দেড় লাখ টাকা পরিশোধের পরও সার্জিস্কোপ হাসপাতালে নারীর লাশ আটকে রাখার অভিযোগ

0
,

দাবিকৃত বিলের পুরো টাকা দিতে না পারায় পুতুল শীল (৪৫) নামের এক নারীর লাশ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে নগরীর কাতালগঞ্জে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতাল সাজিস্কোপ এর বিরুদ্ধে।  দেড় লাশ টাকা পরিশোধের পরও ৫০ হাজার টাকার জন্য লাশটি আটকে রাখে বলে অভিযোগ করেছেন পুতুল শীলের স্বজনরা।

লাশে নেওয়ার জন্য ওই হাসপাতালের সামনে অপেক্ষায় থাকা নিহতের নিকট আত্মীয় শিবু শীল জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যায় তার আত্মীয় পুতুল শীল। তবে হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার রাত ১২টার দিকে জানায় পুতুল শীল মারাগেছে। এরমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২ লাখ টাকা একটি বিল ধরিয়ে দিয়ে তাগাদা দেয় পরিশোধের জন্য।

শিবু শীল বলেন, এর আগে হাসপাতালে একাউন্সে এক লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এক লাখ জমা দেওয়া হলেও একাউন্স থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকার মানি রিসিপ্ট দেওয়া হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে পাশ্ববর্তি এক ব্যক্তিকে ভিটেমাটি বন্ধক দিয়ে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা এনে হাসপাতালে দেওয়া হয়। সে টাকা হাসপাতালের ক্যাশিয়ার হাত নিয়েই ছুঁড়ে ফেলে দেন। দাবিকৃত পুরো দুই লাখ টাকা দিতে না পারলে লাশ দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। এরপর থেকে হাসপাতালের এডমিন ম্যানেজারসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারনা দেওয়া হয়। এতে কারো মন গলেনি।

নিহতের স্বামী মধাব শীল বলেন, গত ২২ মার্চ শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে জেলার পটিয়ার শুভনদন্ডি থেকে অসুস্থ পুতুল শীলকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পুতুল শীলকে আইসিইউতে নিয়ে যান। সে থেকেই তাকে হাসপাতালের আইসিউইতে রাখা হয়। রোগিকে আইসিইউ থেকে কেবিনে দেওয়ার জন্য বলা হলেও দিচ্ছি দেবো বলে সময় পার করেন হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার ও ফ্লোর ইনচার্জ।  তবে এর মধ্যে বেশ কয়েকবার এক ওষুধের স্থলে আরেক ওষুধ খাইয়ে রোগির অবস্থা আরও খারাপ করে দেন। এই বিষয়ে ডিউটি ডাক্তারকে বারবার বলার পরও কোনো কর্ণপাত করেননি।

মধাব শীল অভিযোগ করে বলেন, অবশেষে ভূল ওষুধ সেবন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় আমার স্ত্রী।  মারা যাওয়ার পর লাশ নিতেও দিচ্ছেনা তাদের দাবিকৃত পুরোটাকা পরিশোধের জন্য।

.

এদিকে লাশ আটকে রাখার খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও সাংবাদিক  দুপুর একটা ৪৫ মিনিটে ওই সার্জিস্কোপ হাসপাতালে যান। হাসপাতালে ঢুকতেই নিজেকে ফ্লোর ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন মো. আবদুর রহিম নামক এক যুবক।

তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রথমে বলেন এখানে কথা বলে লাভ নেই। টাকা জমা দিয়েই লাশ নিয়ে যেতে পারবে। লাশ আটকে রাখা হয়নি।  সে সময়ও দেখা যায় হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারের পাশে একটি এ্যাম্বুলেন্সে ওই নারীর লাশ রয়েছে। ছাত্রলীগ কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে হাসপাতালের এডমিন ম্যানেজার নিজামুল হক নিজামীর সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।  পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এডমিন ম্যানেজার নিজামুল হক নিজামী বলেন, যা দিয়েছে হয়েছে আর লাগবে না। লাশ নিয়ে যেতে পারেন। পরে দুপুর দুইটা সাত মিনিটের সময় পুতুল শীলের মৃত্যু সনদ ও চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র বুজিয়ে দেন হাসপাতালের ফ্লোর ইনচার্জ মো. আবদুর রহিম।

এ বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলেও সামনে আসেননি সার্জিস্কোপের দুপুরের এডমিন ম্যানেজার নিজামুল হক নিজামী। হাসপাতালের রিসিপশন থেকে তার মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না। দুপুরে যখন শুনলাম ২০-৫০জন লোক এসে টাকা না দিয়েই লাশ নিয়ে যেতে চাচ্ছে, তখনই শুনি। তবে এখনও পুরো ঘটনা কি আমি বলতে পারবো না।

হাসপাতালের সিএফও সঞ্জয়ের সাথে কথা বলেন ইউনিই আপনাকে বিস্তারিত জানাতে পারবেন। পরে হাসপাতালে সিএফও সঞ্জয়ের মোবাইলে বারবার কল দিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে নগরের পাঁচলাইশ থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আফরোজা বলেন, আমরা খবর পেয়ে থানার একটি টিম পাঠিয়েছিলাম। তবে পুলিশ গিয়ে জানতে পারে পুলিশ যাওয়ার কিছুটা আগেই বিষয়টি মিমাংসা হয়েগেছে। স্বজনরা লাশ বুঝে নিয়ে গেছেন।

কোন মন্তব্য নেই