নায়ক জয়ের কারণে শিশুবীর নাইমের ৫ হাজার ডলার পুরস্কার হাতছাড়া! (ভিডিও)

0
ব্রেকিং নিউজ
  • *উদ্বোধন হল বেনাপোল-ঢাকা ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস

                    *উদ্বোধন হল বেনাপোল-ঢাকা ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস

                    *উদ্বোধন হল বেনাপোল-ঢাকা ট্রেন বেনাপোল এক্সপ্রেস

.

বনানীর অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের ফুট পাইপ চেপে ধরে শিশু নাইমের ভাইরাল হওয়া ছবির পর তাকে ৪লাখ টাকা সাহায্য দেয়ার ঘোষণার দিয়েছিলেন। কিন্তু টিভি নাটকের নায়ক ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় এর শিখিয়ে দেয়া বেগম খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে এক সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রকাশের পর সে সাহায্যদাতা নাঈমকে এখন সাহায্য দিতে অস্বিকার করছেন।

তবে অন্য এক ভিডিও স্বাক্ষতে শিশু নাইম বলেছে বেগম জিয়ার নাম বলতে উপস্থাপক জয় তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন সে নিজের থেকে বলেনি।

এনিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।  অনেকে উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় এ সমালোচনা এবং তাকে গালাগাল ও হুমকি ধমকিও দেয়া হচ্ছে বলে জয় অভিযোগ করেছেন।

এসব নিয়ে ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো-

.

অভিনেতা জয়ের কারনে পাইপবয় নাঈম আর পাচ্ছে না পুরষ্কারের ৫ হাজার ডলারঃ

অপরাজনীতির শিকার হয়ে বনানীঅগ্নিকান্ডের হিরো ‘পাইপ বয়’ নাঈম ৫ হাজার ডলার পুরস্কার আর পাচ্ছে না । আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশী ওমর ফারুক সামি বনানী অগ্নিকান্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের ফুটো পাইপ চেপে ধরে রাখায় সেই নাঈমের লেখাপড়ার সমস্ত দায়িত্ব ও নগদ ৫ হাজার ডলার পুরষ্কার ঘোষণা করেছিলেন । এরপর শাহরিয়ার নাজিম জয়ের উপস্থাপনায় একটি শো টিভিতে প্রচারের পরই পাল্টে গেল দৃশ্যপট । সেই প্রবাসী এখন জানিয়ে দিয়েছেন, নাঈম আওয়ামিলীগের অপরাজনৈতিক শিকার।।

বনানীর ২৩ তলা টাওয়ারে আগুন লাগার পর পাশের কড়াইল বস্তির ছেলে নাঈমের তাৎক্ষনিকভাবে সেই ফুটা পাইপ চেপে ধরার কাজকে পুরো দেশবাসী উৎসাহিত করেছিল। চারিদিকে যখন মানবিকতার অধঃপতন চলছে, তখন নাঈমের কাজটি ছোট্ট হলেও তা দেশবাসীকে খুশি করেছিল। এসব জেনে আমেরিকা প্রবাসী মহানুভব এক ব্যক্তি নাঈমকে ৫ হাজার ডলার অনুদান এবং লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

.

কিন্তু এক দিনের মধ্যেই শিশু নাঈম পড়ে যায় আওয়ামী অপ-রাজনীতির খপ্পরে। ছেলেটাকে নিয়ে তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের সেক্রেটারী উপস্থিত হয় শাহরিয়ার নাজিম জয় নামক এক বাটপারের টিভি প্রোগ্রামে। নাজিম জয়ের এই টিভি প্রোগ্রামে ইতিপূর্বেও অনেক সন্মানিত মানুষদেরকে অপদস্ত করা হয়েছে ।

