজাতে ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আগের কোচগুলোর সাথে সমন্বয় করে পূর্বাঞ্চল রেলের বেশকিছু আন্তঃনগর ট্রেনে নতুন কোচ সংযোজনের পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, যাত্রীচাহিদার তুলনায় চলমান কোচের সংকট নিরসনে ও রেলকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দ্রুত গতিসম্পন্ন ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মোট ২৫০টি কোচ আমদানি করা হচ্ছে। রেল মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেষ হবে। প্রকল্পে ২০০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কেনা হবে

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ ও ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ’ নামক প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৭৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেষ হবে। প্রকল্পে ২০০টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কেনা হবে। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য মোট দুটি অটোমেশিন ট্রেন ওয়াশিং ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হবে। যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। জানা গেছে, ২০০টি মিটারগেজ কোচ কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫শ’ ৮০ কোটি টাকা ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কেনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২শ’ ১৩ কোটি টাকা।

নতুন এসব কোচে বিশেষ সুবিধা সম্পন্ন বায়ো টয়লেট বা ভ্যাকুয়াম টয়লেট স্থাপন করা হবে। যা বাংলাদেশের কোন ট্রেনে এই প্রথমবারের মতো সংযোজন করা হচ্ছে। এসব টয়লেটে চওড়া দরজা তৈরি করা হবে। টয়লেটে সহজে হুইল চেয়ার নিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে। পুরনো মাইল্ডশিল্ড বডি বাদ দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির দীর্ঘস্থায়ী স্টেইনলেস স্টিলের বডি থাকবে। বর্তমান ব্রেক পদ্ধতির পরিবর্তে সম্পূর্ণ অটোমেটিক এয়ার ব্রেক সিস্টেম থাকবে। এর ফলে যে কোন ট্রেন যে কোন প্রয়োজনে অতি দ্রুত থামানো সম্ভব হবে। এমনকি অতি দ্রুততার সঙ্গে ট্রেন ছাড়াও সম্ভব হবে ফলে সময়ও অনেক সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি সহজেই ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে। কোচগুলোতে বর্তমান প্রযুক্তির বক্স সিস্টেমের এয়ারকন্ডিশনার বাদ দিয়ে উন্নতমানের ইয়ারকন্ডিশন রূপ মাউন্টেড এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থা থাকবে। প্রথম শ্রেণী বার্থ (কেবিন) বগিতে ভেতরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, দোতলায় উঠার জন্য উন্নত মানের সিঁড়ি তৈরি ও পানি ও কাপ পিরিচ রাখার ব্যবস্থা রাখা হবে। কোচে রাতে যাত্রীদের ঘুমানোর সুবিধার্র্থে বর্তমানে সমস্ত বগিতে লাইট জ্বালানো থাকে। যা স্বাস্থ্যকর নয় তাই এর পরিবর্তে এলইডি লাইট দেয়া হবে। এছাড়া গভীর রাতে প্রতিটি বগিতে মাত্র তিনটি বিশেষ প্রযুক্তির তিনটি ডিম লাইট জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই