আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব পৃথিবীর জন্য অশনি সংকেত

0
ব্রেকিং নিউজ
  •                                                                                                                                    
.

এম এম শহিদঃ

বিশ্ববাসীকে আবহাওয়া সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে ১৯৫০ সালের দিকে গঠন করা হয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর কান্ডজ্ঞানহীন কর্মধারা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ উপেক্ষা আর অবজ্ঞা করে অর্থশালী-অর্থলোভী দেশগুলো তাদের ব্যবসায়িক লাভের উপলক্ষে পৃথিবীতে আবহাওয়া-দুর্যোগকাল পথে ঠেলে দিয়েছে। পৃথিবীর উষ্ণতা বিশেষত মেরু অঞ্চলে বাড়ছে ক্রমাগত হিমশৈলের গলন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে আগামী তিরিশ বছরের মধ্যে ইউরোপে আসবে সাহারা মরুভূমির আবহাওয়া, মালদ্বীপসহ বহু নিম্ন উচ্চতার ভূমি সাগরগর্ভে হয়তো বিলীন হয়ে যাবে। বিশ্ব আবহাওয়া পরিবর্তনের বিপদ মোকাবিলার জন্য বিশ্বের ধনী দেশগুলোর জি-৮ সম্মেলনে এবং তাদের সাথে উঠতি বিশ্ব অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে যুক্ত করে জি-২০ সম্মেলনে মার্কিন উদ্যোগেই নবপর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণকল্পে কার্যকর পন্থা অবলম্বনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে মার্কিন-চীন কৌশলগত সম্মেলনেও বিশ্ব আবহাওয়া পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনা করা হয়। অন্যদিকে জাতিসংঘ কিয়োটো প্রটোকল মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় নতুন প্রেটোকল জারির জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের গতির মোড় ফেরাতে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই ১৯৯০ সালের কার্বন নিঃসরণমাত্রার শতকরা ২৫ থেকে ৪০ ভাগ বাৎসরিক নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তরের ক্ষয়রোধ করে পৃথিবীকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে আর মাত্র দশ বছর সময় আছে। চীনা কর্মকর্তারাও বলছে, কিয়োটা প্রটোকলের পর বিশ্ব জলবায়ুর অবনতি রোধে নয়া প্রটোকল প্রণয়নে ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অবশ্যই ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। আবহাওয়া ও পরিবেশবিদদের অভিমত, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল সমুদ্রের গর্ভে তলিয়ে যাবার আশংকা রয়েছে। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে অসময়ে অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি হঠাৎ বন্যা আর হিমালয়ের বরফগলা ঢলের চক্রজনিত বাস্তুচ্যুতি ও জীবনাশের হুমকি বেড়ে চলেছে। বর্তমানে তার সাথে যুক্ত হয়েছে, আরো একটা বড় আশংকা, মেঘনা অববাহিকার উজানে বরাক নদীতে ভারতের একটা বিশাল জলাধার ও বাঁধ নির্মাণের ঝুঁকি। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এমন বাঁধ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। সম্প্রতি কানাডায় পদার্থ ও পরিবেশবিদ্যায় অধ্যাপনা ও গবেষণারত ড. মনিরুল কাদের মির্জা টিপাইমুখ বাঁধ কর্তৃপক্ষ প্রকাশিত সমীক্ষা ও তথ্যাবলি বিশ্লেষণ করে বলেছেন, ওই বাঁধের নকশায় যে স্পিলওয়ে বা নির্গম প্রণালী রাখা হয়েছে, তাতে যেকোনো সময় অতিবৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত পানির তোড়ে কিংবা ভূমিকম্পের ফলে জলাধারে পানির প্রবল চাপে বাঁধ ধসে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সিলেটসহ ভারতের মনিপুর-আসামে বরাকের ভাটি অঞ্চল ১০ ফুট পানিতে তলিয়ে যাবে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেল-আইপিসির সদস্য ও বাংলাদেশের অর্থনীতি সমিতির সভাপতি কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানব বিপর্যয় প্রতিবেশী অঞ্চলে নিরাপত্তার বিভ্রাট ঘটাতে পারে, পেন্টাগন প্রেপারে এমন ইঙ্গিত সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘হিমালয়ের সবচেয়ে নিচের অংশ এবং বঙ্গোপসাগরের কাছে হওয়ায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত দুর্বল। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে ভবিষ্যতে বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছবাস, অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। বহুলোক ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে বের হয়। জমি ও সম্পদ নিয়ে বিবাদ বাড়বে। এ পরিস্থিতি অবশ্যই মানব নিরাপত্তার জন্য কল্যাণকর নয়। তাই এখন থেকে জরুরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। মানব বসবাসের উপযোগী একটি সুন্দর পৃথিবীই হোক আমাদের প্রত্যাশ্যা।

কোন মন্তব্য নেই