চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফলতিঃ সাড়ে তিনশ মাস্টার্স শিক্ষার্থীর পরীক্ষা অনিশ্চিত

0
.

চট্টগ্রাম কলেজ কর্তপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতার কারণে মাস্টার্স (প্রাইভেট) প্রথম পর্বের সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীর ফাইনাল পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিয়ম অনুসারে শিক্ষার্থীরা ভর্তি প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করলেও রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় এখন ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না এসব শিক্ষার্থীরা। তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডও দেয়া হয়নি।

সার্ভার ত্রুটির কারণে রেজিস্ট্রশন না হওয়ায় এ পরীক্ষার্থীরা ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন আর রশিদ  বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ যদি আবেদন না করে, তাহলে আমারা কেন রেজিস্ট্রেশন দিব। তাছাড়া সারা দেশের কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি। তাহলে শুধু কি চট্টগ্রাম কলেজেই সার্ভারের সমস্যা দেখা দিয়েছিল? যদি কলেজ কর্তৃপক্ষের কোন গাফেলতি থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে, ভর্তি হওয়ার দীর্ঘ আট মাস পর কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা বক্তব্য শিক্ষাজীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সামিল বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স (প্রাইভেট) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ১ম পর্বের ব্যাচের ভর্তি হতে শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে এক’শ টাকা দিয়ে আবেদন করেন। নিয়ম অনুসারে আবেদনর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের আবেদনকৃত ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজসহ নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বলা হয়। শিক্ষার্থীরাও কলেজের রসিদ সংগ্রহ করে ফি বাবদ ১ হাজার ১৫০ টাকা সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে সে ভর্তি নিশ্চিতও করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু গত ২৪ ফেব্রুয়ারিতে কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন কার্ড সংগ্রহ করতে গেলে সাড়ে তিন’শ শিক্ষার্থীর কার্ড হয়নি বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। এতে শিক্ষার্থীরা কলেজ অধ্যক্ষ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোন প্রকার সহযোগিতা না করেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

মহিউদ্দিন হাজারী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা না পেয়ে আমরা সাত জনের একটি টিম পরদিন গাজীপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। সেখানে রেজিস্ট্রারে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন সহযোগিতা করতে পারবেন না বলে আমাদের জানান। রেজিস্ট্রার আমাদের বলেন, তোমাদের ভর্তি নিশ্চিত হয়নি এবং আাগামী বছর ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আমাদের বিদায় দেন। এরপর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি রেজিস্ট্রারকে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চান। তখনও রেজিস্ট্রার সার্ভার ত্রুটি থাকার বিষয়ে জানিয়ে আমাদের কোন প্রকার সমাধান না দিয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যদিও রেজিস্ট্রার আমাদের বলেছিলেন এ বিষয়ে কলেজকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়নি।

শুধু মহিউদ্দিন নয় ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী মো. শহীদুল ইসলামের মুখে ছিল একই সুর। শহীদুল  বলেন, উনাদের কাছে কোন প্রতিকার না পেয়ে আমরা এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানের কাছে লিখিত আবেদন নিয়ে যাই এবং উনাকে বিষয়টি খুলে বলি। তিনি বিষয়টি জানার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আরেকটি আবেদনপত্র লিখে এক কপি ই-মেইলের মাধ্যমে এবং আরেকটি কপি আমাদের কে দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু সে কাগজ নিয়ে আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সেই চিঠি পৌঁছানো হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত আমাদের এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

শুধু কলেজ কর্তৃপক্ষ বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেই নয় এমন ঘটনার বিষয়ে আমরা শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে জানিয়েছি উল্লেখ করে মহিউদ্দিন ও শহীদুল বলেন, ‘চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আসলে, সেখানে আমরা এসব বিষয়ে উনাকে অবহিত করি। তিনিও আমাদের অস্বিত্ব করেছেন তা খতিয়ে দেখবে। কিন্তু আগামী কয়েক দিন পর ফরম ফিলাপ শুরু হবে। কিন্তু যদি এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে আমাদের শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে যাবে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসনাত বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি এখানে দায়িত্ব নিয়েছি অক্টোবর মাসে। আমি আসার আগেই হয়তো বিষয়টি ঘটেছিল। আমার আগে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনিই বিষয়টি সম্পের্কে ভাল জানবেন।’ কলেজ কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পূর্ণ করেছে কি না জানতে চাইলে, তাৎক্ষনিক অধ্যক্ষ অফিস সহকারী যীমি বড়ুয়াকে ডাকেন এবং এ বিষয়ে জানতে চান।

এসময় যীমি বড়ুয়া জানান, আমাদের পক্ষ থেকে সকল কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ছিল বলেই তাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। যদি না হয়ে থাকে তাহলে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিয়েছিলো কি না জানতে চাইলেন তিনি বলেন, নেয়া হয়নি, তবে মুখে বলা হয়েছিলো। তাছাড়া নির্দিষ্ট নাম্বার না থাকায় এমন ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নির্দিষ্ট নাম্বারে যদি সমস্যা থাকে, তাহলে ভর্তি নিশ্চিত কিভাবে হল তা জানতে চাইলে যীমি বলেন, তা আমরা বলতে পারবো না, এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই ভাল জানেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষের কোন ত্রুটি ছিল কিনা জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ত্রুটি ছিল কিনা তা জানিনা, তবে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো এবং এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও কথা বলবো।’

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন আর রশিদ বলেন, ‘আমাদের কাছে যারা আবেদন করেছে,সকল কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম গাফেলতি ছিল। তাই তারা এমন বক্তব্য দিচ্ছে। এ শীঘ্রই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব এবং কলেজে কারও গাফেলতি থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কোন মন্তব্য নেই