কোন মাত্রার সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক চাটুকারিতা ধারন করলে এই দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে এমন ইতরামী ওরা করতে পারে ! যখন ২৫ টা প্রান ঝরে গেছে, হাসপাতালে আর জনা ত্রিশেক প্রাণ অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করছে। ঢাকার আরো কয়েক যায়গা থেকে আগুনের সংবাদ আসছে। আর এই সময় জয় নামক এক তথাকথিত আগে কয়েকটা নাটক করতো যেই ভাত শেষ সে এখন সংবাদকর্মী। এই জয় রাজউকের একটা প্লট পাওয়ার ধান্ধায় এক বাচ্চা ছেলেকে দিয়েও রাজনীতি করবার সুযোগ হাতছাড়া করছে না । একটা দুর্যোগের ঘটনার ববর্ণনায় বাচ্চাটিকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো টাকা পেলে সে কি করবে ? সে জবাব দিলো, “টাকা সে এতিমখানায় দেবে । কারন খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছে।” কি এক চমৎকার শিখিয়ে দেয়া অভিনয় । হয়তো আরো কিছু দেয়ার লোভ দেখিয়ে বাচ্চাটিকে যা’ বলতে বলেছে সে আগ পাছ না ভেবেই তা’ বলে দিয়েছে ।

 

অথচ যেখানে অগ্নিকান্ডের সময় ২৩ তলা থেকে মানুষ উড়ে এসে মাটিতে আছড়ে পড়ে পড়ে তাদের মগজ বেরিয়ে যাচ্ছে সেটি নিয়ে তার পরের কোন প্রতিবেদন নেই। আমাদের হাতে একটি আবেদন আসে। ছবিতে দেয়া হল। সেখানে দেখা যাচ্ছে শাহরিয়ার নাজিম জয় প্রধানমন্ত্রীকে “মা” সম্ভোধন করে, তাঁর ছেলের নাম জয়, ওর নিজের নামও জয় । সুতরাং তাকে যেনো পূর্বাচলে একটি প্লট দেয়া হয়।  অভিনেতা জয়ের এই আবেদনে আবার কয়েকজন মন্ত্রী সুপারিশও করেছেন । এমন রাজনৈতিক ইতরামিতে চাউর হওয়ার পর সামজিক মাধ্যমে নিন্দার প্রবল ঝড় ওঠে। শিশুটিকে দিয়ে এই অপকর্ম করানোর অপচেষ্টা ভীষণভাবে নিন্দিত হয়। ইতিমধ্যেই শাহরিয়ার নাজিম জয়ের প্লট বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টাও ফাঁস হয়ে যায় ।

অথচ শাহরিয়ার জয় খুব ভালো সেই মামলার আদ্যোপান্ত ভাল করেই জানে । যে মামলায় এতিমের টাকা মেরে দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেই মামলার রায়ে কোথাও কিন্তু এতিমের টাকা মারার কথা নেই। এমনকি দন্ডবিধির কোন ধারা মোতাবেক বেগম জিয়ার শাস্তি হয়নি। আদালত রায়ে লিখেছে তিনি ( বেগম খালেদা জিয়া ) বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। কিন্তু কার বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে, কিভাবে বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে তার কোন বিষদ ব্যাখ্যাও নেই ।

এরপরেই সেই মার্কিন প্রবাসী ওমর ফারুক সামি ঘোষণা দিয়েছেন, “এই ছেলে তো রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। আমার কষ্টার্জিত টাকায় নোংরা রাজনীতি কেনো ? আমি বলেছিলাম, পড়াশুনার জন্য টাকা দিব। রাজনৈতিক নোংরামি করতে হলে নিজের টাকায় করুক। এতিমখানায়ই যদি টাকা দিতে হয় তা’হলে তো আমি নিজেই তা’ দিতে পারি।”

অভিনেতার বেশধারী শাহরিয়ার নাজিম জয়ের ঘৃণ্য চামচামির কারণে একটি মহৎ উদ্যোগের এভাবেই অপমৃত্য ঘটলো । রাজনৈতিক নোংরামির মধ্য দিয়ে শিশু নাঈমেকেও ফাঁসিয়ে দিলো ফটকা শাহরিয়ার জয় ।

কোন মন্তব্য নেই